somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কালকের জন্য রাখাটাই কাল

২৯ শে মে, ২০১৪ রাত ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এডিটেড লেখা

অনেক বিষয়ের মধ্যে যে বিষয়টি আমাকে বেশি পীড়া দেয় সেটা পুরুষদের কান্না। বিষয়টি কেন আমাকে কষ্ট দেয় তার কারণ হিসাবে নিজের বাবার প্রতি অঘাত ভালোবাসাকেই ধরে নেই। ব্রিটেনে কর্মক্ষেত্রে অনেক পুরুষ মানুষকে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখেছি যাঁদের প্রত্যেকেই বিদেশে থাকার জন্য এখানের মেয়েকে বিয়ে করে সংসার ভাঙা বা অশান্তির শিকার। বিদেশে না থাকার বিষয় নিয়ে দু’জন মানুষের দু’টি ঘটনা আমার মনে দাগ কেটেছে। একজন ভদ্রলোক বিয়ে করে এসেছিলো ইংল্যান্ডে। নতুন সংসারে সমস্যা শুরু হতেই মেয়েটি বলেছিলো আরো দু’বছর এদেশে থেকে স্থায়ী ভিসা হওয়ার পরে ডিভোর্স তাকে দিতে। বিদেশে থাকার জন্য থাকবে না বলে সেই ভদ্রলোক দেশে ফিরে গিয়েছিলো। অপরজন ছিলেন একজন মা। আমেরিকাতে ভিসা পেয়ে ভাইয়ের বাসায় ছিলো তিনি কিছুদিন পরে বাংলাদেশে ফেরার পথে আমাকে বলে গেলো ‘ছেলেমেয়েদের বড়ো করে দিয়েছি, এখন আমেরিকা তাদের আনতে পারবো একথা চিন্তা করে এই বয়সে আমি ন্যাপি চেঞ্জ করতে পারবো না’(মা-বাবারা একটা সময় আমেরিকা বসবাসের পরে ছেলেমেয়েদের সেখানে নিতে পারে। আমেরিকায় ভাইয়ের বাসায় থাকা অথবা চিলড্রেনস হোমে কাজ করা কোনোটাই তাঁর পছন্দ ছিলো না)।আমি এঁদের স্যালুট জানাই। এ ধরণের বিয়ে করে অনেক পরিস্থিতিতে অনেক মানুষকে নানা ভাবে ভুগতে দেখেছি এবং দেখি। আমি ভাবি এভাবে বিদেশে থাকা এটা কি কোনো জীবন হলো?
আজ যে কথা বলতে বসেছি।
যে কারণেই হোক বিদেশে থেকে যাওয়ার জন্য বিদেশী বা বিদেশে জন্ম নেয়া দেশী মেয়েকে বিয়ে করলে অ্যাডজাস্ট করতে অনেক ধরণের সমস্যা হয় এর মধ্যে দৈনন্দিন জীবনযাপনে খাবারদাবারের অমিলও একটা। আজকের কথা ডাঃ সিনহাকে নিয়ে। দাদার স্ত্রী ছিলেন ইংরেজ। কেন একথা বলছি এ লেখার শেষে বুঝা যাবে।
সিংহা দা(ডাঃ সিনহা)আমার জি পি সার্জারিতে মাঝে মাঝে কাজ করতেন(ইংল্যান্ডে এধরণের কাজকে বলে লোকাম ডাক্তার)। তিনি মাকে অনেকবার দেখেছেন কারণ তাঁর কাছে গেলে মা বাংলায় নিজের সমস্যার কথা নিজে বলতে পারতেন। বৌদি ইংরেজ ছিলেন বলে দাদা হয়তো দেশি মাছ খেতে পারতেন না। দাদা একদিন আমাকে বললেন পাবদা মাছ খেতে ইচ্ছে করছে। তিনি কোলকাতার হলেও স্বভাবে বোঝা যেত গায়ে বাংলাদেশি রক্ত আছে(বেশি ইমোশনাল)। যাহোক আমি দাদাকে মাছ খাওয়াবো বলে পাবদা কিনলাম এ কাজে সে কাজে দাদার আর আমাদের বাসায় আসা হয় না বা আমাদেরও সময় হয় না দাদাকে ডাকার। একদিন তিনি মুখ ফুটে বললেন তাঁর বউ ইংরেজ বলে মাছ খেতে পারেন না। দাদাকে মাছ খাওয়ানো দরকার সময় হচ্ছে না এর মধ্যেই আমাদের আবাসিক ডাক্তার চাকুরী নিয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে গেলো। প্রায় দেড় বছর আমি অস্ট্রেলিয়া, ইউ কে আর বাংলাদেশের ফ্লাইট পাহারা দেয়ার কাজে আকাশ পথেই কাটালাম(আমি ঘন ঘন যাওয়া আসার মধ্যে থাকতাম দাদাকে আর ডাকা হতো না)। তবুও মাঝখানে দাদাকে বললাম মাছ খাওয়ার জন্য বাসায় আসতে। তিনি একদিন বললেন তাঁর ভাইয়ের বৌ মারা গেছে সাত পরে আরেকবার বললাম তিনি বললেন তাঁর ভাই মারা গেছে বাসায় আসতে পারবেন না। অস্ট্রেলিয়ার পাঠ চুকিয়ে ব্রিটেনে ফিরেছি ২০১৩ র মে মাসে। এই এক বছরে দাদাকে মাছ খাওয়াতে হবে একথা ভুলি নাই ডাকছি ডাকবো করে আর ডাকা হয় নাই। প্রায়ই বলি সিনহা দাকে বাসায় ডাকতে হবে আর না হলে রান্না করা মাছ তাঁর বাসায় দিয়ে আসতে হবে।
আজ একটু আগে শুনলাম, ‘একটা খারাপ খবর আছে...’ঘুরে তাকাতেই শুনলাম সিনহা দা আর নাই।
মনটা প্রচন্ড অস্থির।
৩০শে মে, ২০১৪
গতকাল সংবাদটি পেয়ে এতই অস্থির হয়েছিলাম। কি লিখেছি আর পড়ে দেখি নাই।
শিক্ষাঃ এলোমেলো মনে লেখা এলোমেলোই হয়। ইন বিটুইন লাইন না পড়তে পারলে বুঝা সহজ নয়। সর্বজনের জন্য সহজবোধ্য লেখার জন্য মন শান্ত থাকা আবশ্যক। কিছু লাইন বা শব্দ অ্যাড করে লেখাটির কি পরিবর্তন হলো কমপেয়ার করার জন্য আগের লেখা রেখে দেয়া হলো।
বিঃদ্রঃ
শিরোনামঃ কাল করবো বলে কোনো কাজ রাখতে নাই মা এ কথা সব সময় বলেন। তাঁর কথা না শুনে বাকি জীবন পাবদা মাছ দেখে কষ্ট পেতে হবে।
বিদেশে থাকার জন্য বিয়ে করাঃ ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় যতজনকে দেখলাম একজনও বললো না দাম্পত্য জীবনে সুখে আছে। এই আমি এধরণের বিবাহ বিরোধী। বিষয়টি আলাদা লেখা যেত কিন্তু সিনহা দা আমাকে এতো স্নেহ করতেন তাঁর তিরোধানের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ মনে হয়েছিলো দাদা যদি নিজের দেশের মেয়ে বিয়ে করতেন তাহলে আমার কাছে তিনি মাছ খেতে চাইতেন না আর আজ আমি এতো কষ্টও পেতাম না।

প্রথম লেখা

অনেক বিষয়ের মধ্যে যে বিষয়টি আমাকে বেশি পীড়া দেয় সেটা পুরুষদের কান্না। ব্রিটেনে কর্মক্ষেত্রে অনেক পুরুষ মানুষকে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখেছি যাঁদের প্রত্যেকেই বিদেশে থাকার জন্য এখানের মেয়েকে বিয়ে করে সংসার ভাঙা বা অশান্তির শিকার। দু’জন মানুষের ঘটনা মনে দাগ কেটেছে। একজন ভদ্রলোক বিয়ে করে এসেছিলো এদেশে। সংসারে সমস্যা শুরু হতেই মেয়েটি বলেছিলো আরো দু’বছর থেকে ভিসা হওয়ার পরে ডিভোর্স দিতে। বিদেশে থাকার জন্য থাকবে না বলে সে দেশে ফিরে গিয়েছিলো।
অপরজন একজন মা। আমেরিকাতে ভিসা পেয়ে ভাইয়ের বাসায় ছিলো বাংলাদেশে ফেরার পথে বলে গেলো ‘ছেলেমেয়েদের বড়ো করে দিয়েছি, এখন আমেরিকা আনতে পারবো একথা চিন্তা করে এই বয়সে আমি ন্যাপি চেঞ্জ করতে পারবো না’(ভাইয়ের বাসায় থাকা অথবা চিলড্রেনস হোমে কাজ করা কোনোটাই তাঁর পছন্দ নয়)। আমি এঁদের স্যালুট জানাই। এ ধরণের পরিস্থিতিতে বহু মানুষকে নানা ভাবে ভুগতে দেখেছি এবং দেখি।
আমি ভাবি এটা কোনো জীবন হলো?
যে কথা বলতে বসেছি সিংহা দা (ডাঃ সিনহা) আমার জি পি সার্জারিতে মাঝে কাজ করতেন (লোকাম)। মাকে অনেকবার দেখেছেন কারণ তাঁর কাছে গেলে মা বাংলায় নিজের কথা নিজে বলতে পারতেন। বৌদি ছিলো ইংরেজ। দাদা একদিন আমাকে বললেন পাবদা মাছ খেতে ইচ্ছে করছে। তিনি কোলকাতার হলেও স্বভাবে বোঝা যেত গায়ে বাংলাদেশি রক্ত আছে (বেশি ইমোশনাল)। যাহোক আমি পাবদা কিনলাম এ কাজে সে কাজে দাদার আর আসা হয় না বা দাদাকে ডাকা হয় না। একদিন বললো তাঁর বউ মাছ খেতে পারে না।
এর মধ্যেই আবাসিক ডাক্তার চাকুরী নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গেলো। প্রায় দেড় বছর আমি অস্ট্রেলিয়া, ইউ কে আর বাংলাদেশের ফ্লাইট পাহারা দেয়ার কাজে আকাশ পথেই কাটালাম। মাঝখানে দাদাকে বললাম বাসায় আসতে একবার বললো তাঁর ভাইয়ের বৌ আরেকবার বললো তাঁর ভাই মারা গেছে আসতে পারবেন না। অস্ট্রেলিয়ার পাঠ চুকিয়ে ব্রিটেনে ফিরেছি ২০১৩ র মে মাসে। প্রায়ই বলি দাদাকে ডাকতে না হলে রান্না করা মাছ দিয়ে আসতে।
একটু আগে শুনলাম, ‘একটা খারাপ খবর আছে...’ ঘুরে তাকাতেই শুনলাম সিনহা দা নাই। মনটা প্রচন্ড অস্থির।
২৯শে মে, ২০১৪
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৪ রাত ১১:৪৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×