দুঃসময়ে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে কে? কর্মীরা বাঁচবেন কীভাবে, দলই বা দাঁড়াবে কীভাবে?
----------------------------------------------------------------------------------------------------
দল যখন কঠিন সময় পার করে, তখন নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষায় আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?
আজ অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে কষ্ট করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারও ফোন বন্ধ, কেউ আত্মগোপনে, কেউ কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েও নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। কারও মাথার ওপর মামলা, কারও জীবনে অনিশ্চয়তা, কারও ঘরে খাবারের সংকট। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের অনেকেই আজ চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটালেও তাঁদের খোঁজ নেওয়ার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
একসময় যাঁরা দলের কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, রাজপথে থেকেছেন, দলের জন্য সময় ও শ্রম দিয়েছেন, আজ তাঁদেরই অনেকে অসহায়। প্রশ্ন জাগে দুঃসময়ে যদি একজন কর্মী তাঁর পরিচিত সহকর্মী, নেতা কিংবা সাংগঠনিক কাঠামোর কাছ থেকে সামান্য সহযোগিতাও না পান, তাহলে এই সংগঠনের প্রতি তাঁর আস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা কীভাবে টিকে থাকবে?
জামিন পেয়েও মুক্তি নেই, ঘরে ফিরেও স্বস্তি নেই
অনেক নেতাকর্মী কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, কিন্তু তাঁদের জীবনের সংকট শেষ হয়নি। অভিযোগ, মামলা কিংবা স্থানীয়ভাবে হেনস্তা ও জনতার হামলার আশঙ্কায় অনেকে নিজ এলাকায় ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। কেউ পরিচিতজনের বাসায় আশ্রয় নিচ্ছেন, কেউ আত্মীয়স্বজনের ওপর নির্ভর করছেন, আবার কেউ দিনের পর দিন অনিশ্চিত ঠিকানায় কাটাচ্ছেন।
পরিবারের সদস্যরা অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে জামিনের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু জামিনের পরও যদি একজন মানুষ নিরাপদে নিজের ঘরে ফিরতে না পারেন, কাজ করতে না পারেন, সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারেন, তাহলে তাঁর বাস্তব মুক্তি কোথায়?
আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন তাঁরা, যাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পরিচিত মানুষও বাসা ভাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে মাথা গোঁজার ঠাঁই, নিয়মিত আয় এবং পরিবারের নিরাপত্তা সবকিছুই একসঙ্গে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রত্যেকের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারও রাজনৈতিক পরিচয় যেন তাঁর মৌলিক অধিকার, নিরাপদ জীবন ও জীবিকা অর্জনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব, কাজ করতে না পেরে পরিবার অসহায়
একজন মানুষকে শুধু কারাগারে থাকলেই যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা নয়। মামলা পরিচালনার খরচ, আইনজীবীর ব্যয়, জামিনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, যাতায়াত এবং দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার চাপ একটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।
যাঁরা আগে কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন, তাঁদের অনেকে এখন নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। কেউ নিরাপত্তার উদ্বেগে এলাকায় ফিরতে পারছেন না, কেউ কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না, কেউ আবার মামলার কারণে বারবার আদালতে যাওয়া-আসা করতে গিয়ে উপার্জনের সুযোগ হারাচ্ছেন।
এই সংকটের সবচেয়ে নির্মম শিকার তাঁদের স্ত্রী-সন্তান ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা। সন্তানদের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, খাবার সবকিছুই টাকার ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক সংকটের দায় পরিবারের নিরপরাধ সদস্যদের বহন করতে হলে তা শুধু একটি ব্যক্তির নয়, একটি বৃহত্তর মানবিক সমস্যার রূপ নেয়।
নারী নেত্রীদের সংকট আরও জটিল
নারী নেত্রীদের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হবে। নিরাপত্তার উদ্বেগ, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, চলাচলের সীমাবদ্ধতা এবং পরিবারের দায়িত্ব সব মিলিয়ে অনেক নারী আরও কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন।
একজন নারী নেত্রী যদি নিরাপদ আশ্রয় না পান, প্রয়োজনীয় সহায়তা না পান, কিংবা পরিবারের দায়িত্বের কারণে কোথাও যেতে না পারেন, তাহলে তাঁর দুর্দশা সহজে প্রকাশও পায় না। পুরুষ সহকর্মীদের মতো তাঁর পক্ষে সব জায়গায় যাওয়া বা সবার কাছে সাহায্য চাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
তাঁদের জন্য নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, গোপনীয়তা রক্ষা করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, জরুরি আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি। নারী নেত্রীদের সমস্যাকে সাধারণ ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; তাঁদের বিশেষ বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমাধান মিলছে না
এই কঠিন সময়ে আমরা অনেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। পরিচিত নেতাদের কাছে বিপদগ্রস্ত সহকর্মীদের পরিস্থিতি তুলে ধরেছি। কোথাও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না, কোথাও যোগাযোগ হলেও শোনা যাচ্ছে ‘ফান্ড নেই’, ‘কোথা থেকে দেব’, ‘এখন পরিস্থিতি কঠিন’।
বাস্তবতা হলো, সব নেতার হাতে হয়তো অর্থ নেই, সবার পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করাও সম্ভব নয়। কিন্তু অর্থের অভাব থাকলেও খোঁজ নেওয়া, যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা খুঁজে দেওয়া, কাজের সন্ধান দেওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সমস্যাটি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ থাকে।
সাহায্য মানেই শুধু টাকা নয়। কখনো একটি ফোনকল, একটি নিরাপদ ঠিকানা, একটি কাজের ব্যবস্থা, একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা বিপদগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নেওয়াই বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু যখন একজন বিপদগ্রস্ত কর্মী বারবার যোগাযোগ করেও কোনো দিকনির্দেশনা পান না, তখন তাঁর অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, যাঁরা একসময় একই আদর্শ ও সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের দুর্দিনে পারস্পরিক যোগাযোগটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে কত দূর এগোনো সম্ভব?
আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করার চেষ্টা করছি। দেশের ভেতরে পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলছি, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কর্মীদের কাছ থেকেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এই উদ্যোগে কারও চিকিৎসা, কারও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় কিংবা কারও পরিবারের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগ দিয়ে একটি বড় সাংগঠনিক সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। একজন-দুজন মানুষের সাহায্য দিয়ে অসংখ্য বিপদগ্রস্ত পরিবারকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা যায় না। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সহায়তা কাঠামো।
এখানে প্রশ্নটি শুধু অর্থের নয়, দায়িত্ববোধেরও। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যাঁরা দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর সহযোগিতার ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় কি না, তা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।
নেত্রীর কাছে পৌঁছানোর পথ কোথায়?
বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সমস্যাগুলো দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানোও জরুরি। কিন্তু বাস্তবে সেই যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আমাদের অভিজ্ঞতা। কার কাছে গেলে কথা পৌঁছাবে, কে দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি দেখবেন, কে সংশ্লিষ্ট পরিবারের খোঁজ নেবেন এ প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
নেতৃত্বের কাছে সব খবর সরাসরি পৌঁছায় না এটি বাস্তবতা হতে পারে। কিন্তু সেই ব্যবধান কমানোর জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়ক এবং নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকলে বিপদগ্রস্ত মানুষের খবর হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। কিন্তু সমস্যাগুলো শনাক্ত করা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা নেতৃত্বের সাংগঠনিক দায়িত্বের অংশ হতে পারে।
এখন কী করা প্রয়োজন?
এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
প্রথমত, বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। কে কারাগারে আছেন, কে জামিনে মুক্ত হয়ে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের সংকটে আছেন, কার পরিবার খাদ্য ও চিকিৎসাসহ জরুরি সহায়তা চায় এসব তথ্য সম্মতি ও গোপনীয়তা রক্ষা করে সংগ্রহ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, একটি স্বচ্ছ জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন করা যেতে পারে। দেশ-বিদেশের সামর্থ্যবান শুভাকাঙ্ক্ষী ও কর্মীরা স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করবেন। কত টাকা উঠল, কোথায় ব্যয় হলো, কারা সহায়তা পেলেন তার নিয়মিত হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
তৃতীয়ত, আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। জামিন, মামলার অগ্রগতি এবং আইনসম্মত অধিকার সম্পর্কে পরামর্শ দিতে আইনজীবীদের নিয়ে একটি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যেতে পারে।
চতুর্থত, নিরাপদ আশ্রয় ও কর্মসংস্থানে সহযোগিতা করতে হবে। যাঁরা নিরাপত্তার উদ্বেগে নিজ এলাকায় ফিরতে পারছেন না, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সাময়িক আশ্রয়, বাসস্থান খোঁজা এবং বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা করা যেতে পারে।
পঞ্চমত, নারী নেত্রী ও অসহায় পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিশুদের পড়াশোনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে।
ষষ্ঠত, নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করতে হবে। শুধু অর্থ সংগ্রহ করলেই হবে না; সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের পরিস্থিতির পরিবর্তন বোঝার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
শেষ কথা: দুঃসময়ে মানুষকে ভুলে গেলে সংগঠন দুর্বল হয়
রাজনীতি শুধু ক্ষমতা, পদ-পদবি, মিছিল-মিটিং কিংবা নির্বাচনী হিসাবের নাম নয়। রাজনীতির সঙ্গে মানুষের জীবন, বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং দায়িত্ববোধ জড়িয়ে থাকে। সুসময়ে পরিচিত মুখের অভাব হয় না; কিন্তু দুঃসময়ে কে পাশে দাঁড়ালেন, কে খোঁজ নিলেন, কে একটি অসহায় পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করলেন মানুষ তা মনে রাখে।
আজ যাঁরা অসহায়, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে। কাউকে অপরাধী ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি কারও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার কিংবা মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাঁরা ভাবেন, তাঁদের কাছে আমাদের প্রশ্ন দলের দুঃসময়ে বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়? যাঁরা আজ অর্থকষ্টে, আশ্রয়হীনতায় কিংবা কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, তাঁদের জন্য সাংগঠনিক সহায়তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? আর যাঁরা বিদেশে থেকেও সহকর্মীদের সাহায্য করতে চান, তাঁদের সহযোগিতা সমন্বয়ের দায়িত্ব কে নেবেন?
আমরা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করতে চাই না, কারও বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগও তুলতে চাই না। আমরা চাই, এই সংকটকে বাস্তব সমস্যা হিসেবে স্বীকার করা হোক এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
একটি সংগঠনের শক্তি শুধু তার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নয়; তার শক্তি ছড়িয়ে থাকে অসংখ্য সাধারণ কর্মী, তাঁদের পরিবার, তাঁদের ত্যাগ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের মধ্যে। সেই মানুষগুলো যখন বিপদে পড়েন, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানো কোনো অনুগ্রহ নয় এটি মানবিক দায়িত্ব এবং সাংগঠনিক সংহতির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চাইলে যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অতীতের অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি বর্তমানের দায়িত্বও পালন করতে হবে। আজকের অসহায় কর্মীকে বাঁচিয়ে রাখা, তাঁর পরিবারকে সহযোগিতা করা এবং তাঁর ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাশে থাকা এসবই হতে পারে একটি সংগঠনের মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের বাস্তব প্রকাশ।
আজ আমাদের প্রয়োজন শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর উদ্যোগ; শুধু বক্তব্য নয়, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব; শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, বর্তমানের বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কারণ দুঃসময়ে কর্মীদের হাত ছেড়ে দিয়ে কোনো সংগঠনের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় করা যায় না।
লেখক: সালাউদ্দিন রাব্বী
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, মুন্সিগঞ্জ জেলা
সংখ্যালঘু বাঁচাও আন্দোলন বাংলাদেশ
ঠিকানা: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
ইমেইল: [email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


