somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ চিঠি

০৭ ই মে, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ চিঠি
(একটি বিয়ের দিনেই ছিন্ন হয়ে যাওয়া প্রেমের গল্প)
--- সালাউদ্দিন রাব্বী

পরিচয় ও প্রতিজ্ঞা

মৌমিতা ও সিমান্ত।
ছোট এক শহরের প্রেমিক-প্রেমিকা। পরিচয় কলেজে, বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে পরিণত হয় গভীর প্রেমে।
সাত বছরের সম্পর্ক, যার ভিত গড়া ছিল চিঠিতে, ফোনে, মাঝে মাঝে দেখা আর হৃদয়ের গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে।

সিমান্ত ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেমিক।
“দেশ আগে, সব পরে” এটাই তার মন্ত্র। কলেজ শেষ করেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। মৌমিতা শুরু করে স্থানীয় স্কুলে শিক্ষকতা।

সীমান্তে পোস্টিং হলেও প্রতিটি ছুটিতে ছুটে আসত গ্রামের বাড়ি, শুধুমাত্র মৌমিতার জন্য।
তাদের স্বপ্ন একটাই একদিন বিয়ের পর একসাথে সংসার করা, ছাদে বসে সন্ধ্যার চা খাওয়া, আর প্রতিদিন একে অন্যকে ‘আপন’ বলে ডাকা।

বিয়ের প্রস্তুতি ও প্রতীক্ষা

সাত বছরের অপেক্ষা এবার শেষ হবে।
সিমান্ত বলেছিল, “এইবার ছুটি নিয়ে এসেছি শুধু বিয়ের জন্য। এবার আর বিদায় নয়, এবার শুরু আমাদের নতুন জীবনের।”

বাড়ি ভরে ওঠে আলোয়, মৌমিতার হাতে মেহেন্দির রঙ, গালে লাজুক হাসি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব সব এসে পড়েছে।
শুভ দিনটা ঠিক ৭ই মে ২০২৫। সেই দিন, যেদিন ৭ বছর আগে প্রথমবার তারা একে অপরকে “ভালোবাসি” বলেছিল।

মৌমিতা ভাবছিল, “এবার থেকে ও আর ওদের নয় শুধু আমার হবে।”

কিন্তু জীবনের গল্পগুলো কি কখনো পুরোপুরি মানুষের ইচ্ছায় চলে?

যুদ্ধের ডাক

বিয়ের আগের দিন সন্ধ্যাবেলা। সবাই ব্যস্ত, কেউ সাজসজ্জা করছে, কেউ রান্নাঘরে ব্যস্ত।

ঠিক তখনই বেজে ওঠে সিমান্তের ফোন।

সেনা সদর দফতর থেকে।
পাকিস্তান সীমান্তে হঠাৎ উত্তেজনা। যুদ্ধাবস্থা।
তিন ঘণ্টার মধ্যে সেনা ক্যাম্পে উপস্থিত হতে হবে এটা কোনো অনুরোধ নয়, দায়িত্ব।

সিমান্ত স্তব্ধ হয়ে যায়। মৌমিতা কিছু বুঝে উঠতে না পেরে ছুটে আসে।

সে বলল, “যেতেই হবে... দেশ ডাক দিয়েছে।”

মৌমিতা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। চোখের কোণে জল জমে।
সিমান্ত তার হাত ধরে বলে,
“তোমার কপালে সিঁদুর তুলে ফিরবো... তুমি অপেক্ষা করো।”


পরদিন সকালে ভোরেই রওনা দেয় সিমান্ত।
বিয়ের দিন সকালে, বাড়ির উঠোনে ছিল আলো, কিন্তু হৃদয়ে ছিল অন্ধকার।

বিকেলে যুদ্ধ শুরু হয় বারুদ, গুলি, ট্যাংক, গর্জে ওঠা যুদ্ধের ময়দান।

সিমান্ত তার ইউনিটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল
কাঁধে জাতীয় পতাকা, হাতে অস্ত্র, বুকভরা সাহস আর হৃদয়ে একটাই ছবি মৌমিতার।

প্রথম দিনেই আঘাত হানে শত্রুপক্ষ।
সিমান্ত নিজের জীবনের বিনিময়ে বাঁচায় তার ইউনিটের আরও ১২ জনকে।

সেই রাতেই খবর আসে
"সিপাহী সিমান্ত সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন।"

মৌমিতার কানে তখন বাজছিল শুধু শেষ কথা:
“আমি ফিরবো... কপালে সিঁদুর তুলে।”

শেষ চিঠি ও অনন্ত অপেক্ষা

তিনদিন পর গ্রামে ফিরে আসে একটি coffin
মোড়ানো জাতীয় পতাকায়, পাশে একটি চিঠি।

"মৌমিতা,
যদি আমি না ফিরি, তবে জানবে তোমার মেহেন্দির রঙে আমি ছিলাম,
তোমার চোখের জলেই আমি ধুয়ে যাবো,
তোমার জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমি বেঁচে থাকবো।
কাউকে দুঃখ দিও না। তুমি হাসবে, কারণ আমার সবটুকু ভালোবাসা তোমার কাছে রেখে যাচ্ছি।
জয় হিন্দ। তোমার,
সিমান্ত”

মৌমিতা আর কোনোদিন সিঁদুর পরেনি।
কিন্তু প্রতিদিন সকালে সে ছাদে ওঠে, দুই কাপ চা বানায়
একটা নিজের জন্য, আরেকটা সিমান্তের খালি চেয়ারের জন্য।

আজও তার হাতে মেহেন্দি নেই,
তবু হৃদয়ে লেখা সিমান্তর নাম আজও মুছে যায়নি।

শেষ নয়... এ প্রেম অমর, কারণ ভালোবাসা কখনও শহীদ হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা ও সম্পদ বণ্টনের রাজনীতি এবং এলিট সমাজ - নির্বাচনের আগের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



ভোটের সময় এলেই একটি অতি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে। নির্বাচনপ্রার্থী, যিনি অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়েছেন। গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×