মা তার বিছানায় শুতে পারে না
ছেলে যে তার মাটিতে ঘুমিয়ে আছে
একজন মা অনায়াসে হাসতে হাসতে
এতো সহজে কেঁদে ফেলে যে বোকা
বনে যাওয়া ছাড়া আর গতি থাকে না
একজন মা কারো ছেলের বউ দেখলে
আমার ছেলেরও এমন বউ থাকতো ভেবে
নীরবে পালিয়ে এসে বালিশে মুখ লুকায়
একজন মা অসুস্থ্য শরীর নিয়ে ডাক্তারের
কাছে যায় না বেশী দিন বেঁচে থাকার ভয়ে
একজন মা তার ভাই আর তার পরিবারের
নিরাপত্তার ভয়ে একমাত্র ছেলের
অকাল মৃত্যুর প্রতিবাদ করতে দেয় না
একজন মা বাবার বাড়ি যেতে চায় না
তার ছেলের নাম বলে ডাক শোনার ভয়ে
একজন মা টেলিফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ
বন্ধ করে দেয় শরীরের সমস্ত রক্ত চলাচল
ঠাণ্ডা এক অদ্ভুত স্বরে কতো সহজে বলে
'সময় যে আর কাটে নারে---আর তো পারি না---'
১৬ই এপ্রিল ১৯৯২ থেকে ১৬ই এপ্রিল ২০১৪
আজও গা কাঁপে
আজও বোনটির মুখের দিকে তাকাতে পারি না
একজন পাগলের গল্প
স্বাধীনতার ঠিক আগে তার জন্ম
এক দেবশিশু বেড়ে উঠে এক দুর্দান্ত বালক হয়ে
প্রকৃতির সাথে অদ্ভুত ভালবাসা তার
গরু ছাগল আর কবুতর – এ নিয়েই যেন জীবন।
বাবার ইচ্ছে ছেলে মস্তবড় সাহেব হবে,
ছেলে তার প্রেম বিলিয়ে দেয় প্রাণীদের মাঝে
নিয়তি হাসে, দ্বন্দ্ব বাড়ে আর বাড়তেই থাকে,
সে ঘর ছাড়া হয়, কথা বলে তার পালা পশু পক্ষীদের সাথে
এমনি করে একদিন মানুষকেও ভালবাসে ফেলে
যারা ক্ষমতার আর আপন লোভে হিংস্র হয়ে ওঠে-
স্বার্থের জন্য তারা এক সময় ওর বুকে পিস্তল ধরে
অবিশ্বাস্য মনে হয় – এ হতে পারে না কিন্তু গর্জে উঠে বন্দুক –
এক আত্মবিশ্বাসে বেঁচে থাকার আকুল আকুতি
নিষ্ঠুর নিয়তি, লাভ হয় না –
আদরে পালা কবুতরগুলো ছটফট্ করে –
না খেয়ে পাশে পড়ে মরে যায়-
এ কেমন ভালোবাসা আর মায়ার বন্ধন?
হারিয়ে যায় এক পাগল প্রেমিক চিরতরে।
এ কোন দেশ, বাবার এ কেমন প্রত্যাশা।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



