somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রক্ষমতার দখল : ব্যর্থতার এক বছরের হিসাব।

০৮ ই অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৮:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রক্ষমতার দখল : ব্যর্থতার এক বছরের হিসাব।
------------------------------------------------------------------------
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক কিন্তু বিতর্কিত ঘটনার জন্ম হয়। সেই দিনে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বৈধ ও নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে একদল সামরিক-অসামরিক চক্র রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয়। তারা মনে করেছিল একটি নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তারা জনগণের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রশংসা অর্জন করবে, এবং কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকবে। কিন্তু মাত্র এক বছর তিন মাসের মাথায় দেখা যাচ্ছে, তাদের স্বপ্নের সাম্রাজ্য এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।
ক্ষমতা দখলের পর প্রথম প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
ক্ষমতা দখলের পর তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল-
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করবে,
জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে,
মানবাধিকার নিশ্চিত করবে,
এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করবে।
কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রশাসনে স্বজনপ্রীতি, ঘুষ, তদবির এবং অযোগ্যতার ছড়াছড়ি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিনিয়োগ কমে গেছে, শিল্প-কারখানাগুলো ধ্বংসের মুখে, এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এক বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
এই ক্ষমতাদখলকারী গোষ্ঠী শুরুতে নিজেদের মধ্যে ঐক্য দেখানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাদের মুখোশ খুলে গেছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ভয়াবহ বিভক্তি। কে ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে এই দ্বন্দ্বই এখন তাদের গলার কাঁটা।
তাদের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ এতটাই গভীর যে, কেউ কেউ এখন প্রকাশ্যেই "সেফ এক্সিট" বা নিরাপদ প্রস্থান চাইছে। এটি প্রমাণ করে তারা নিজেরাই বুঝে ফেলেছে যে, তাদের অবৈধ ক্ষমতার ভিত্তি বালির প্রাসাদের মতোই ভঙ্গুর।
দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের রেকর্ড
এই এক বছর তিন মাসে যে পরিমাণ লুটপাট, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, তা বিগত সব সরকারের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের উন্মত্ত প্রতিযোগিতায় তারা নিজেদের ঘনিষ্ঠদের জন্য সরকারি পদ, বিদেশি ভিসা, ও আর্থিক সুযোগ বণ্টন করেছে। সাধারণ মানুষ ক্রমে বুঝতে পারছে এই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা নয়, লুটপাট।
জনগণের হতাশা ও প্রতিরোধের সঞ্চার
বাংলাদেশের জনগণ এখন ধীরে ধীরে আবারও জেগে উঠছে। তারা বুঝেছে, প্রতিশ্রুত “স্বপ্নের পরিবর্তন” ছিল এক ধোঁকা। খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশচুম্বী, কর্মসংস্থান সংকট তীব্র, আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সাধারণ মানুষ আবারও স্মরণ করছে শেখ হাসিনার উন্নয়নযাত্রা, পদ্মা সেতুর সাহসী নির্মাণ, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, এবং নারীশিক্ষা ও ডিজিটাল অগ্রযাত্রার যুগ। তারা উপলব্ধি করছে যাদের হাতে দেশ গেছে, তারা দেশ চালানোর যোগ্যই নয়।
উপসংহার
৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারের এক বছর তিন মাসের হিসাব স্পষ্ট করে দিয়েছে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরা যতই শক্তিশালী ভাবুক, জনগণের রায় ছাড়া কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, ক্ষমতার উৎস জনগণ।
আজকের এই চক্র নিজেদেরই দোষে কোণঠাসা, দিশেহারা এবং আত্মরক্ষার পথ খুঁজছে। “সেফ এক্সিট” এর আহ্বান আসলে তাদের পরাজয়ের স্বীকারোক্তি।
জনগণ এখন শুধু অপেক্ষায় কবে আবার গণতন্ত্র ও বৈধ সরকারের প্রত্যাবর্তন ঘটবে, এবং কবে এই অবৈধ ক্ষমতালিপ্সু গোষ্ঠী ইতিহাসের আবর্জনার স্তূপে নিক্ষিপ্ত হবে।

-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।
বাংলাদেশ

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৮:২০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে ভোট দেশে

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



আমার বয়সে(৩০+) আজও সরকার নির্ধারণ বা নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি।

এখন প্রায় কাছাকাছি দাঁড়িয়ে। তবুও নানা অজানা কারণে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা ভোট হয় কি হয়না। সেদিন এক স্থানীয় পাতি নেতার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×