somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পুরুষবোধ (পর্ব -4) : কোকাকোলা, স্কুলের বন্ধুদের নারী বিষয়ক গল্প আর আমার একাকী কল্পনা

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কচির নিষ্পাপ মুখ ভেবে ভেবেই মন খুশি হয়ে উঠতো। একদিন বারান্দায় রেলিং এ ভর দিয়ে বসে আছি- আমাদের দোতালার উপর , নিচ তালায় ও বারান্দায় এসে দাড়ালো, কি দেখে কি জানি আমার দিকে তাকিয়ে ওর কি হাসি- সেই পাতা ভর্তি করে লিখি ওর নাম। এবার আর নিজের অজান্তে নয়। কোন এক ঘোরে ওর নাম লিখে যাই। কিন্তু কচিও হারিয়ে গেল সময়ের সাথে সাথে।একদিন সকালে আমাদের পাড়া ছেড়ে ওরা চলে গেল গুলশান অথবা বনানীর বড়লোক পাড়ায়। এরপর আর কখনও ওকে দেখিনি। সাধারন সৌজন্যসূচক দৈনন্দিন টুকিটাকি দুই একটা কথা বলা ছাড়া আর কোন কথাই হয় নি ওর সাথে। ওদের বাসায় জীবনের প্রথম কোকাকোলা পান করি। এর আগে ফান্টা পর্যন্তই ছিল দৌড়। কোকাকোলা ছিল বড়দের খাবার অনেকটা যেন মদের মতো নিষিদ্ধ কোন কিছু। কোকাকোলা পান করেই আমি যেন বড় হয়ে যাই।
ঠিক ওই সময়ই আমার সাইকেল চালানো শেখা। সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে রাস্তার দুপাশে রঙীন রঙীন সব মেয়েরা সরে সরে যায়। প্রত্যেকটি দিনই কি উত্তেজনাকর মনে হত।
সাইকেল চালানো নিযে মজার একটা ঘটনা ঘটেছিল। তখনও সাইকেলে পা রাখি নি - স্বপ্নে দেখি আমি মনের আনন্দে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি। পাড়ার সবাই অবাক বলছে দেখো ??? সাইকেল চালাতে পারে - যাদের মুখ আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম - তার মধ্যে ছিল বনি - বনিকে আমার কখনওই ভাল লাগে নি। কেমন ছেলে ছেলে লাগতো। মেয়েদের কোমল কোমল চেহারাটার বাইরে বনিই প্রথম মেয়ে যাকে ছেলে ছেলে লাগতো। গাট্টা গোট্টা শরীরের মাংস চামড়াগুলো কেমন শক্ত। এই সাইকেল যুগেই শুরু হয়ে গেছে যৌনতা বিষয়ক গল্প।
নারীদেহের গোপন বর্ণনার মধ্যে আমি কোন উত্তেজনা খুজে পেতাম না। রাত্রির কাছে এর চেয়েও জ্যান্ত বর্ণনা আমার শোনা হয়ে গেছে অনেক আগেই। নারীদেহের খোলা চেহারাটাও আমি চিনি।
ওরা যখন বর্ণনায় মেতে উঠতো তখন রাত্রির খালি গার ছবি মনে পড়তো। কিন্তু তখনও কোন উত্তেজনা টের পেতাম না। আসলে কেন রাত্রির খোলা দেহটা কোন উত্তেজনা তৈরী করে নি সেটা এখন ধরতে পারি তখন সেটা খোজার দরকারও হয় নি। আসলে রাত্রিকে ঠিক মেয়ে হিসেবে ভাবিনি এটা যেমন ঘটেছে তেমনি মেয়েদের নগ্ন ছবি বলতে রাত্রিকেই চিনতাম। এই কারনে নগ্ন মেয়ে মানেই নগ্ন রাত্রি । স্বাভাবিক, এবং সাধারন একটি ছবি। আর একটু পরেই মেয়েদের চিনতে শুরু করলাম আর একটি বৈশিষ্ট্য দিয়ে।

সেটি হলো বুক, আরো খোলাশা করে বললে বুকের উচ্চতা। সমতল বুকের রাত্রিকে তাই আমার কাছে ওমন স্বাভাবিক লাগতো, কবিতা আপাকে সেই কারনে অমন গনগনে মনে হত। আরো আট নয় বছর পরে একদিন রাত্রির সাথে দেখা হয়েছিল। কয়েক বান্ধবীর সাথে রাস্তায় দাড়িয়ে কথা বলছিল। আমি ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেছি মাত্র আর সে ডাক্তারী পড়ে। অনেকজন মেয়ে দেখে আম রাত্রির সাথে দেখা কথা বলে চলে যাচ্ছি, রাত্রি আমার হাতটা খপ করে করে ধরে ফেললো - কিরে তুই আমায় না চিনে চলে যাচ্ছিস। মুখ তুলে দেখি -রাত্রির হাসি।এই হাসিতে মনে হলো দুষ্টুমীর গন্ধ, যেন বান্ধবীদের সাথে বাজি ধ েছে - ঐ যে ছেলেটা আসছে - ওর হাত ধরতে পারি দেখবি। স্কুলের শেষের দিকে মনে হত আচ্ছা রাত্রি এখন কেমন দেখতে হয়েছে। ও কি এখনও আমার সামনে খোলা শরীরে দাড়াবে। কিন্তু ওর সামনে গিয়ে ওর বুকের দিকে তাকানোর কথা মনে হয় নি। কিন্তু ও যখন বলেছিল ওদের বাসায় যেতে আমার কিন্তু ঠিকই মনে হয়েছিল পুরনো কথা। কখনো কখনো যৌন কাতরতার মূহূর্তে ওকে কল্পনা করে দু হাতে কয়েকবার জীবনের নির্যাস বইয়ে দিয়েছি। মনে হয়েছে ...
এগুলো আরো পরের কথা। তখন বন্ধুদের গল্পের নারীরাজ্য আবিস্কারের অভিযানে আমি সামিল হতে পারতাম না। সেইসময় একাকী আমার কল্পনায় নারী কেবলই তার গা থেকে উড়ে আসা একমিষ্টি গন্ধ। খালি মেয়েদের গা থেকেই উড়ে আসতো এই গন্ধ। ছেলেদের গায়ে এই গন্ধ পেতাম না আর সেটা পেলে ভালোও লাগতো না।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ তিনটি পলায়ন দৃশ্যঃ-

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:০৩

আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ তিনটি পলায়ন দৃশ্যঃ-



(১) ৫ আগস্ট ২০২৪, সেনা তত্বাবধানে শেখ হাসিনার চপ্পল পড়ে দৌড়ে হেলিকপ্টার যোগে পলায়ন দৃশ্য
"১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×