স্বাধীনতার প্রতীক ধ্বংসের রাজনীতি ও নীরবতার অপরাধ।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যে মাত্রায় নেমে এসেছে, তা জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তির ওপর প্রস্রাব করা হয়েছে, তাঁর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংস করা হচ্ছে। বাংলা একাডেমির মতো জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও শহীদুল্লাহ কায়সারের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক লেখকদের বই সের দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয় এগুলো পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতার স্মৃতি ও চেতনা মুছে ফেলার সুস্পষ্ট প্রয়াস।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি নন, তিনি একটি রাষ্ট্রের জন্মদাতা, একটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাঁর ভাস্কর্যে আঘাত মানে সংবিধানের মূল দর্শনে আঘাত করা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা। মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংস মানে ৩০ লাখ শহীদের রক্তকে অবমাননা করা। আর বাংলা একাডেমিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যকে অবহেলার সঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া মানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইতিহাস মুছে ফেলার আয়োজন।
এই ভয়াবহ ঘটনার চেয়েও উদ্বেগজনক হলো রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নীরবতা। বিএনপি কিংবা তথাকথিত বাম বুদ্ধিজীবীদের বড় একটি অংশ এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিবাদ তো করেইনি, বরং কেউ কেউ প্রকাশ্য ও পরোক্ষভাবে এসব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছে। যে বামপন্থা একসময় সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিত, আজ তার নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। ইতিহাস কখনো এই দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় না।
এদিকে জামায়াতপন্থীরা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিচ্ছে—বাংলাদেশে সংবিধান ও স্বাধীনতার কোনো চিহ্ন থাকবে না। এটি নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের ঘোষণা। ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তিরাই আজ নতুন মুখোশ পরে আবার ফিরে এসেছে। তারা ভালো করেই জানে স্বাধীনতার প্রতীক ধ্বংস করতে পারলে রাষ্ট্রের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে।
প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? আমরা কি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করব? ইতিহাস বলে, নীরবতা কখনো নিরপেক্ষতা নয়। নীরবতা মানেই অন্যায়ের পক্ষ নেওয়া।
আজ এই সংকটময় সময়ে প্রয়োজন সর্বস্তরের স্বাধীনতাবিশ্বাসী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না। এই তিনটি স্তম্ভ ভেঙে গেলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
আজ যদি আমরা চুপ থাকি, আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। এখনই সময় প্রতিরোধ গড়ে তোলার, স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর।
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সভাপতি, সংখ্যালঘু বাঁচাও আন্দোলন


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


