somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন দেখিয়ে রাজপথে, প্রতিশ্রুতি শেষে কোথায় সেই বাংলাদেশ?

০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপ্ন দেখিয়ে রাজপথে, প্রতিশ্রুতি শেষে কোথায় সেই বাংলাদেশ?
----------------------------------------------------------------
গতকাল আমেরিকার নিউ ইয়র্ক এর ওজন পার্কে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাকিব নামের এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় ও প্রায় দুই ঘণ্টা কথা হলো। তাঁর কথাগুলো কেবল একজন তরুণের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়; বরং জুলাই আন্দোলন, তার পেছনের প্রেরণা, অর্থ, প্রতিশ্রুতি এবং আন্দোলন-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে কিছু কঠিন প্রশ্ন সামনে আনে।

রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তাঁর নিজের দাবি, কয়েক দফায় তিনি মোট প্রায় ৮৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। আরও বড় বিষয় ছিল ভবিষ্যৎ সুবিধার প্রতিশ্রুতি কাউকে চাকরি, কাউকে ব্যবসার সুযোগ, কাউকে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু আন্দোলন শেষ হওয়ার পর?
রাকিবের দাবি, যারা তাদের এসব স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তাদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁর উপলব্ধি “আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি। আসলে সারা দেশের মানুষই প্রতারণার শিকার হয়েছে।”

আমি তাঁকে আরও একটি প্রশ্ন করেছিলাম।
“আন্দোলনে এতগুলো নিরপরাধ ছাত্র ও পুলিশ সদস্য মারা গেলেন। এত প্রাণহানির বিনিময়ে দেশের কী উপকার হলো?”
তাঁর উত্তর ছিল মাত্র কয়েকটি শব্দ,
“আমাদের ভুল হয়েছে।”
এই স্বীকারোক্তি হয়তো একজন তরুণের ব্যক্তিগত উপলব্ধি। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আরও বড় একটি জাতীয় প্রশ্ন।

২০২৪ সালের আন্দোলনে বিপুল প্রাণহানি ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়েছে; জাতিসংঘের অনুসন্ধানও স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।
তাহলে প্রশ্ন উঠবেই যে পরিবর্তনের জন্য এত প্রাণ গেল, সেই পরিবর্তনের সুফল কোথায়?

সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র কি বদলেছে?
ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কতটা পরিবর্তন হয়েছে?
রাজপথের উত্তাপ শেষ হয়েছে কিন্তু অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক অস্থিরতা কি শেষ হয়েছে?
অবশ্যই, একজন তরুণের বক্তব্য দিয়ে পুরো আন্দোলনের চরিত্র নির্ধারণ করা যায় না। অনেক মানুষ নিজেদের বিশ্বাস, অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থ দেওয়া, ব্যক্তিগত সুবিধার প্রতিশ্রুতি কিংবা আন্দোলনকে সংগঠিত করার পেছনে অর্থের উৎস নিয়ে যদি অভিযোগ থাকে, তারও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।কারণ রাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিবর্তন কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার বিতরণের প্রকল্প হতে পারে না।
আজ সবচেয়ে প্রয়োজন প্রতিশোধ নয় সত্যের অনুসন্ধান। কারা অর্থ দিয়েছে, কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কারা সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং আন্দোলনের নামে সংঘটিত সহিংসতার দায় কার এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার আছে।
একটি আন্দোলনের সাফল্য শুধু একটি সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন মানুষের জীবন নিরাপদ হয়, অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, কর্মসংস্থান বাড়ে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্র নাগরিকের আস্থা ফিরে পায়।
জুলাইয়ের রাজপথে যারা স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের কাছে আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্বপ্নের সেই বাংলাদেশ কোথায়?
আর যারা সেই স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তাদের কাছে প্রশ্ন।
প্রতিশ্রুতির হিসাব কোথায়?
ইতিহাসকে কোনো পক্ষের প্রচারণার হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কী হয়েছিল, কেন হয়েছিল এবং এত ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পেল এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একদিন জাতিকে দিতেই হবে।

কারণ ক্ষমতার পালাবদল ইতিহাসের একটি ঘটনা; কিন্তু জনগণের স্বপ্নের হিসাব ইতিহাসের কাছে অনিবার্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×