somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইলিশ ইলিশ মাতম কারীরা এখন কোথায়?

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইলিশ ইলিশ মাতম কারীরা এখন কোথায়?

অতীতে বিএনপি–জামাত নেতারা মুখে ফেনা তুলে বলতেন, শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে "অসম চুক্তি" করেছে, ইলিশ রফতানি করে জাতীয় স্বার্থ বিক্রি করেছে।

গত ২ বছরের বাস্তব পরিসংখ্যান
বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিসংখ্যানই স্পষ্টভাবে বলে দেয় ভারতের প্রতি আমাদের নির্ভরতার মাত্রা কতখানি:
দুই অর্থবছরে মিলিয়ে বাংলাদেশ ভারতে আমদানি করেছে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর রফতানি করতে পেরেছে মাত্র ৪–৫ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি বিপুল, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একপেশে চাপ তৈরি করছে।
রাজনৈতিক দ্বিচারিতা
এখানেই আসে বিরোধীদের নগ্ন দ্বিচারিতা। তারা যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন ভারতের সঙ্গে আঁকড়ে ধরে চলে, একচেটিয়া নির্ভরশীলতা তৈরি করে। আর যখন বিরোধী দলে থাকে, তখন ভারতের নামে আগুন ঝরায়।
প্রশ্ন হলো ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসে আজ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো নতুন চুক্তি প্রকাশ করেনি, পুরনো বিতর্কিত চুক্তিও বাতিল করেনি। তাহলে বিএনপি–জামাত কেন নীরব? কারণ ভারতবিরোধিতা তাদের কাছে আদর্শ নয়, বরং রাজনৈতিক ব্যবসার হাতিয়ার। এই ভণ্ডামি এখন নগ্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা
বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে সবচেয়ে সহজ উৎস হলো ভারত। সীমান্তঘেঁষা দেশ হওয়ায় পরিবহন খরচ কম, সরবরাহ দ্রুত, এবং চাহিদা পূরণ সহজ। এজন্যই ডাল–চাল–পেঁয়াজের সংকট হোক বা খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রথম সমাধান হিসেবে সরকার ভারতকেই বেছে নেয়। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে দেশের বাজার চিরস্থায়ীভাবে ভারতনির্ভর হয়ে পড়বে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কোনো নতুন বিষয় নয়, কিন্তু দুই দশক ধরে একই চিত্র আমদানি আকাশছোঁয়া, রফতানি সামান্য। সরকার যেই আসুক না কেন, বাস্তবে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতাই বেড়ে চলেছে। ইলিশ রফতানি হোক কিংবা প্রতিদিনের ডাল–পেঁয়াজ–চাল আমদানির তথ্য সব মিলিয়ে একটাই সত্য প্রকাশিত হয়: ভারত ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন।
তাহলে প্রশ্ন হলো বিএনপি–জামাতের ভারত বিরোধী স্লোগান আসলে কার জন্য? জনগণের জন্য, নাকি ক্ষমতার রাজনীতির সস্তা নাটক সাজানোর জন্য? জনগণ এখন বুঝে গেছে, ভারতের বিরুদ্ধে শুধু মুখের বুলি আওড়ানো আর বাস্তবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকা এটাই হলো তাদের রাজনৈতিক ভণ্ডামির নগ্ন উদাহরণ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:২০
১০টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটু চালাক না হইলে আসলে এআইয়ের দুনিয়াতে টেকা মুশকিল।

লিখেছেন Sujon Mahmud, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২৫



সকাল থেকে চ্যাটজিপিটি আর ন্যানো ব্যানানার কাছে ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বলেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার পশ্চাৎদ্বেশ চাটে, এইটার একটা ছবি তৈরি করে দাও।

শালারা দিবেই না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×