somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের অর্থনীতি যাদের ঘামে সচল তাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই!

০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের অর্থনীতি যাদের ঘামে সচল তাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই!
পাহাড়ে অশান্তি, গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা, দ্রব্যমূল্যের চাপ সব মিলিয়ে দেশ যখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই: দেশের অর্থনীতিতে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
একদিকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন মাত্র ১২,৫০০ টাকা।
একবার ভাবুন, এই টাকায় একজন শ্রমিক কীভাবে নিজের খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং পরিবারের অন্যান্য খরচ চালাবেন?
যে শ্রমিকের শ্রমে দেশের পোশাক রপ্তানি হয়, যে শিল্প দেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, সেই শ্রমিকের জীবনমান নিয়ে আমরা কতটা ভাবছি?
আজ গার্মেন্টস খাতে আন্দোলন চলছে। সংবাদে প্রায় ৩০০টি কারখানা ছুটি ঘোষণার খবরও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকপক্ষের অবস্থান, কারখানার বাস্তব পরিস্থিতি এবং ন্যায্য মজুরির দাবি সবকিছু নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করতে হবে।
শ্রমিকের ন্যায্য দাবি শোনা হোক, আবার শিল্পের কর্মপরিবেশ ও কর্মসংস্থানও রক্ষা করা হোক।
আরেকটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি হলো প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক। তাঁরা পরিবার ছেড়ে, প্রিয়জনদের দূরে রেখে, বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা।
কিন্তু তাঁদের দুর্ভোগের কথা কে শোনে?
বিমানবন্দরে হয়রানি, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা, দেশে ফিরে নানা দপ্তরে অবহেলা এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কোনো প্রবাসী শ্রমিক বিদেশে মারা গেলে তাঁর মরদেহ দেশে আনা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও নানা ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে মৃত প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে; প্রত্যেক যোগ্য পরিবার যেন সহজে ও সময়মতো সহায়তা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা চাই না সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো বন্ধ হোক। আমরাও চাই তাঁদের জীবনমান উন্নত হোক। কিন্তু একই দেশের শ্রমিক, কৃষক, প্রবাসী ও বেসরকারি খাতের কর্মজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি উপেক্ষিত থাকবে কেন?
একটি রাষ্ট্রে শুধু একটি শ্রেণির উন্নয়ন দিয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
আমাদের দাবিগুলো স্পষ্ট:
1. গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্মানজনক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
2. নতুন মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রকৃত ও স্বাধীন প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
3. শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, বোনাস ও অন্যান্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ করতে হবে।
4. শ্রমিকদের ওপর অন্যায়, নির্যাতন, ছাঁটাই ও হয়রানির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কারখানা ভাঙচুর ও সহিংসতার অভিযোগও আইন অনুযায়ী বিচার করতে হবে।
5. প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরসহ প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
6. বিদেশে কোনো প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে মরদেহ দেশে আনা, দাফন ও পরিবারের আর্থিক সহায়তা সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে।
7. সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর ও প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বাজেটে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।
শেষ কথা
পাহাড়ের মানুষ হোক, গার্মেন্টস শ্রমিক হোক, বিদেশে কর্মরত প্রবাসী হোক কিংবা সরকারি কর্মচারী সবাই এই দেশের নাগরিক। কারও অধিকার কেড়ে নিয়ে অন্য কারও উন্নয়ন আমরা চাই না।
মনে রাখতে হবে, গার্মেন্টস শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের ফসল এবং প্রবাসীর পাঠানো অর্থ সবকিছু মিলিয়েই বাংলাদেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে।
যে শ্রমিক দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখেন, তাঁর নিজের পরিবার যদি দুবেলা খাবার, চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে সেই উন্নয়নের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
সরকারের কাছে প্রশ্ন দেশের অর্থনীতির জন্য যারা জীবনভর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কে নেবে?
আমরা সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমরা শিল্প ধ্বংস চাই না, শ্রমিকের অধিকার চাই। আমরা বৈষম্য চাই না, সবার জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবন চাই।
দেশটা শুধু ক্ষমতাবানদের নয়, দেশটা শ্রমিকের, কৃষকের, প্রবাসীর, সরকারি কর্মচারীর দেশটা আমাদের সবার।
সালাউদ্দিন রাব্বী
#শ্রমিকের_অধিকার_নিশ্চিত_করুন
#গার্মেন্টস_শ্রমিক
#প্রবাসীর_মর্যাদা
#বৈষম্যের_অবসান
#দেশটা_সবার
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×