somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধ্বংসের পরে নব উদ্দামে নবজাগরণ।

২৩ শে জুলাই, ২০২৫ সকাল ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধ্বংসের পরে নব উদ্দামে নবজাগরণ।
=========================================
প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন তারা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়, দিশাহারা হয়ে পড়ে, নিজের অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিন্তু একটি সচেতন ও আত্মসচেতন জাতি সেই সঙ্কটকে দুর্বলতা নয়, বরং শিক্ষার উৎস হিসেবে দেখে। ২০২৪ সাল বাংলাদেশের জন্য ছিল এমনই এক দুর্যোগময় বছর রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত নড়ে উঠেছিল।
তবু ইতিহাস আমাদের শেখায়: ধ্বংসই শেষ নয়।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষ রক্ত দিয়ে অর্জন করেছিল স্বাধীনতা। সেই জাতি বারবার প্রমাণ করেছে আমরা যখন এক হই, তখন কোনো শক্তিই আমাদের থামাতে পারে না।
২০২৪-এর সংকটকালেও আমরা সেই একই জাতি।
আমরা ভুল করেছি হ্যাঁ, তা মানতে হবে।
আমরা বিভক্ত হয়েছি তাও সত্যি।
আমরা অনেক সময় কূটচাল, ষড়যন্ত্র ও স্বার্থান্ধ নেতাদের ফাঁদে পা দিয়েছি এটাও অস্বীকার করা যাবে না।
কিন্তু ইতিহাস কেবল ভুলের বিচার করে না, শিক্ষা নেয়ার সুযোগও দেয়। আওয়ামী লীগ, যেই দল ১৯৭১-এ জাতির মুক্তির কণ্ঠস্বর হয়েছিল, সেই দলকেও এবার নিজের ভুলগুলো উপলব্ধি করতে হবে। গণমানুষের ভাষা বুঝতে হবে, ক্ষমতার অহংকার ত্যাগ করতে হবে, এবং নতুন করে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।
আমরা যদি অতীতের ভুলকে ঢেকে রাখতে চাই, ভবিষ্যত আর নির্মল হবে না। আজকের ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সংকট, মানুষের হতাশা, ও গণতান্ত্রিক চেতনার অবমূল্যায়ন এগুলোর মুখোমুখি হতে হবে। যে জাতি নিজের ভুল স্বীকার করে, কাঁদে, শেখে সে জাতিই আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।
আমাদের করণীয়:
১. রাজনীতি নয়, দেশপ্রেম হোক নেতৃত্বের চালিকা শক্তি।
২. জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ নয়, শ্রবণযোগ্য হোক প্রতিটি অভিমত।
৩. গণতন্ত্রের প্রহসন নয়, হোক কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন।
৪. দল নয়, রাষ্ট্র হোক অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে, যদি আমরা সবাই মিলিতভাবে বলি “এই দেশ আমাদের, এই ভুল আমাদের, এই শিক্ষা আমাদের।” তবেই নবজাগরণের আলোয় উদ্ভাসিত হবে বাংলাদেশ।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন
বাংলাদেশ

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০২৫ সকাল ৭:৪৪
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস ভাড়ি হবে লাশের গন্ধে

লিখেছেন ফেনা, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১


ছবিঃ গুগল

আলোচনাটা আপাদত একটা ফাইলে করে টেবিলে তুলা থাক। এসো আগে আমরা একটু ধ্বংস ধ্বংস খেলি।
শত বছর হতে চলল পাইনা বাতাসে তেমন লাশের গন্ধ। জাহানের বাতাসটা ভরে উঠুকনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×