সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:৩০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে কিছু কথা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্র হওয়ায় এবং হলে থাকায় ছাত্র রাজনীতি কে দেখেছি একদম কাছ থেকে। এ লেখাটি কোনো মূল্যায়ন বা কারো পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে নয়, শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা বিনিময় মাত্র। অনেকের কাছে এ লেখা চর্বিত চর্বণ মনে হতে পারে। আমার লেখার প্রেক্ষাপট শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র রাজনীতি। অর্থাৎ তা অন্য কোনো জায়গার সাথে মিলতেও পারে আবার নাও পারে। প্রথমেই আমাকে কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির কারন কি? আমি বলবো, সিট সংকট। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রই তৃতীয় বর্ষের আগে বৈধভাবে সিট পান না। কিন্তু ঢাকার বাইরের বেশিরভাগ ছাত্রই প্রথম বর্ষ থেকে হলে থাকেন। এটা কি সম্ভব? হ্যা, খুব ভালোভাবে সম্ভব। প্রথমেই আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে হলের ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার সাথে। ব্যস হয়ে গেল। তিনি আপনাকে একটি সিটে "তুলে" দেবেন। হল কর্তৃপক্ষের বাবার ও সাধ্য নেই আপনাকে ওই সিট থেকে হটায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনাকে তো বিনিময়ে কিছু দিতে হবে তাই না? সেগুলো কি? সেগুলো হচ্ছে- হলের সিনিয়র কোনো নেতাকে দেখলেই সালাম এবং হ্যান্ডশেক, রাজনৈতিক "প্রোগ্রাম" এ যাওয়া (মধুর কেন্টিন এ যাওয়া এবং মিছিলে অংশগ্রহন), নিয়মিত সন্ধাবেলায় নেতাদের আড্ডায় হাজিরা দেওয়া। এভাবেই কোনো এক সময় হয়ত আপনি "নন পলিটিক্যাল" সিট পেয়ে যেতে পারেন, অথবা থাকতে হবে এদের সাথেই। আপনার কার্যক্রম বা আপনি কতটুকু "এক্টিভ" তার উপর ভিত্তি করে আপনার প্রমোশন হতে পারে। ধাপগুলো হচ্ছে- ফ্লোরিং থেকে বেড এ, নিচতলার গণরুম থেকে ভালো কোনো রুমে, ডাবলিং থেকে সিঙ্গেল সিট! এমনকি ভালো এক্টিভ থাকলে শিক্ষাজীবনের শেষ দিকে গোটা একটা রুম ও পেয়ে যেতে পারেন! এখন মনে হতে পারে, এক্টিভ না থাকলেই তো হয়! হ্যা হয়, আপনি যদি বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্র হন আপনি এক্টিভ হওয়ার সময় কমই পাবেন, তবে এর মানে এই না যে বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্ররা পিছিয়ে আছে। গর্বের বিষয় হচ্ছে, তারাও অন্যদের সাথে তাল মিলিয়ে রাজনীতি করছে! আমার প্রথম দিকে জিজ্ঞাসা ছিলো যারা "এক্টিভ" পলিটিক্স করে, তারা কোন যুক্তিতে করে। আমি যখন প্রথম দিকে উঠেছি, তখন ইতিহাসে পড়া এক বড়ভাই বুঝালেন, সপ্তাহে ক্লাস হয় মাত্র তিন কি চারটা। এত সময় একটা কিছু তো করতে হবে নাকি? তাই পলিটিক্স করি। আসলেই, ছাত্রজীবনে সময় খুব মূল্যবান বিষয়। অবহেলায় তা নষ্ট করা উচিত নয়। এখানে যেমন কিছু অভিজ্ঞতা আছে খারাপ, আবার ভালোও আছে! যেমন ধরুন, প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নেতারা ডোজ দিয়ে প্রথমে সোজা করেন এবং পরে লাইনে আনেন। এই ডোজের পরিচিত নাম হচ্ছে "ফাপড়"। কারনে অকারনে "ফাপড়" দিয়ে ছাত্রদের সোজা রাখা নেতাদের একটি অতি প্রিয় কাজ। আর ভালো দিকটা হচ্ছে, অনেকে ফাপড় দেওয়ার লোভেও রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সব কিছুরই একটা উদ্দেশ্য থাকে। আমার খুব আগ্রহ ছিলো কিসের জন্য এই রাজনীতি। খোজ খবর নিয়ে দেখলাম রাজনৈতিক দলগুলো প্রত্যেক হলে একটি করে কমিটি গঠন করে, যার জন্য এই রাজনীতি। এই কমিটিতে নামের লোভে একটি হলে গজিয়ে উঠে অনেক গ্রুপ। এমন একটি হল আছে যেখানে গ্রুপ আছে ছয়টি। সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পোস্ট হচ্ছে সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদক। ছয়টি গ্রুপ হওয়ার এই হলে এখনো মারামারির ভয়ে কমিটি দেয়া হয়নি। আমার মনে এই প্রশ্নও এসেছিলো কমিটিতে নাম থেকে লাভ কি? উত্তর পেয়েছিলাম, হলের সব কাজে পার্সেন্টেজ পাওয়া! আমি আমার এক বন্ধুর সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক করেছি, এই পার্সেন্টেজ পাওয়ার রাজনীতি কিভাবে বন্ধ করা যায়? খুব সহজ একটি উপায় আছে, তা হলো, সিট সংকট দূর করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিশ্চয়ই জানেন যে প্রত্যেক বছর কত ছাত্র ভর্তি হচ্ছে, চাইলেই তারা আগে হিসেব নিকেশ করে হল নির্মাণ করে এই সিট সংকট দূর করতে পারেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, শিক্ষকদের কিছু অংশও এই রাজনীতির অংশ। তাই কখনোই এই সিট সংকট দূর হবে বলে আমার মনে হয় না, আর এই রাজনীতিও বন্ধ হবে না। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, এই রাজনৈতিক দলগুলো কি কোনো ভালো কাজ করে না? আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আমরা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের একজন রাজনীতিকের মুক্তির জন্য আমরা কলা ভবনে মানববন্ধন করেছি। কিন্তু আমাদের হলে কোনো ডাস্টবিন নেই, সবাই রুমের সামনের বারান্দা দিয়ে অথবা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে, এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কোনো মাথাব্যাথা দেখিনি!!! অন্তত আমার দৃষ্টিতে এই হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি।
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কবিতাঃ বর্ষা এলো

বর্ষা এলো টিনের চালে
ফুটল কুসুম কদম ডালে
রুম ঝুমা ঝুম দুলকি চালে
বর্ষা এলো বিলে খালে।
বর্ষা এলো আকাশ নীলে
শাপলা শালুক জাগলো ঝিলে
বর্ষা এলো কেয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্বীকৃতি

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর পুরোনো বাড়িটায় সন্ধ্যা নেমেছে ধীরে ধীরে। বারান্দার টবে লাগানো জবা ফুলগুলো হালকা বাতাসে দুলছে। দূরের মসজিদ থেকে মাগরিবের আজান ভেসে আসছে। বসার ঘরে প্রতিদিনের মতো সংবাদপত্রে চোখ গুঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন
অন্তর্দহন: ক্ষুদ্র কাব্যে বৃহৎ জীবন
১°অন্ধ মোহ
সংগ্রহের মোহে অন্ধ যে জন,
উদ্বৃত্তই তার কাল;
মধুর সাগরে ডুবলো তরণী,
নিজেরই বোনা জাল।
২°
নিজের সুধায় ডুবছে ডানা, খাঁচায় মুক্তির ভয়,
প্রাপ্তির চড়া মূল্য চুকিয়ে জীবন হারায় জয়।
পরার্থপরতার মোম গলে যায়, পাথর... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন
তুমি আমি চিরন্তন

মানুষজন আমাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার সঙ্গে নাকি আর যোগাযোগ নেই? আমি শুধু হাসি। কীভাবে বোঝাই, কথা না হলেও কিছু মানুষ প্রতি রাতেই এসে মনের ভেতর চুপচাপ বসে থাকে; ঘুমানোর প্রস্তুতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।