somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধের শেষে শুধু কবর বাড়ে।

০৯ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধের শেষে শুধু কবর বাড়ে

"যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন রাজনীতিবিদরা অস্ত্র দেয়, ধনীরা রুটি দেয়, আর গরিবেরা তাদের সন্তান দেয়।
যুদ্ধ শেষ হলে রাজনীতিবিদরা হাতে হাত মেলায়, ধনীরা রুটির দাম বাড়ায়, আর গরিবেরা তাদের সন্তানের কবর খুঁজে বেড়ায়।"
এই কথাগুলোর মাঝে লুকিয়ে আছে যুদ্ধের নিষ্ঠুর বাস্তবতা, এক নির্মম সত্য যা সভ্যতার গালভরা বুলি ছাপিয়ে কেবল রক্ত, কান্না আর কবর দেখায়।
আজকের পৃথিবী যেন এক অনিরন্তর যুদ্ধক্ষেত্র। কোথাও কামানের গর্জন, কোথাও ড্রোন হামলা, কোথাও জাতিগত নিধন আর সব যুদ্ধের মূল শিকার সেই সাধারণ মানুষ, যার ভাগ্যে নেই কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল, নেই শান্তি চুক্তির স্বাক্ষর। তার ভাগ্যে আছে শুধু সন্তান হারানোর বেদনা আর স্বজনহীন জীবনের ভার।
গাজার বুকজুড়ে মৃত্যু
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা আজ মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। শিশুদের খেলাঘর এখন কবরস্থান, হাসপাতালগুলো টার্গেট, বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে পুরো জনপদ মৃত্যুপ্রায়।
হাজার হাজার নিরপরাধ নারী-শিশু নিহত হচ্ছে কেবল জাতিসংঘের নীরবতা আর তথাকথিত “আত্মরক্ষার” অজুহাতের পেছনে। এই যুদ্ধ কার?
গাজার কোনো শিশুর হাতে অস্ত্র ছিল না, কোনো মায়ের কোলে বোমা ছিল না। তবুও তারা মারা যাচ্ছে। এবং বিশ্ব সভ্যতা, মানবতা, ধর্ম ও নীতির মুখোশ পরে তাকিয়ে আছে নির্বিকারভাবে।
যুদ্ধ কার প্রয়োজন?
যুদ্ধ কখনো গরিবের প্রয়োজন হয় না। গরিব চায় কাজ, শান্তি, শিক্ষা ও চিকিৎসা। কিন্তু যুদ্ধের নামে তাকে দেওয়া হয় একটি কফিন।
যুদ্ধ চায় রাজনীতিবিদ, যারা নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে 'জাতীয় সংকট' তৈরি করে। যুদ্ধ চায় অস্ত্র ব্যবসায়ী, যারা একেকটি বোমা বিক্রি করে কোটি ডলার কামায়। যুদ্ধ চায় করপোরেট শক্তি, যারা যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠনের নামে লুণ্ঠনের বাজার বসায়।
আর যুদ্ধ পায় সাধারণ মানুষ যারা মরেন, যারা কাঁদেন, আর যারা ভাঙা ঘর আর শূন্য কোল নিয়ে বেঁচে থাকেন।
ইতিহাস বলে যুদ্ধ কাউকে ক্ষমা করে না
ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইউক্রেন, ইয়েমেন এই নামগুলো একেকটি যুদ্ধপ্রবণ অধ্যায়। সেখানে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল 'গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা', 'সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান' কিংবা 'আত্মরক্ষা'র নামে। কিন্তু দিন শেষে ইতিহাস শুধু শিখিয়েছে, যুদ্ধ যে পক্ষই শুরু করুক, শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয় মানবতা।
যুদ্ধ নয়, প্রয়োজন মানবতা
আমরা কি এমন এক পৃথিবী চাই, যেখানে শিশু জন্ম নেয় গোলার আওয়াজে, আর খেলতে শেখে ধ্বংসস্তূপের মাঝে? আমরা কি চাই, একজন মা কেবল এটুকুই জানুক তার সন্তান আর ফিরবে না?
মানবতার এই সংকটে, শান্তির জন্য দরকার বিচার, ন্যায় ও সহানুভূতি। যুদ্ধ নয়, প্রয়োজন মানবিকতা। কূটনীতি নয়, দরকার ন্যায়বিচার।
যে পৃথিবীতে একপক্ষের বেঁচে থাকা আরেক পক্ষের মৃত্যুর উপর নির্ভর করে, সে পৃথিবী টিকতে পারে না।
উপসংহার
যুদ্ধ শেষ হয় রাজনৈতিক চুক্তিতে, সংবাদমাধ্যমের নতুন শিরোনামে, ধনীদের মুনাফার হিসাব নিকাশে।
কিন্তু গরিবের কাছে যুদ্ধের শেষ হয় না তার কাছে যুদ্ধ হলো কবর খোঁজার আর্তি, শেষ অবলম্বন হারানোর ব্যথা।
যুদ্ধ দিয়ে কখনো শান্তি আসে না। যুদ্ধ দিয়ে শুধু নতুন কবর খোঁজা শুরু হয়।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ৭:৫৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×