একটা সময় ছিল, চাইলেই স্বপ্নগুলোকে ছুয়ে যাওয়া যেত। তুলতুলে স্পর্শে হাত বুলিয়ে স্বপ্ন গুলোকে আশ্বাস দেয়া যেত – “বেড়ে উঠো”। পুরাতন স্বপ্ন নেড়ে অথবা নতুন স্বপ্ন বুনে কেটে যেত একাকি সময়। কখনো আমি স্বপ্ন বুনতাম কখনো বা স্বপ্ন আমাকে। বন্ধুর মত পাশাপাশি সারাক্ষন আমি এবং আমার স্বপ্ন।
ইদানিং স্বপ্নের সাথে বাস্তুবতার ব্যাবধান প্রতি মুহুর্তেই বেড়ে চলছে। অপমৃত্যু ঘটেছে কিছু স্বপ্নের, কিছু স্বপ্ন ঝড়ে পড়ার আগে ঝুলে আছে বাদুরের মত। এর বাইরেও অবশ্য কিছু স্বপ্ন ছিল মাথা নত করাতে যাদের ছিলো অনীহা, বাস্তবতার উপলব্ধি দিয়ে আমি নিজেই তাদের গলা টিপে হত্যা করেছি।
“সার্থক জন্ম আমার জন্মেছি এই দেশে” – কবির ভাষার এই লাইন এক সময় বেচে থাকার প্রেরনা যোগাত আর এখন সৃষ্টি করে শুন্যতা। কিছু প্রশ্ন, কিছু অভিমান জন্ম নেয় – কেমন ছিল কবির সেই সময়ের এই দেশ? কেন সেই সময়টা দিনে দিনে মানুষের বর্বরতায় আর আত্মকেন্দ্রিক চিন্তার নিচে আজ চুর্ন বিচুর্ন? রক্ষক রা কেন আজ ভক্ষকের ভুমিকায় অবতির্ন?
যেখানে ফাসির দন্ডের সাথে বিনিময় ঘটে অর্থের অথবা মনুষ্যত্যের, যেখানে মানুষের বিশ্বাস পুজি করে ধারন করা হয় অশ্লীলতা, মানুষ গড়ার কারিগড়দের মাঝে যেখানে লুকিয়ে থাকে পরিমল, সামাজিক বিচার যেখানে ধর্ষক কে বানিয়ে দেয় স্বামী, ক্ষমতার একমাত্র অর্থ যেখানে তার অপব্যাবহার, জনতার নেতা মনোনয়নের মাপকাঠি যেখানে কে বেশি দুর্নিতীবাজ, গর্তে হেলে পড়া গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে যেখানে মন্ত্রি বলেন সব ঠিক আছে, লাখো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যেখানে মন্ত্রির চোখে পাগল, “বদলে যাও – বদলে দাও” ধারনার জনক রা যেখানে মানুষের বিপদে নিজেরাই বদলে গিয়ে ধারন করে রাক্ষস রূপ এবং বদলে দেয় প্রকৃত ঘটনা সেখানে কি আসলেই বলা যায় - “সার্থক জন্ম আমার জন্মেছি এই দেশে”?
এখানে ভাল হওয়াটাই বড় অপরাধ, অপরাধ স্বপ্ন দেখা। তাই ছেড়ে দিয়েছি স্বপ্ন দেখা। কোনো এক সময়ের স্বপ্নবাজ এই আমি এখন “পাতাহীন উল্লঙ্গ বৃক্ষের” মত “স্বপ্নছাড়া মানুষ”। তারপরও হয়ত হৃদয়ের আনাচে কানাছে কিছু স্বপ্নরা জন্ম নেয় এবং বেড়ে উঠে অবহেলা আর অযত্নে। তুলতুলে স্পর্শে হাত বুলিয়ে আর তাদের আশ্বাস দেয়া হয়না – “বেড়ে উঠো” কারন এদের কিছু এমনিতেই ঝড়ে যাবে আর কিছু হয়ত আমি নিজেই ঝড়িয়ে দেবো......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



