somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৌশল

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামায়াতের আমীরের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে কর্মজীবী নারীর সঙ্গে বেশ্যাবৃত্তির সম্পর্ক টেনে আনা পোস্টটি হ্যাকড হোক বা অ-হ্যাকড—এর রাজনৈতিক প্রভাব মোটেও একমুখী নয়। অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, এতে জামায়াতের ক্ষতিই হবে। বাস্তবতা এত সরল নয়। বরং এই বক্তব্য নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক স্তরে জামায়াতের ভোট বাড়ানোর কাজও করতে পারে।

যেসব নারী সামাজিক, পারিবারিক বা অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কর্মজীবী হতে পারেননি, তাদের একটি বড় অংশের ভেতরে বছরের পর বছর জমে থাকা হতাশা, বঞ্চনা আর না-পাওয়ার কষ্ট আছে। এই ধরনের বক্তব্য সেই কষ্টকে নৈতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করে একধরনের মানসিক স্বস্তি দেয়—“আমি বাইরে কাজ করিনি বলেই আমি ভালো।” এই স্বস্তি রাজনীতিতে অনুবাদ হলে সেটাই ভোট।

অন্যদিকে, কর্মজীবী নারীদের স্বামী ও পরিবারের বড় একটি অংশ শুরু থেকেই নারীর বাইরে কাজ করাকে সন্দেহের চোখে দেখে। এই পোস্ট তাদের অবস্থানকে ধর্মীয় ও নৈতিক মোড়কে বৈধতা দেয়। ফলে তারা নিজের অস্বস্তি বা নিয়ন্ত্রণপরায়ণতাকে আর ব্যক্তিগত দুর্বলতা মনে করে না, বরং ‘সঠিক অবস্থান’ হিসেবে দেখতে শুরু করে।



এর সঙ্গে যুক্ত আছে আরেকটা অস্বস্তিকর সত্য। বাঙালি পুরুষ যতই নিজেকে প্রগতিশীল বলে জাহির করুক, ভেতরে ভেতরে অনেকেই চান নারী ঘরেই থাকুক। এক্সে যারা এই পোস্ট নিয়ে রসে কসে ভাইরাল কনটেন্ট বানাচ্ছেন, তারাও কি সত্যিই চান নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করুক? বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। অফিসে অফিসে নারী সহকর্মীদের নিয়ে গসিপ, তাদের পদোন্নতিকে ‘বিশেষ সুবিধা’ বলা, আর সাফল্য দেখলে গোপন হিংসা—এসব খুবই পরিচিত চিত্র।

গ্রামীণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে গার্মেন্টসকে ঘিরে যে পাপবোধ আগে থেকেই কাজ করে, এই পোস্ট ঠিক সেই জায়গাতেই আঘাত করেছে। তাই এটি কোনো দুর্ঘটনা বা ভুল নয়, বরং হিসাব করে ছোড়া রাজনৈতিক বার্তা—যেখানে লিবারেল ও বামপন্থীদের ক্ষোভ, প্রতিবাদ আর ট্রোলিং-ই শেষ পর্যন্ত জামায়াতের বিনা খরচের প্রচারণা হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতায় বিএনপির জন্য চুপ থাকাটাই হয়তো সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাথার কৌশল।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা পেলে শরিয়া আইন চালু না করে দলের নামে ইসলাম রাখা যায় কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫২



সূরাঃ ৪ নিসার ৭৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৫। তোমাদের কি হলো, তোমারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছো না? অথচ নারী-পুরুষের এবং শিশুদের মধ্যে যারা দূর্বল তারা বলে, হে আমাদের রব... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৌশল

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

জামায়াতের আমীরের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে কর্মজীবী নারীর সঙ্গে বেশ্যাবৃত্তির সম্পর্ক টেনে আনা পোস্টটি হ্যাকড হোক বা অ-হ্যাকড—এর রাজনৈতিক প্রভাব মোটেও একমুখী নয়। অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, এতে জামায়াতের ক্ষতিই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩২

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।
-----------------------------------------------------------
ধর্ম ও রাজনীতি এক জিনিস নয়, এক পথে চলে না, এবং এক লক্ষ্যেও পৌঁছায় না। ধর্মের ভিত্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও আত্মসংযম। রাজনীতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

লিমেরিক

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

ধান লাগাতে গিয়ে খোকার একী হল হাল
কাদা জলে হোঁচট খেয়ে চিড়ে গেলো গাল
না পারে আর কইতে
না পারে আর সইতে
টক মিষ্টি যাহাই খাচ্ছে সবই লাগে ঝাল। ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ হবে দেখা নিশ্চয়ই =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫০


জম্পেশ খানা শেষে তোরা করিস চায়ের আয়োজন
আজ একত্রে কাটাবো সময় আমরা প্রিয়জন,
ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে আমরা ক'জন
গল্প আড্ডা আহা সেকি মধুর গুঞ্জরন।

জেনে যাবো কেমন ছিলে, আছো কেমন তোমরা,
কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×