somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৌলবাদীরা রাস্ট্র ক্ষমতায় আসলে দেশ হয়ে যায় কারাগার।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৪:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৌলবাদী শাসনের ছায়া নেমে এলে বাংলাদেশ যে অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি ধর্মনিরপেক্ষ, সংস্কৃতিমুখী, মানবিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন থেকে। কিন্তু আজও কিছু শক্তি এই রাষ্ট্রকে টেনে নিতে চায় উল্টো পথে মধ্যযুগের অন্ধকারে, যেখানে মানুষ নয়, মতবাদই শেষ কথা। যে দলটি স্বাধীনতার ইতিহাসকেই মানে না, সে দল ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে এটা ভবিষ্যতের ভয় নয়, ইতিহাসের নিষ্ঠুর নিশ্চয়তা।
নারীর স্বাধীনতা প্রথমেই তালাবদ্ধ হবে।
মৌলবাদী রাজনীতির প্রথম লক্ষ্য নারীর অধিকার।
তারা ক্ষমতায় এলে-
নারীর চাকরি সংকুচিত হবে।
শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসবে।
বোরকা ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া শাস্তিযোগ্য হবে। জনজীবনে নারী কার্যত অদৃশ্য হয়ে যাবে
অর্ধেক জনগণকে ঘরে আটকে রেখে কোনো দেশ কখনো উন্নত হয়নি; হবে না বাংলাদেশও। এটি হবে অর্থনীতির ওপর সরাসরি আত্মঘাতী আঘাত।

সংস্কৃতি জাতির আত্মা হয়ে উঠবে নিষিদ্ধ বস্তু
কবিতা, গান, নাটক, সিনেমা, থিয়েটার যেখানে মানুষের আনন্দ, যুক্তিবোধ, মানবতা স্পন্দিত হয় মৌলবাদীরা এসবকে শত্রু মনে করে।
তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মানচিত্র রাতারাতি উল্টে যাবে।
রবীন্দ্রনাথ নিষিদ্ধ।
নজরুল সন্দেহভাজন।
জীবনানন্দ অপসংস্কৃতি।
লালন ঘোষিত শত্রু।
এ দেশ যার গানের ভিত, কবিতার জন্মভূমি, বাউলদের নন্দনভূমি সেই বাংলাদেশকে একদম খোলসবিহীন করে ফেলা হবে।
মাজার, ভক্তি, লোকসংস্কৃতি সব কিছু ‘হারাম’ ঘোষিত হবে। সেই বাংলাদেশ, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষ মাজারে প্রার্থনা করেছে,সেই জায়গাই হয়ে যাবে নিষিদ্ধ এলাকা।লোকসংস্কৃতি, বাউল, গাজীর গান সবই “বদনামি সংস্কৃতি” বলে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ শুধু সাংস্কৃতিক হত্যা নয় একটি জাতির হৃদয়কে পাথর বানিয়ে ফেলা।
সংখ্যালঘুদের জন্য ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎ
যে বিশ্বাস বহুত্ববাদ মানে না, সেই বিশ্বাস রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে,হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী—কেউই নিরাপদ থাকবে না।
জমি দখল, উপাসনালয় আক্রমণ, জোরপূর্বক ভয় দেখানো এসব বৃদ্ধি পাবে বহুগুণে।
অভ্যন্তরীণ ভাঙন শুরু হলে রাষ্ট্রের স্থিতি ভেঙে পড়ে; এটি প্রমাণিত সত্য।
মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার মানে রাষ্ট্রকে অস্বীকার করা। যে দল রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাসকেই মানে না,শহীদের রক্তকে অস্বীকার করে,স্বাধীনতার যুদ্ধ কে ‘গণ্ডগোল’ বলে।
তারা কখনোই রাষ্ট্রকে ভালোবাসতে পারে না; তাদের হাতে রাষ্ট্র নিরাপদও নয়।
রাষ্ট্র যার জন্মমন্ত্রকে অস্বীকার করে, সে রাষ্ট্র অচিরেই বিপজ্জনক পথে চলে যায়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক ভয়ঙ্কর বিচ্ছিন্নতা
চরম মৌলবাদী শাসনের অধীনে বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ হবে
রফতানি বাজার ঝুঁকিতে পড়বে। রেমিট্যান্স ধাক্কা খাবে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়বে।কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে।
দেশকে জঙ্গিবাদ–সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈদেশিক বাজারে দাঁড়িয়ে এই বাজারে সন্দেহ মানেই অর্থনীতির পতন।
রাষ্ট্র তখন আর নাগরিকের নয় হয়ে যায় নির্দেশের
মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র হয়ে যায় একটি আদর্শিক কারাগার।
সেখানে নাগরিক স্বাধীনতা নেই,
সমালোচনা অপরাধ,
মতপ্রকাশ “রাষ্ট্রদ্রোহ”,
সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ,
মানুষের চিন্তা পুলিশি নজরদারির অধীনে।
এ দেশটি তখন আর ১৮ কোটি মানুষের নয়,
বরং কয়েকজন কট্টর মতবাদের ক্রূর পরীক্ষাগারে পরিণত হবে।

শেষ কথা
বাংলাদেশ কোনোভাবেই একরঙা রাষ্ট্র নয়;
এ দেশ নানা নদী, নানা ভাষা, নানা ধর্ম, নানা সংস্কৃতির সুরে গড়া।
যে কোনো শক্তি যে-ই হোক যদি এই বৈচিত্র্যকে ধ্বংস করতে চায় তাহলে তা শুধু রাজনৈতিক বিপদ নয়,জাতির অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। এই দেশ মুক্তিযুদ্ধের,মানবতার,সংস্কৃতির,মানুষের দেশ
মধ্যযুগীয় অন্ধকারের নয়।
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪৫


শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক The Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত একটি বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের কনফারেন্সের বাংলা ভার্সন/ জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কণ‍্যা শেখ হাসিনা ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২০


ল্লীর প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ,ইংরেজীতে তাঁর বক্তব্য রাখেন, পুরো বক্তব্যটি পাঠকের জন্য বাংলায় অনুবাদ করে দেয়া হলো-

Fcc South কে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বক্তব্য শুরু করেন।

বাংলাদেশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×