somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কবলে বাংলাদেশ।

০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কবলে বাংলাদেশ।
--------------------------------------------
সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং: বাংলাদেশের মানুষের মনে পরিকল্পিত হস্তক্ষেপ
সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোনো সাধারণ ধারণা নয়; এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও মানসিক যুদ্ধ। এর লক্ষ্য হলো একটি জনগোষ্ঠীর চিন্তা, বিশ্বাস, ইতিহাসবোধ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা। বন্দুক বা ট্যাংক দিয়ে নয় এই যুদ্ধ চলে শব্দ দিয়ে, গুজব দিয়ে, ইতিহাস বিকৃতি দিয়ে এবং ধারাবাহিক অপপ্রচারের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে এই সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং ভারতকে এক সুতোয় বেঁধে “ভিলেন” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এমন একটি ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন দেশের সব সমস্যার মূল এরা। অথচ ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাস্তব রাজনীতির ন্যূনতম বিশ্লেষণ করলে এই বয়ান টেকে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো যদি শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনা সত্যিই ভারতের সঙ্গে কোনো গোপন, দেশের স্বার্থবিরোধী বা “মন্দ” চুক্তি করে থাকেন, তাহলে বর্তমান সরকার বাহাদুর সেই চুক্তিগুলো বাতিল করছে না কেন? ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে থাকা কোনো চুক্তি বাতিল করা কি অসম্ভব? বাস্তবতা হলো, তথাকথিত “মন্দ চুক্তি”র গল্পগুলো মূলত রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হওয়া চুক্তিগুলো কূটনৈতিক সমঝোতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই হয়। পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রই জেনে-বুঝে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে না।
এই সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এটি মানুষকে যুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে আবেগনির্ভর করে তোলে। ইতিহাসকে টুকরো টুকরো করে দেখানো হয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট আড়াল করা হয়, আর সাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবাদী উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে বিভক্ত করা হয়। এর ফলেই আজ সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়; আসল চ্যালেঞ্জ হলো এই পরিকল্পিত মানসিক দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হওয়া। তথ্যভিত্তিক চিন্তা, ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ পাঠ এবং প্রশ্ন করার সাহসই পারে এই সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভেঙে দিতে। অন্যথায় আমরা বারবার একই প্রপাগান্ডার ফাঁদে পড়ব আর লাভবান হবে কেবল ক্ষমতা ও সুবিধাভোগীরা, ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষ।
--- সালাউদ্দিন রাব্বী
সভাপতি, সংখ্যালঘু বাঁচাও আন্দোলন

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা পেলে শরিয়া আইন চালু না করে দলের নামে ইসলাম রাখা যায় কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫২



সূরাঃ ৪ নিসার ৭৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৫। তোমাদের কি হলো, তোমারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছো না? অথচ নারী-পুরুষের এবং শিশুদের মধ্যে যারা দূর্বল তারা বলে, হে আমাদের রব... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৌশল

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

জামায়াতের আমীরের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে কর্মজীবী নারীর সঙ্গে বেশ্যাবৃত্তির সম্পর্ক টেনে আনা পোস্টটি হ্যাকড হোক বা অ-হ্যাকড—এর রাজনৈতিক প্রভাব মোটেও একমুখী নয়। অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, এতে জামায়াতের ক্ষতিই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩২

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।
-----------------------------------------------------------
ধর্ম ও রাজনীতি এক জিনিস নয়, এক পথে চলে না, এবং এক লক্ষ্যেও পৌঁছায় না। ধর্মের ভিত্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও আত্মসংযম। রাজনীতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

লিমেরিক

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

ধান লাগাতে গিয়ে খোকার একী হল হাল
কাদা জলে হোঁচট খেয়ে চিড়ে গেলো গাল
না পারে আর কইতে
না পারে আর সইতে
টক মিষ্টি যাহাই খাচ্ছে সবই লাগে ঝাল। ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ হবে দেখা নিশ্চয়ই =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫০


জম্পেশ খানা শেষে তোরা করিস চায়ের আয়োজন
আজ একত্রে কাটাবো সময় আমরা প্রিয়জন,
ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে আমরা ক'জন
গল্প আড্ডা আহা সেকি মধুর গুঞ্জরন।

জেনে যাবো কেমন ছিলে, আছো কেমন তোমরা,
কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×