somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিষ্কর্মা !

০৭ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকে শুধু কম্পারিসন। স্কুলে পড়লে কার স্কুল সবচেয়ে ভাল, যদিও স্কুলের নামে সরকারি থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাক সিটকায়। কলেজে উঠে কার কলেজ সবচেয়ে ভাল, এখানেও সরকারি কলেজের নামে একটু নাক সিটকানি থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে কারটা সবচেয়ে ভাল। এখানে আর অবশ্য সরকারি নামে কেউ নাক সিটকায় না। এখানে যারা সরকারিতে পরে তারা এগিয়ে। তাই বলে কি বেসরকারিতে যারা পড়ে তারা একেবারেই ফেলনা ?

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিঃসন্দেহে মেধাবী ছেলেমেয়েগুলো পড়ে। কিন্তু বেসরকারি কি গরু-গাধার খামার ? এখানে কি কেবল পয়সাওয়ালাদের মার্কামারা দুলাল-দুলালিরা পড়ে ?

একটা সময় ছিল যখন ভাগ্যদোষে যেই ছেলেমেয়েগুলো সরকারীতে চান্স পেত না, তারা বেসরকারিতে পড়তে আসত। উদ্দেশ্য খুব মহৎ। সরকারীতে চান্স হয়নি তাই বলে মূর্খ তো থাকতে পারি না, ডিগ্রি দরকার একটা। নিজের পায়ে দাঁড়াতে, কয়টা টাকা উপার্জন করতে। সরকারীতে সুযোগ হয়নি বলে আঙ্গুল চুষলে তো হবে না।

কিন্তু এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যেগুলো একসময় কিছু অন্ধের যষ্টি হয়ে ছিল, আস্তে আস্তে হয়ে গেল টাকা বানানর মেশিন। সরকার যাদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেন না তারা হল এদের খ্যাপ। এদের হাতে পড়ে এই শিক্ষার মান নামতে থাকল। এমন যে নিজেদের তৈরি করা সবচেয়ে ভাল শিক্ষার্থীকেই তারা শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিতে অস্বীকার করত।

তারপর যখন বাজারে এই টাকা বানানর কারখানা অনেক হয়ে গেল, তখন এরা নিজেদের উপযোগিতা প্রমাণ করতে শিক্ষার্থীদের উপর খড়গ চালাল। এর নাম সিজিপিএ খড়গ। দেখাতে লাগল, দেখ, আমাদের এখানে পড়া কঠিন কারণ কেউ সহজে পার পায় না। কাজেই আমাদেরটা ষ্ট্যাণ্ডার্ড।

এইসব সরকারি-বেসরকারি যুদ্ধ আর কম-বেশি সিজিপিএ এর মধ্যে যে কতগুলো ছেলেমেয়ের কষ্ট, পরিশ্রম, অধ্যাবসায় হারিয়ে যায়, কত বাবা-মার তিলেতিলে জমানো টাকা, চোখ ভরা স্বপ্ন ভেসে যায়, কতগুলো কাহিনী যে অসমাপ্ত থেকে যায় আর কত দীর্ঘশ্বাস যে জমে না পাওয়ার পাহাড় হয় তার খবর কে রাখে।

এইসব তথাকথিত নিষ্কর্মা মানুষগুলোর কেন কোন ঈশ্বর থাকে না ?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ২:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×