somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তৃণমূলের ত্যাগ আর শীর্ষ নেতাদের নীরবতা: এক নির্মম বাস্তবতা।

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তৃণমূলের ত্যাগ আর শীর্ষ নেতাদের নীরবতা: এক নির্মম বাস্তবতা।
------------------------------------------------------------------
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ইতিহাস ত্যাগ, সংগ্রাম ও নির্যাতনের ইতিহাস। এই দলের শিকড় শক্ত হয়েছে তৃণমূলের সেইসব নেতাকর্মীদের রক্ত, ঘাম এবং অমানবিক নির্যাতন সহ্য করার মাধ্যমে, যারা আদর্শের জন্য সবকিছু বিসর্জন দিতে দ্বিধা করেননি। কিন্তু আজ প্রশ্ন উঠেছে সেই তৃণমূল কি তাদের ন্যায্য মূল্যায়ন পাচ্ছে?
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সময় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার আশেপাশে এমন কিছু সুবিধাভোগী ও আত্মীয়স্বজনের উত্থান ঘটেছিল, যারা আদর্শ নয় বরং ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে এমন অভিযোগ তৃণমূলের অনেকের মধ্যেই রয়েছে। সেই সময় অনেক প্রকৃত ত্যাগী কর্মী অবহেলিত ছিলেন, আর কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ক্ষমতার আশ্রয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন।
বর্তমান বাস্তবতা আরও নির্মম। বহু তৃণমূল নেতাকর্মী আজ মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা ও সামাজিক নিপীড়নের শিকার। কেউ নিজের ব্যবসা হারিয়েছেন, কেউ পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবুও তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। আরো বেশী কস্টে আছে সংখ্যলঘু আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। একের পর এক মামলা যেন তাদের জীবনের স্থায়ী বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও বেদনাদায়ক হলো অনেক নেতাকর্মী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও নিজেদের ঘরে ফিরতে পারছেন না। পরিচিত রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা কোথাও বাসা ভাড়া পাচ্ছেন না। মব সহিংসতার ভয়ে আত্মীয়স্বজনও আশ্রয় দিতে সাহস করছেন না। নারী নেত্রীদের অবস্থা আরও করুণ; সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, যেসব বড় নেতা তৃণমূলের আন্দোলন ও ত্যাগের কারণে এমপি, মন্ত্রী বা প্রভাবশালী পদে পৌঁছেছিলেন, তাদের অনেকেই আজ নীরব। কেউ কেউ দেশের বাইরে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাচ্ছেন, অথচ যাদের কাঁধে ভর করে তাদের এই অবস্থান, সেই কর্মীদের খোঁজ নেওয়ার মতো দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যেমন বিএনপি, জামাতেএনসিপি বা অন্যান্য বিরোধী শক্তির চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগের মাঝখানে পড়ে অনেক ছোট নেতাকর্মী চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এমন কথাও বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে। কেউ দেশ ছাড়তে পারছেন না, আবার নিজ এলাকাতেও নিরাপদ নন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কারাগারের ভেতরে থাকা কিছু নেতাকর্মীর অসুস্থতা বা মৃত্যুর খবরও মাঝে মাঝে সামনে আসে, যা মানবিক ও আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে। এই পরিস্থিতি শুধু একটি দলের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি, যেখানে তৃণমূলের ত্যাগ প্রায়ই ক্ষমতার রাজনীতির আড়ালে চাপা পড়ে যায়।

রাজনীতির নৈতিকতা যদি সত্যিই প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তবে দলীয় বড় নেতাদের উচিত হবে এই নিপীড়িত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। শুধু বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক সহানুভূতি নয়, বরং আইনি সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তৃণমূলই একটি রাজনৈতিক দলের প্রাণশক্তি। তাদের অবহেলা করে কোনো দল দীর্ঘমেয়াদে শক্ত অবস্থানে থাকতে পারে না এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার, সময় এসেছে দায়িত্ব নেওয়ার। কারণ ত্যাগের মূল্য যদি না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর ত্যাগ স্বীকার করতে আগ্রহী হবে না।
শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এখন প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ:
১.নির্যাতিত কর্মীদের জন্য আইনি সহায়তা সেল গঠন
২.আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন
৩.নিরাপত্তাহীন কর্মীদের জন্য সহায়তা তহবিল
৪.নারী নেত্রীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা
যদি এসব উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূলের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে এটা বলাই যায়।
--- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন
বাংলাদেশ।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×