somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুকুর এবং অদ্ভুত আগন্তুক

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


-স্যার, স্যার, একটু কিছু খেতে দিন, আমার স্ত্রীটা গর্ভবতী, অনেক দিন ভাল কিছু খাওয়া হয় না। দয়া করুন।
সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের লোকটা কুকুরটাকে কষে একটা লাথি বসিয়ে দিল।
- আহ। বলে কুকুরটা সরে গেল। চোখে পানি এসে গেলো, তবুও গড়াতে দিল না প্রাণীটা।
- কেন তুমি মানুষের কাছে চাইতে যাও? জানোই তো ওরা কিছু দেবে না। প্রতিবারই মার খাও আমার জন্য। দরকার কি চাওয়ার? রেগে গিয়ে বললো স্ত্রী কুকুরটা।
- চাইবো না? ওরা যদি একটু ভাল কিছু খেতে দেয়! তোমার গর্ভে আমাদের সন্তান। এখন তো একটু ভালো কিছু খাওয়া দরকার তোমার।
- লাগবে না আমার অত ভালো খাবার। ডাস্টবিনের ওই ময়লা নোংরা খেয়েই তো বেঁচে রইলাম আজ পর্যন্ত। ওগুলোই খাব এখনও। ভাল কিছুর দরকার নাই।
- আহা, রেগে যাচ্ছো কেন? দেখিই না আরেকটু চেষ্টা করে।
- না, লাগবে না বলছি না? ওই দেখ, ছোট মেয়েটা ডাস্টবিনে ভাত ফেলে দিল, গিয়ে দেখো উচ্ছিষ্ট মাংস কিংবা হাড্ডির টুকরো পাও কিনা।
-হুম, যাচ্ছি।
হঠাৎ করে কোথা থেকে একটা কিশোর ছেলে এসে পুরুষ কুকুরটাকে আদরের ভঙ্গিতে মুখ দিয়ে অদ্ভূত শব্দ করে বলল, কিরে রে? কেমন আছিস?
বলেই উত্তরের অপেক্ষা না করে চলে যেতে শুরু করলো।
কুকুরদুটো বড্ড আবেগে আপ্লুত হয়ে পরলো। এমন আদর মাখা সুরে কেও তাদের ডাকে নি। বুঝ আসার পর থেকে কেবল তো মানুষের লাথি আর বারি খেয়েই বড় হয়েছে।
পুরুষ কুকুরটা কি জানি মনে করে ছেলেটার পিছু পিছু লেজ নাড়তে নাড়তে ছুটা শুরু করলো।
- এই, কোথায় যাও? দাঁড়াও, আমাকে ফেলে কোথায় চললে? ধ্যাৎ!
বিরক্তিতে বলে উঠলো স্ত্রী কুকুরটা।
- তুমি ওখানেই দাঁড়াও, আমি আসছি। বলে পুরুষ কুকুরটা ছুটলো ছেলেটার পিছে।
- এই দাঁড়াও, আমিও আসছি। একটু আস্তে হাঁটো না, এই শরীর নিয়ে আমার দৌঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে।
হঠাৎ করে কিশোর ছেলেটা একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পরে দোকানদার কে বললো, মামা, একটা কেক দিন তো ছোট দেখে।
পুরুষ কুকুরটা থমকে গিয়ে তাকিয়ে থাকলো। তারপর দেখলো কিশোরটা কেকের প্যাকেটটি খুলে তার দিকে কেকটি এগিয়ে ধরলো। আর কুকুরটা অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে থাকলো কিশোর ছেলেটির দিকে। স্ত্রী কুকুরটা ইতোমধ্যে এসে পরেছে ওদের কাছে। সেও অবাক এই দৃশ্য দেখে। প্রথমে পুরুষ কুকুরটা কেকের একাংশ কামড়ে নিয়ে দেখলো যদি এর মধ্যে মানুষটা বিষ-টিশ মিষিয়ে থাকে? বলা তো যায় না, মানুষকে বিশ্বাস করা কঠিন। ওহ, না তো, কোন বিষ নেই, কি সুস্বাদু কেকটা। খেয়ে নিয়ে মনে মনে বললো কুকুরটা। তারপর 'হাউফ' করে বলে উঠলো তার স্ত্রীকে, কই গো, খেয়ে দেখো, কি মজা। নিশ্চিন্তে খাও, মানুষটা খুব ভালো, খেতে দিচ্ছে।
ছেলেটা স্ত্রী কুকুরটাকে দেখে বললো, কিরে, তুই প্র‍্যাগনেন্ট? আচ্ছা দাড়া, আরও কেক খাওয়াচ্ছি তোদের। বলেই আরও চার-পাঁচটা কেক কিনে খাওয়াতে শুরু করলো কুকুর দুইটাকে। কুকুর দুইটা ছেলেটাকে বার বার ধন্যবাদ জানাচ্ছে, কিন্তু সেই ভাষা হয়তো ছেলেটার অন্তরে পৌঁছুচ্ছে না।
ছেলেটা স্ত্রী কুকুরটার দিকে চেয়ে বললো, কি রে? তোর নাম কি? নাম বল তো।
স্ত্রী কুকুরটা ছেলেটার পায়ের কাছে মুখখানা এনে জুলু জুলু চোখে বললো, আমার নাম লীলা। কিন্তু এবারও সেই ভাষা ছেলেটার অন্তরে স্পর্শ করলো না।
ছেলেটা বললো, কি রে নাম বলিস না কেন? নাম নাই তোর?
কুকুরটা ডুকরে উঠলো আর মনে মনে বললো, হে সৃষ্টিকর্তা, আজ তুমি আমাকে কথা বলার শক্তি দাও, আমরা কৃতজ্ঞ এই মানুষটার প্রতি, কৃতজ্ঞ তোমার প্রতিও যে তুমি আমাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য এই ভাল মানুষটাকে উপলক্ষ হিসেবে পাঠিয়েছো, তুমি অসীম দয়ালু।

কিন্তু এসবের কিছুই ছেলেটা বুঝলো না। কুকুরগুলোকে খাইয়ে ছেলেটা উঠতে উঠতে বলল, থাক তোরা, ভাল থাকিস, আমি চললাম, আবার দেখা হবে, ঠিক আছে?
কুকুর দুইটা মনে মনে বললো, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। জীবনে যদি আপনার কখনও কাজে লাগতে পারি তবে আপনাকে রক্ষা করবো।

যেরকম অদ্ভুত ভাবে এসেছগল , সেরকম অদ্ভুত ভাবেই চলে যেতে থাকলো ছেলেটা কি যেন এক বেদনার সুর গলায় তুলতে তুলতে। না জানি কি কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে ভেতরে ভেতরে...........
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×