somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।
-----------------------------------------------------------
ধর্ম ও রাজনীতি এক জিনিস নয়, এক পথে চলে না, এবং এক লক্ষ্যেও পৌঁছায় না। ধর্মের ভিত্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও আত্মসংযম। রাজনীতির বাস্তবতা দাঁড়িয়ে আছে ক্ষমতা, হিসাব, কৌশল এবং প্রয়োজনীয় মিথ্যার উপর। এই মৌলিক দ্বন্দ্বের কারণেই একজন প্রকৃত ধার্মিক মানুষের পক্ষে রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকা কঠিন। কারণ রাজনীতিতে শুধু মিথ্যা বলা নয় মিথ্যা শুনতে হয়, মিথ্যাকে সমর্থন করতে হয় এবং প্রয়োজনে মিথ্যার উপরই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অথচ ধর্ম এই প্রতিটি বিষয়কে স্পষ্টভাবে হারাম ও অন্যায় বলে ঘোষণা করেছে।
কোরআন বলে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ মিথ্যাবাদীদের পছন্দ করেন না” (সূরা যুমার)। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “মিথ্যা সকল পাপের দরজা খুলে দেয়।” গীতায় বলা হয়েছে, “অধর্মের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ডেকে আনে।” অর্থাৎ সব ধর্মেই সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই। তাহলে যে রাজনীতি মিথ্যাকে কৌশল বলে বৈধতা দেয়, সেই রাজনীতিতে ধর্মের নামে অংশগ্রহণ কীভাবে নৈতিক হতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে তথাকথিত ধর্মীয় রাজনীতিবিদদের আচরণে। তারা ধর্মকে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে আনেনি; বরং রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে। ধর্ম তাদের কাছে ইবাদতের পথ নয় ভোটের অস্ত্র। মসজিদ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় আবেগ সবকিছুই ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি। এই ভণ্ডামির সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ দেখা যায় যখন রাজনীতির বিনিময়ে আখিরাতের বাণিজ্য শুরু হয়।
বাংলাদেশে জামাতী ইসলাম এই ধর্মব্যবসাকে সবচেয়ে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে। তারা প্রকাশ্যে বা ইঙ্গিতে বলে “আমাদের ভোট দিলে বেহেস্ত নিশ্চিত।” এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি সরাসরি আকিদাগত অপরাধ। কোরআন স্পষ্ট ঘোষণা করেছে “বেহেস্ত ও দোযখের মালিক একমাত্র আল্লাহ” (সূরা আলে ইমরান)। আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে” (সূরা লোকমান)। তাহলে কোন সাহসে একটি রাজনৈতিক দল জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়? ব্যালট পেপার কবে থেকে জান্নাতের টিকিট হলো?
হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে মিথ্যা আরোপ করে, তার স্থান জাহান্নাম।” এই আলোকে বিচার করলে যারা ভোটের বিনিময়ে বেহেস্ত বিক্রি করে, তারা শুধু রাজনৈতিক প্রতারক নয় তারা ধর্মীয়ভাবে মারাত্মক গুনাহে লিপ্ত। এটি ইসলাম নয়; এটি ইসলামের নাম ব্যবহার করে মানুষের ইমানকে জিম্মি করার কৌশল। ধর্ম যেখানে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার আত্মিক সম্পর্ক, সেখানে ভোটের শর্ত জুড়ে দেওয়া মানে ধর্মকে বাজারে তোলা।
এই ভণ্ডামির শিকড় আরও গভীরে গেলে দেখা যায় ১৯৭১ সালের ভয়াবহ ইতিহাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই তথাকথিত ধর্মীয় রাজনীতির ধারকরা স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়েছিল। ৩০ লক্ষ মুক্তিকামী মানুষের হত্যাকাণ্ড এবং প্রায় ২ লক্ষ মা–বোনের ধর্ষণের সময় তারা ধর্মের ভাষায় জালিমের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি। বরং নীরবতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধকে শক্তি জুগিয়েছে।
কোরআন সতর্ক করে দিয়েছে, “জালিমদের প্রতি সামান্যও ঝুঁকো না, নতুবা আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে” (সূরা হুদ)। কিন্তু তারা জালিমের দিকেই ঝুঁকেছিল। সুতরাং তারা শুধু রাজনৈতিকভাবে অপরাধী নয় ধর্মীয়ভাবেও বিশ্বাসঘাতক। যারা একবার এই দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছে, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ইতিহাসে নিজেদের দায় অস্বীকার করে, তাদের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো এই ইতিহাস গোপন রেখে তারা আজ ধর্মের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা, অর্থাৎ আখিরাতকে পুঁজি করে ভোট চায়। বেহেস্ত কোনো দলের সম্পত্তি নয়, কোনো নেতার দান নয়, কোনো নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি নয়। বেহেস্ত আল্লাহর রহমত আর সেই রহমতকে ভোটের দামে বিক্রি করা ধর্ম নয়, চরম ধর্মদ্রোহিতা।
ধর্ম ক্ষমতার সিঁড়ি হতে পারে না। আর যুদ্ধাপরাধ ও বেহেস্তের টিকিট একসাথে চলতে পারে না। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে, তারা রাজনীতিকেই কলুষিত করে না ধর্মকেও অপমানিত করে। ইতিহাস, ধর্ম ও নৈতিকতা তিনটিই সাক্ষ্য দেয়: এই ধরনের ধর্মীয় রাজনীতির কোনো বৈধতা নেই, কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, এবং থাকা

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা পেলে শরিয়া আইন চালু না করে দলের নামে ইসলাম রাখা যায় কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫২



সূরাঃ ৪ নিসার ৭৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৫। তোমাদের কি হলো, তোমারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছো না? অথচ নারী-পুরুষের এবং শিশুদের মধ্যে যারা দূর্বল তারা বলে, হে আমাদের রব... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৌশল

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

জামায়াতের আমীরের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে কর্মজীবী নারীর সঙ্গে বেশ্যাবৃত্তির সম্পর্ক টেনে আনা পোস্টটি হ্যাকড হোক বা অ-হ্যাকড—এর রাজনৈতিক প্রভাব মোটেও একমুখী নয়। অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, এতে জামায়াতের ক্ষতিই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩২

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।
-----------------------------------------------------------
ধর্ম ও রাজনীতি এক জিনিস নয়, এক পথে চলে না, এবং এক লক্ষ্যেও পৌঁছায় না। ধর্মের ভিত্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও আত্মসংযম। রাজনীতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

লিমেরিক

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

ধান লাগাতে গিয়ে খোকার একী হল হাল
কাদা জলে হোঁচট খেয়ে চিড়ে গেলো গাল
না পারে আর কইতে
না পারে আর সইতে
টক মিষ্টি যাহাই খাচ্ছে সবই লাগে ঝাল। ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ হবে দেখা নিশ্চয়ই =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫০


জম্পেশ খানা শেষে তোরা করিস চায়ের আয়োজন
আজ একত্রে কাটাবো সময় আমরা প্রিয়জন,
ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে আমরা ক'জন
গল্প আড্ডা আহা সেকি মধুর গুঞ্জরন।

জেনে যাবো কেমন ছিলে, আছো কেমন তোমরা,
কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×