somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উত্তরে যাবো - ২

০৮ ই এপ্রিল, ২০২৩ সকাল ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বগুড়া নামলাম যখন তখনো ভোরের আলো ফোটে নি। রাতে চাদের আলোয় চারদিক এতটা সেজে গুজে ছিলো যে তার রেশ অনেকক্ষণ কাটেনি। চন্দ্রাহত হয়ে বসেছিলাম দুজনেই। পুর্ণিমাতেই মনে হয় ঘর সংসার ছাড়ার ভুত ভর করে সবার। আবার দুর দুরান্তে কোন ঘরবাড়ির আলো জ্বলছে না বিধায় তৃপ্তি নিয়ে চারপাশ দেখার সৌভাগ্য হয়ে ছিলো। এখনতো বৈদ্যুতিক বাতির কল্যাণে জোনাকীদের মিতালিও দেখা যায় না মন ভরে। অনুজ খুবই খুশি। বললাম ক্যামেরা আনি ঠিকই ছবি তুলতে ভুলে যাই। বাদ দে এসব। কার্পে ডিয়েম থিওরি ফলো কর। সিজ দ্য মোমেন্ট। প্রাণভরে গিলতে থাক। ওর মুগ্ধতা আমাকেও স্পর্শ করলো খুব। একা বেরোতে উৎসাহিত করলাম। একা বের হলে প্রকৃতি এবজর্ব করতে সহজ হয়।


অন্ধকারে মহাস্থানে বাস থেকে নেমে প্রথম ভুল। হোটেল ভেবে শুধু ভোর টা কাটানোর জন্য নিম্নমানের বোর্ডিং এ ঢুকে গেছি। তারপরেও অনুজকে কিছুক্ষণ গা এলিয়ে নিতে বলে বই নিয়ে বসলাম। আমার দিনে ঘুম হয় না। রাতে না ঘুমানোয় দুজনেই খুব ক্লান্ত। রিচার্জের দরকার ছিলো। বেচারার জন্য খুব মায়া হলো। কোথায় এসে উঠে গেলাম। যাই হোক। সকাল হতেই তাকে জাগিয়ে নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। ভেতরে তখন উত্তেজনা। কারণ ততক্ষনে শহরটাই আমার ভেতরে ভালোলাগার বীজ বপণ করে ফেলেছে। একটা সিএনজি ভাড়া করলাম। যতটুকু দেখা যায়। জায়গা তো কম নয়।


মানকালীর কুন্ডের গাছটা দেখে তারানাথের তন্ত্র সাধনার জায়গার কথা মনে হলো। আমার আর্কিটেক্ট অনুজ বলল, ভেবে এসেছিলেন নাকি? কিন্তু বইটা কেনার সময় আমি জানিও না এই বন্ধে এমন জায়গা ঘুরতে আসবো। মাঝে মাঝে আমার অনেক কিছু এমন কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়। ছেলেটা মোবাইলে অনেক ভালো ছুবি তোলে। নিয়ে নেয়ার লোভ হলো। একটু ঈর্ষাও। কারণ আমার ছবি তুলতে ইচ্ছে করেনা কোথাও গেলে। স্রেফ বিরক্ত লাগে। এসবে একজন আনাড়ি মানুষ আবার অলসতায় ডুবে আছি। আর ঘুরতে এলে পুরাতন সব কিছু আমার ভেতর ভ্রম তৈরি। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। সাথের মাজারেও ঢুকে পড়লাম। এখানে একজন বসে বসে অনেক সুন্দর বাক্য লিখছেন। একটা গভীর কুয়া দেখতে পেলাম। পরিত্যাক্ত মনে হলো। মাজার আর কুন্ডের পাশেই অনেক বড় খালি জায়গা। বিশাল মেলা হয় বোঝাই যায়। অদ্ভুত ব্যাপার হলো সবজায়গায় 'কটকটি'র দোকান। ব্যাপার টা চেখে দেখতে হবে।


প্রাচীন পুরাকীর্তি গুলো প্রায়ই একই রকম মনে হলো । এতো জায়গা অল্প সময়ে ঘুরার কারণে কোনটা কী ঘুলিয়ে ফেলেছি। প্রত্যেকটি অসাধারণ এবং অদ্বিতীয় সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। আমাকে সাজিয়ে লিখতে গেলে এই গোল্ডফিসের মগজ একদম সাহায্য করবে না। লেখা গুলো কে পরে সংযোজন - বিয়োজন অবশ্যই করতে হবে বুঝতে পেরেছিলাম তখনই। যেহেতু লিখতে জানিনা আর অন্তর্জালে সব সাজিয়ে গুছিয়ে দেয়া আছে বলে নির্ভার ও লাগছে। আমি বরং আমার অনুভুতিতে মনযোগ দেই।


এই প্রাচীরগুলো আমার কাছে হিংসার এবং ভয়ের পরিচায়ক বলে মনে হলো। মানবসম্পদের কি বিপুল অপচয়। একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিতে কেমন ভুগতে হয় তা বোধ করি সবাই জানে। বেড়া ব্যপারটি আমার কখনোই ভালো লাগে নি। গুড ফেঞ্চস মেইক গুড নেইবারস। কথাটা আমায় সবসময় আহত করে। আগে এমন ছিলো না। মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যেতো। বসবাস করতো। কোন বাধা নেই। আর এখন এই প্রকৃতি দেখতে প্রকৃতির সন্তানদের টিকিট লাগে। এই বিশাল প্রাচীরগুলো ভয় আর হিংসার প্রতীক। যেমনটি এখন কাটাতারের বেড়াও। আমার সারাক্ষণ এটাই মনে হয়েছে যে, একজন অধিকর্তার জন্য ঠিক কতজন মানুষ ঠিক কতটুকু পরিশ্রমের আর ত্যাগের বিনিময়ে এমন বিশালতার জন্ম দিয়েছে? এই বিশাল প্রাচুর্য দেখে যতটা অবাক হয়েছি তার চেয়ে ঐ মানুষগুলোর হৃদয়ের বিশালতা অনুভব করতে পেরে খুব আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। তারা তাদের অধিকর্তাদের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্বার বিশালতা দেখিয়েছেন। নাকি ভয়ের একটা কারণ ছিলো? বেচে থাকার তাগিদেও হতে পারে না কী?


দুশো বছর আগে যদি আসতে পারতাম তাহলে এগুলো দেখতে কেমন হতো? এই সিড়ি বেয়ে যখন একজন সাধারণ মানুষ উঠতেন কি ভাবতেন? দুশো বছর আগের ঠিক ১১ টা বেজে ৯ মিনিট সময়ে এই সিড়িতে আমার জায়গায় কে ছিলো? এই ৭ এপ্রিলে ঐ সাধারণ ভা অসাধারণ ব্যাক্তির মনের চিন্তাগুলো কেমন ছিলো? মাঝে মাঝে অবাস্তবকে খুব কাছ থেকে দেখতে ইচ্ছে করে। হয়তো সম্ভব নয় বলে কল্পনায় তা খুব সুন্দর। এই ম্যাট্রিক্সে কি একটি গ্লিচ হতে পারে না? যাতে করে ঐ ব্যাক্তি আর আমি একই সাথে কিছুক্ষণের জন্য হলেও এই সিড়িটা বেয়ে উঠতে পারি? আর একে অপরের দিকে চেয়ে হাসতে পারি?



দুশো বছর আগে এই গাছের নিচে হয়তো অনেক প্রদীপ জ্বলতো। ধ্যান মগ্ন হয়ে পড়ে থাকতেন কোন সাধু। কিংবা কোন ব্যাক্তির অনিষ্ট করার প্রয়াসে হাকিনী যোগিনী ডাকিনীদের ডেকে বেড়াতেন কোন বখে যাওয়া ভয়ংকর দর্শন কোন তান্ত্রিক। উপরে কাক ডাকতো। ভয়ালস্বরে পেচা ডাকতো। নিচে থাকতো মড়ার খুলি কিংবা অর্ধগলা পচে যাওয়া মৃত কোন লাশ। নাহ! আমি ভ্রমনে নেই। ভ্রমেই আছি এখনো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৩ সকাল ৮:১৯
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭



জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই বাড়িটি বয়ে বেড়াচ্ছে কিছু স্মৃতি।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৪:০৫



ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগ্রীহিত।

মনে করুন, সময়টি ১৯৮০ সালের। গ্রামের এক সামর্থ্যবান ব্যক্তি এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাচ্ছিলেন। সময়ের সাথে সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স বা একটা বিস্কুট কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×