দেশটাকে অনেক ভালবাসি, ভালবাসি দেশের মাটি ও মানুষ। তবুও মাটি ও মানুষ এর উপর অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারিনা। আমার মাঝে এক অসহায় আমার বসবাস। দেহের মাঝে প্রানের অস্তিত্ত আছে তবে বেচে থাকাটার অর্থ কেবলই বেচে থাকা। শিরায় উপশিরায় রক্তের প্রবাহ আছে কিন্ত সেখানে নেই কোনো উত্তালতা, সে এক শীতল প্রবাহ। অনুভুতিগুলো ক্রমশ ভোতা থেকে আরো ভোতা হয়ে চলছে। প্রতিবাদের ভাষা যাচ্ছে হারিয়ে। ছোট ও মাঝারি মাপের অন্যায় গুলো এখন আর খুব একটা মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাড়াতে পারে না, আর সে অন্যায় যদি হয় অপরিচিত কারো উপর – তাহলে তা পাশ কাটিয়ে যেতে নিজের মাঝে এতটুকো লজ্জাবোধ করি না। বড় বড় অন্যায় গুলো কিছুটা মাথা ব্যাথার সৃষ্টি করলেও রক্তের শীতল শ্রোতে কোনো উত্তপ্ত বুদবুদের সৃষ্টি করতে পারেনা, পারেনা মনের মাঝের পরাজিত সৈনিকটাকে রাক্ষস বানাতে। কিছুটা লজ্জা কমানোর জন্যই আসলে পরাজিত সৈনিক বলা, নাহয় – যে সৈনিক কখনো যুদ্ধেই নামেনি সে কিভাবে পরাজিত হয়? সে আসলে একটা ভীরূ কাপূরূষ।
স্পষ্ট মনে পড়ে – “এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার” এই লাইনের ভাব-সমপ্রসারন লিখতে পরীক্ষার খাতায় কত বড় বড় বানী ছেড়েছিলাম। যখন যুবক হব - অন্যায়ের সামনে গর্জে উঠবে আমার প্রতিবাদি কন্ঠস্বর, বিপদগ্রস্থকে সাহায্য করার জন্য থাকব সদা জাগ্রত, বিপথগামীকে দেখাবো আলোর দিশা – আরও কত কি... তবে সবচেয়ে হাস্যকর যে উক্তিটি ছিল সেটা হল – দেশের প্রয়োজনে আমার মাঝে জন্ম নিবে এক সাহসী সৈনিক, যার হিংস্রতা রূখে দেবে শত্রুর পথচলা। তখনো কোনো কিছুই এতটা হাস্যকর মনে হয়নি কিন্ত এখন মনে হয়। তখন মনের মাঝে বাস করা সৈনিকটা ছিল নিতান্তই সাদাসিধে এক দেশ প্রেমিক। বাস্তবতার করাঘাতে এবং সামাজিক বর্বরতায় ধীরে ধীর সে এখন স্বার্থপর এবং আত্মকেন্দ্রিক। আসলে যুদ্ধ যেখানে আপন সেনাপতির সাথে, সৈনিক সেখানে নিরূপায়। এখানে সেনাপতি নিজেই বিপথগামী, অত্যাচারী, রক্তচোষা। এখানে রক্ত চক্ষু দেখানো মানেই তো সৈনিকের করূন পরিনতি। আমার মত ছাপোষা মানুষগুলোর জীবনের প্রতি অনেক মায়া। কন্ঠ হারাবার ভয়ে আমরা বজ্র কন্ঠ করতে পারবো না, তার চেয়ে বোবা হয়ে সহ্য করে যাবো হাজ়ারো অনিয়ম অত্যাচার। বোবা কান্নায় ভাসিয়ে দেব নিজের ভেতরের প্রতিবাদি সত্তা তবুও হুঙ্কার দেবনা। পিঠের পিছনে যেই দেয়াল – সেটাকেই অবলম্বন করে বেচে থাকব, খুজে ফিরবনা নতুন কোনো আশ্রয়। ভাগ্যিস আমাদের প্রানপ্রিয় সেনাপতিরা তাদের পায়ের কোমল নিষ্পিষনে আমাদের এই দেয়ালে এনে ঠেকিয়েছেন। নাহলে কি হত একবার ভেবে দেখুনতো – বেচে থাকার এই অনলম্বনটকুও যে পেতাম না।
ইচ্ছা থাকতেও অন্যায়ের সামনে নিজেকে প্রতিবাদি করে তুলতে পারিনা, রক্তচক্ষুর প্রবল আক্রোশে পারিনা নিজের অধিকার আদায় করে নিতে, বজ্রের হুঙ্কারে পারিনা সমাজের আত্মস্বীকৃত মানুষরূপী পশুদের বিতারিত করতে, প্রবল পেশীবলে উপড়ে দিতে পারিনা অনৈতিকতার শিকড় – আসলেই আমার মাঝে এক অসহায় আমার বসবাস...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



