somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পুরোনো পাপী
"মস্তিষ্ক বিকৃত, কিন্তু বিক্রীত নয়" (never care for what they say......)

প্রিয়তমেষু ... ...

০৩ রা জুলাই, ২০১৪ রাত ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রিয়তমেষু,

বড় নির্লজ্জ মনে হচ্ছে আমাকে? মনে হচ্ছে মাত্র কয়েকদিনের পরিচয়ে কি করে কাউকে প্রিয়তমেষু সম্বোধন করে কেউ? মনে হচ্ছে কি “এইরকম নির্লজ্জ কাউকে আগে চোখে পরে নি তো?”

কিন্তু আমাকে নির্লজ্জ করেছ তুমি সেদিনই, যেদিন প্রথম দেখা দিয়েছিলে। কেড়ে নিয়েছিলে আমার মাঝে থাকা সকল দাম্ভিকতা। কবিদের মতন তোমার চুল কিংবা চোখের প্রসংসা করবো না। সেটা আমার স্বভাবে নেই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি হৃদয়ের কোথাও কোন এক কোনে সুপ্ত থাকা কোন এক অনুভুতিকে জাগিয়েদিয়েছ তুমি। সেই অনুভূতির স্রোত স্রোতস্বিনী নদীর মতই বয়ে চলছে আমার ভেতরে। ক্ষরস্রোতা নদী যেমন স্রোতের টানে ভেঙ্গে চুরে গুড়িয়ে দেয় তার আশে পাশে থাকা স্বল্প মজবুত ডাঙ্গার অংশটুকু তেমনি তুমার চাহনিও ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল আমার অন্তরকে। অনুভূতিহীন মানুষের নির্দিষ্ট একটি অনুভূতি ফিরে পাবার যন্ত্রণা তুমি কতটুকু বুঝবে সেটা আমার জানা নেই, কিন্তু সেই অনুভূতিকে বহন করে চলার মতন শক্ত কাজও বোধকরি আর কিছুই নেই পৃথিবীতে।

নির্ভীক মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার হওয়া কতটা কষ্টের তা তুমি বুঝবে কিনা জানিনা। অনুভূতি মানুষকে দূর্বল করে। অনুভূতির বিসর্জন দিতে দিতে ঠিক এমন এক সময়ে আমার মাঝে অনুভূতির সঞ্চার করেছিলে যখন নিজেকে ঠিকই অনুভূতিহীন ভাবতে শুরু করেছিলাম। জগতের কোন কিছুতেই নিজেকে নাড়া না দেয়ার এক পর্যায়ে পৌছে যেতে যেতেও পারিনি শুধুই তোমার জন্যে। একটা কথা জানতে ইচ্ছে করে, এমনটি না করলেই কি হোত না??

এই হাস্যকর লেখাটি যখন তুমি পড়ছ হয়ত হাসতে হাসতে খুন হয়ে যাবে তুমি। অথবা তোমার কাছের কোন বান্ধবীকে দেখিয়ে লেখার থেকে রস নিংড়ে সেই রসে নিজেদের হাস্যরসের খোরাক জোগাবে। কিন্তু সেই খুন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যে আরো একজন মানুষ সত্যি সত্যি খুন হয়ে যাচ্ছে সেই ধারণাও তোমার থাকবে না। কিংবা লেখার রস নিংড়ানোর সাথে সাথে কারো শরীর হতে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত নিংড়ে নেবে সেই খেয়ালও হয়তো তোমার থাকবে না জানি।

কাপুরুষ বারে বারে মরে। তোমার দেয়া সেই অনুভূতির প্রকাশ করতে না পারায় প্রতি সেকেন্ডে যে আমার একবার করে মৃত্যু হচ্ছে সে খবর হয়তো তোমার কাছে পৌছয় না। কিংবা পৌছয় না সেই খবরও যে আমার আবারো জন্ম হচ্ছে প্রতিটি মৃত্যুর পরও তোমাকে অনুভূতির প্রকাশ করতে পারার আকাঙ্ক্ষায়।

মায়া খুব জঘন্য অনুভূতি গুলোর মাঝে একটি। মায়ার জালে নিজেকে না জড়ানোর যেই দম্ভ আমার মনে বাসা বেধেছিল সেই দম্ভকে ভেঙ্গেচুরে কত শত টুকরো করে ছুড়ে ফেলেছ তা হয়ত তোমার জানা নেই। কিন্তু মেরুদন্ডের ৩৩ টি কশেরুকা কিংবা শরীরের ২০৬ টি হাড়ের মতই প্রতিটি টুকরোর হিসাব আমার কাছে ঠিকই আছে। হয়তো কখনোই তোমার কাছে বলতে যাবনা হাড়গুলোর জোড়া দিতে তুমি এস। অথবা “একটা ফেভিকল কিনে দিচ্ছি তুমি কি আমার সাথে হাত লাগাবে? টুকরো গুলোকে জোড়া দেব।” কিন্তু আমারও যে বলতে ইচ্ছে করে। জানি বলা হবেনা কোন দিনও।

তুমি হয়তো হাসছ এখনো। কিছুটা অবাকও হচ্ছ এই ভেবে, এই যান্ত্রিক যুগে যেখানে মুঠোফোন, ইমেইল সহ আরো অনেক যোগাযোগের মাধ্যম এখন মূখ্য, সেই সময়ে এই রকম হাতে লেখা চিঠি মানুষ কি করে লিখে?? কিন্তু কারো হাতে লেখা চিঠি কতটুকু আবেগ ধারণ করে, কতটুকু অনুভূতিকে অন্যের কাছে পৌছে দেয় তার হিসেব বা পরিমাপ কোনটাই তোমার কাছে নেই।

কবি কিংবা লেখকদের কথা অনুযায়ী, নারী জাতি নাকি অনেক কিছুই বুঝতে পারে। কেউ তাকে কিছু না বললেও বুঝতে পারে। তবে কেন তোমাকে মুখ ফুটে বলতে হবে আমার অনুভূতির কথা? কেনই বা তুমিই বলতে পার না তোমার আকাঙ্ক্ষার কথা? কেন মুখ বুজে অপেক্ষা কর অন্যকারো বলার জন্যে? অনুভূতির যোগান যেমন চাইলেই পাওয়া যায় না তেমনি অনুভূতি কেড়েও নেয়া যায় না। শুধু এটুকুই জেনে রেখ, তোমার উসকানি প্রাপ্ত অনুভূতি রয়ে যাবে হৃদয়ের কোন এক স্থানে তোমারই অপেক্ষায়, শুধুই তোমার অপেক্ষায় ... ...

ইতি
দূর্ভাগা কোন কাপুরুষ

//বেশ কিছু দিন যাবত ঠিক কিছু দিন না, কয়েক মাস যাবত চিন্তা করছিলাম এখনকার ছেলে-মেয়ে দের প্রেম পত্র লেখা শেখাব। এর কারণ এখনকার ঠুনকো সম্পর্ক যার মাঝে কোন অনুভূতি থাকে না। যার শুরু এবং শেষ পুরোটাই দেহ কিংবা আত্ম-কেন্দ্রিক। যার শুরুই হয় অনলাইনে এবং শেষও এই অনলাইনেই। এই ধরণের কিছু চিন্তা থেকেই এই লেখা টা লিখা। এ ছাড়া আর কোন কিছুই নয়। একে সিরিয়াসলি না নেয়ার জন্যে অনুরোধ করছি। আর ইহা অন্যত্র ব্যাবহারের আগে অনুমতি না নিলে কইলাম ভাআ হইবেক না ;) ;) //
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×