somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পুরুষবোধ (পর্ব -3) : একটি মেয়ের হাত ধরা ও সচোক্ষে প্রথম নিরাভরন নারী

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাশ টুর শেষের দিকে পাশের বাড়িতে এলো তৃপ্তি । আমার ক্লাশেই পড়ে, তবে অন্য স্কুলে। তৃপ্তিকে ঘিরে আমার প্রথম বউ ভাবনার জন্ম। একদিন পড়ার ফাকে লেখার খাতায় গোটা গোটা অরে নিজের অজান্তেই লিখে ফেললাম তৃপ্তি আমার বউ। লিখেই লেখাটার উপর পেন্সিলের ঘষায় পৃষ্ঠাটাই গেল ছিড়ে। তৃপ্তিরা ছিল দুই বোন। বড় বোন রাত্রি ছিল দুই ক্লাশ উপরে। দুই বোনই ছিলো আমার খেলার সঙ্গী। খেলায় খেলায় দিন পার হচ্ছিল দ্রুত। একদিন খেলার সময় আমি অজান্তে তৃপ্তির হাত ধরলে সে চিৎকার করে উঠে। আমি ভয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে মাথা নেড়ে চুপ করে যায়।

এসময় আমাদের তিন তালায় আসেন এক অপ্সরার মতো ভাবী। দুধে আলতা রঙে তাকে কি যে ভালো লাগতো। ভদ্রমহিলার নাম এখন আর মনে নেই। কিন্তু এই মহিলাকে ঘিরে আমার মধ্যে প্রথম নারী বিষয়ক ঈর্ষার জন্ম। ভদ্রমহিলার স্বামীর প্রতি এখন আর সেই ঈর্ষা এখন আর নেই। মহিলাটির চেহারা মনে করবার চেষ্টা করলে যে ছবিটি ভেসে ওঠে তার সাথে ববিতার প্রথম দিককার ছবির মিল পাওয়া যায়। এই দম্পতি অল্প দিনের মধ্যেই কোথায় জানি চলে যান।

এ সময় একটি ঘটনা ঘটে। রাত্রি আমাকে প্রথম বড়দের ব্যাপার স্যাপার নিয়ে গল্প বলে। গল্পগুলো আমার মধ্যে কোন উত্তেজনা তৈরী করে নি। আমি কেবল রঙ করা পুতুলের মতো রাত্রির গল্প শুনে যেতাম। রাত্রিই আমার জীবনে প্রথম বাস্তবের নারী রহস্য দর্শন। এক মেঘলা দুপুরে আমি রাত্রিদের বাসায়, ঘরে কেউ নেই আমায় ফেলে কোথায় জানি গেল। আমি বসে আছি ওর অপোয়। হটাৎ শুনি ওর ডাক -আমি এগোতেই থমকে দাড়াই - রাত্রি দাড়িয়ে আছে পূর্ণ নিরাভরন দেহে।
আমার কিন্তু আশ্চর্য্যভাবে সবই স্বাভাবিক লাগছিল। আমি কেবল দাড়িয়ে ওকে দেখি - ও আশ্চর্য্য সাবলীলভাবে আমার সামনে বিনা কাপড়ে ঘুরে বেড়ায়। আমিও স্বাভাবিকভাবে বসে থাকি। একসময় কলিংবেলের শব্দে ওর গায়ে কাপড় ওঠে। আমি তখন ক্লাশ ফোরে রাত্রি সিক্সে। পরের দুই বছরে রাত্রির সেই নিরাভরন দেহের কথা আর পড়া হয় নি। কেবল নর নারীর গোপন অভিসারের গল্পে শ্রোতা হয়ে বসে থাকতে হয়েছিল। রাত্রি হারিয়ে গেল গোটা জীবনের জন্য, কেবল ইন্টার মিডিয়েট পরীার পর ওকে দেখেছিলাম রাস্তায় বান্ধবীদের সাথে দাড়িয়ে থাকতে। আমি না দেখে এড়িয়ে চলে যাবার মুখে খপ করে হাত চেপে ধরলো সে। আমায় না চিনার ভান করে চলে যাচ্ছিস- আমি কাষ্ঠ হাসি মুখে এনে চুপ করে দাড়িয়ে থাকি। সে বকা ঝকা করে আমায় বাসার ঠিকানা ধরিয়ে দিল। কিন্তু সেখানে আমার আর যাওয়া হয় নি। গেলে হয়তো আর একটা গল্পের জন্ম হতো। সে তো অনেক পরের কথা। এর মধ্যে এসেছিল - কচি। ষষ্ঠ শ্রেনীর বালক আমি তখন।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ২:৫১
২৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×