দক্ষিণ এশিয়ায় মাস্টার্স ডিগ্রীধারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭% বেকার বাংলাদেশে এবং সর্বনিম্ন ৭% শ্রীলঙ্কায়। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকার নিয়ে জাতি কিভাবে উন্নত হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়। শিক্ষার কোন বয়স নেই বলা হচ্ছে অথচ একজন শিক্ষার্থীর বয়স ত্রিশ বছর পার হলেই তাকে আর সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোন দেশে আছে কিনা আমার জানা নেই। ৫৭ বছরের কর্মজীবী পৌড়কে যেখানে অবসরের বয়স বাড়িয়ে কাজ করার আরো সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে সেখানে একজন যৌবনদীপ্ত তরুণকে ৩০ বছরেই পৌড়ত্বের শিকল পড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাংলাদেশের থেকে বেশি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন প্রদেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৮ থেকে ৪০ বছর,শ্রীলঙ্কায় ৪৫,ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫,ইতালিতে ৩৫ বছর কোন কোন ক্ষেত্রে ৩৮,ফ্রান্সে ৪০, ফিলিপাইন,তুরস্ক ও সুইডেনে যথাক্রমে সর্বনিম্ন ১৮,১৮ ও ১৬ এবং সর্বোচ্চ অবসরের আগের দিন পর্যন্ত। দক্ষিণ আফ্রিকায় চাকরি প্রার্থীদের বয়স বাংলাদেশের সরকারি চাকরির মত সীমাবদ্ধ নেই। সেখানে চাকরি প্রার্থীদের বয়স ২১ হলে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে যে কোন বয়সে আবেদন করতে পারে। রাশিয়া,হংকং,দক্ষিণ কোরিয়ার মত দেশে যোগ্যতা থাকলে অবসরের আগের দিনও যে কেউ সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল গভর্নমেন্ট ও স্টেট গভর্নমেন্ট উভয় ক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের বয়স কমপক্ষে ২০ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫৯ বছর।
কানাডার ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ বছর হতে হবে তবে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নয় এবং সিভিল সার্ভিসে সর্বনিম্ন ২০ বছর এবং সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যায়। গড় আয়ু যখন ৪৫ বছর ছিল তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭,যখন ৫০ ছাড়াল তখন প্রবেশের বয়স ৩০ হলো। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছর। গড় আয়ুর ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে চাকরিতে অবসরের বয়স ৫৭ থেকে ৫৯ করা হয়েছে। এর ফলে যে সকল সরকারি চাকরিজীবী অবসরে যেতেন সে সকল পদও খালি হয়নি। তাই বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
আবারো শোনা যাচ্ছে সরকারি চাকরির অবসরের বয়স বাড়ানোর কথা। আরো বলা যায়,বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে সরকারী চাকরিতে ৫৫% কোটার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোন কোটা নাই। কোটাধারিরা চাকরিতেও কোটা পায়,আবার বয়সও তাদের শিথিলযোগ্য। মুক্তিযোদ্ধা,উপজাতি,জুডিশিয়াল ও ডাক্তারদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২। ডাক্তারদের চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩২ করা হয়েছিল এই বলে যে,সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে তাদের এক বছর বেশি পড়তে হয়,কিন্তু পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনার্সের কোর্স এক বছর বৃদ্ধি করে ৪ বছর করা হয়।মুক্তিযোদ্ধা,উপজাতি,জুডিশিয়াল ও ডাক্তারা ৩২ পর্যন্ত চাকরিতে আবেদন করতে পারে তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দোষ কোথায়। নার্স-৩৬ এবং বিভাগীয় প্রার্থীরা ৪০ বছর পর্যন্ত চাকরিতে আবেদন করতে পারে। তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন পারবে না। কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন,সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেন অবহেলা না করা হয়। সবাইকে যেন সমান চোখে দেখা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



