গোপন চুক্তি হলো জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা
-----------------------------------------------
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এই দেশের জন্ম হয়েছে আত্মত্যাগ, রক্ত ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সেই দেশের জনগণ যদি জানতে পারে যে তাদের অজান্তে কোনো বিদেশি শক্তির সাথে এমন চুক্তি হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের আমদানি–রপ্তানি বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে অন্য দেশের অনুমতির প্রয়োজন হবে তাহলে সেটি শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, এটি জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।
সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে যে তথাকথিত ইউনূস সরকারের সময় নাকি একটি গোপন অর্থনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার বিষয় জড়িত ছিল। যদিও এই বিষয়ে সরকারিভাবে স্পষ্ট কোনো নথি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও প্রশ্ন উঠছে যদি কিছু না থাকে তাহলে জনগণের সামনে সব চুক্তি প্রকাশ করতে আপত্তি কোথায়?
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের অজান্তে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি হওয়া উচিত নয়। সংসদ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে অন্ধকারে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হলে তা গণতন্ত্রের চেতনার বিরোধী।
রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে প্রায়ই বিভিন্ন দল একে অপরকে বিদেশের দালাল বলে অভিযুক্ত করে। কখনো আওয়ামী লীগকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বলা হয়, আবার কখনো বিএনপি-জামাত পাকি দালাল বলা হয়। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হলো কোন দল ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তারা কি জনগণের স্বার্থ আগে রাখছে?
যারা সবসময় জাতীয়তাবাদের কথা বলেন, যারা অন্য দলকে বিদেশের প্রভাবাধীন বলে সমালোচনা করেন তাদের কাছে এখন জনগণের প্রশ্ন:
যদি সত্যিই কোনো অসম বা অপমানজনক চুক্তি হয়ে থাকে, তাহলে তারা কি এর বিরুদ্ধে কথা বলবেন না?
দেশপ্রেম শুধু স্লোগানে নয়, দেশপ্রেম প্রমাণ করতে হয় জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে অবস্থান নিয়ে।
আমরা বিশ্বাস করি:
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থেই হবে
কোনো বিদেশি শক্তির চাপ থাকলে তা জনগণকে জানাতে হবে
সব আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে
সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা রাষ্ট্র জনগণের কাছেই জবাবদিহি করবে কোন বিদেশি শক্তির কাছে নয়।
অতএব দাবি একটাই:
যদি কোনো চুক্তি হয়ে থাকে, তা প্রকাশ করুন। আর যদি না হয়ে থাকে, তাহলে গুজব দূর করতে সরকারিভাবে ব্যাখ্যা দিন। স্বাধীন দেশের জনগণ সত্য জানতে চায়, গোপনীয়তা নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


