ইন্টারন্যাশনাল ইয়ূথ সিম্পোজিয়াম ও জাপান ইনভাইটেশন প্রোগ্রামের হোম হসপিটালিটিতে টয়োটা শহরের এক জাপানী পরিবারে ছিলাম একদিন । রাতে শোয়ার আগে ক্যাসেটে বাজাচ্ছিলাম “ একবার যেতে দে না আমার ছোট্র সোনার গাঁয়… …” ।
১৫ দিনের প্রোগ্রাম হলেও একটুখানি বাংলায় কথা বলার জন্য, শোনার জন্য এতটাই আকুল হয়েছিলাম যে রাত ১০.০০ টা কখন অতিক্রম করেছে বুঝতে পারিনি।
হটাৎ কাঠের সিঁড়িতে থপ্ থপ্ আওয়াজ। দেখি বাড়ীর কর্তী হাতে একটি হেড ফোন নিয়ে হাজির।
অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বার বার উচ্চারন করলেন দিস ইস স্লিপিং তাইম, দিস ইস স্লিপিং তাইম। প্লিস তেক্ ইত্, প্লিস তেক্ ইত্ । স্লিপিং তাইম, দোওন্ত সাউন্দ, দোওন্ত সাউন্দ, প্লিস তেক্ ইত্, স্লিপিং তাইম, প্লিস তেক্ ইত্ (This is sleeping time, don’t sound, please take it) ।
জাপানের ঐ শহরে রাত ১০.০০টার পরে এমন কোন শব্দ করা যাবে না যা অন্যের বা প্রতিবেশীর ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। আমার সমবয়সী ছেলেটাকে বললাম, এখানে স্বাধীন ভাবে একটু গানও শুনতে পারবো না?
আধাভাঙ্গা ইংরাজীতে সে ব্যক্তি স্বাধীনতার যে সজ্ঞা দিল তার অর্থ হচ্ছে, ব্যক্তি স্বাধীনতা মানে হলো অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে যা খুশী তাই করা।
তোমার যদি ল্যাংটা হয়ে নাচতে ইচ্ছে করে তাহলে জোরে জোরে গান বাজাও আর নাচো। কোন অসুবিধা নেই। তবে এটা দেখে যদি কারো খারাপ লাগে তাহলে করতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে ঘরের চার দেয়ালে আয়না লাগিয়ে দরজা বন্ধ করে ল্যাংটা নাচো । সমস্যা নেই।
জানি না পুরো জাপানে এটা এখনো অনুসরন করা হয় কিনা তবে আমাদের দেশে আমরা যে মানি না এটা ঠিক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


