সাবাশ বাঙালী ছাত্র জনতা, সাবাশ বাঙালী, সাবাশ বাংলাদেশি। আমি '৫২র ভাষা আন্দোলন দেখি নি, আমি '৭১র মুক্তিযুদ্ধ দেখি নি, কিন্তু আমি '১৮ কে দেখেছি। আমি দেখেছি কিভাবে কিশোর ভাই এবং বোনেরা প্রতিবাদের ঝড় তুলতে পারে। কিভাবে তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলনের জলোচ্ছ্বাস ডেকে আনতে পারে। অন্যায়-অবিচার সইতে সইতে একটা সময় পিঠ ঠেকে গেলে তখন আর দাবায় রাখা যায় না এই বাঙালীদের। এই সেই বাঙালী, এই সেই বাংলাদেশি। বড় বড় আমলা-মন্ত্রী মহোদয়গণ, আইন-শৃঙখলা বাহিনীরা যা করে দেখাতে পারে নি, আজ তারা তাই করে দেখিয়েছে। জবাবদিহিতার অভাব, আর তাই আজ এত রসাতলে সব আইন। আমাদের কিশোর ভাই-বোনেরা তাই আজ জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে আইন-শৃঙখলা বাহিনীদের, এমনকি মন্ত্রীমহোদয়গণকেও এর বাইরে আলাদা করে দেখে নি। এটাই তো চাই, এটাই তো হওয়া উচিৎ। আইন সবার জন্যই সমান। যারা আইন প্রনেতা, তারাই যদি আইনের ভাঙনকারী বুল্ডোজার হয়ে থাকেন, তাহলে তার থেকে নিন্দনীয় আর কি থাকতে পারে, সেখানে আমাদের মত আম-জনতর কথা তো বাদই দেওয়া চলে।
সাইন্সল্যাব এর এক ঘটনা দেখলাম, ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলনে বাধা দেয়ার জন্য পুলিশ নামলে ছাত্র ছাত্রীরা তাদের গোলাপ ফুল দিয়ে স্বাগতম জানায়। এত সুন্দর স্বাগতম আর কোথাও দেখি নি, অস্ত্রের বিরুদ্ধে ফুল। সাবাশ!
ঢাকার আরও অন্যান্য জায়গার ছবি দেখলাম যে, পুলিশ বাহিনীরাই লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং বাইক চালাচ্ছেন, এমনকি তাদের নিজেদের অনেকেরই লাইসেন্স ও নেই। লজ্জাস্কর বিষয়। এর জন্য ছাত্র ছাত্রীরা তাদের গাড়ি আটকিয়ে তাদের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য করেছেন। চমৎকার লেগেছে বিষয়টা। কোন মারামারি নেই, শুধু টগবগে উত্তেজনা আর ক্ষোভ, এবং বুকে ধারণ করা আমাদের ভাই-বোনের মৃত্যু শোকই তাদের এ অদম্য সাহস যুগিয়েছে। সত্যিই প্রসংশনীয়।
তারা যানবাহনকে একটা শৃঙখলার মধ্যে এনেছে এবং লেন-সিস্টেম চালু করেছে। অ্যাম্বুলেন্স গুলোকে ঠিক মত যাওয়ার রাস্তা করে দিয়েছে।
আরেক জায়গায় দেখলাম, ভাঙচুররত রাস্তায় পরে থাকা কাচ ছাত্র-ছাত্রীরা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছে । শুধু তাই নয়, ভেঙে যাওয়া রাস্তা তারা ইট দিয়ে সাময়িক মেরেমত করছে। তাদের শিক্ষাবোধ এবং ন্যায়-নীতিজ্ঞান আমাদের আঙুল তুলে দেখিয়েছে যে কেবল টেক্সুয়াল বই এর জাঁতাকলেই তারা পিষ্ট থাকে না, মানবিক জ্ঞানও তাদের আছে।
আজ প্রমাণ হয়ে গেল, জাহানারা ইমাম বাঙালীর সকল জননীর বুকে বুকে আজও বেঁচে আছেন। শ্রদ্ধেয় এক মা কে দেখলাম, তাঁর সন্তানদের খাবার বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন, অপর এক মা কে দেখলাম, সন্তানদের খাইয়ে দিচ্ছেন, আজ তাঁরা সকল আন্দোলনরত সন্তানের জননী। শত শত শ্রদ্ধা তাঁদের জন্য। অনেক গার্জিয়ানদের দেখলাম, তাঁরাও রাস্তায় নেমেছেন নিজেদের সন্তানদের সাথে, আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে। শ্রদ্ধা তাঁদের জন্য।
.
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে অনেক মানুষ এর যাতায়াতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষেষ করে সিনিয়র সিটিজেনশিপদের। কিন্তু অনুরোধ্, আপনারা এটাকে ন্যাতিবাচক ভাবে নিবন না। '৫২ তে যখন আন্দোলন হয়, '৭১ এ যখন যুদ্ধ হয়, তখনও কিন্তু আমাদের কষ্ট করতে হয়েছে অবর্ণনীয়। কিন্তু বিনিময়ে কিন্তু আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আজ না হয় একটু কষ্ট করলাম, বিনিময়ে আমরা নিরাপদ সড়ক, সুষ্ঠু বিচার এবং সঠিক আইন ব্যবস্থাপনা পাব। আপনারা যেমন কষ্ট করছেন, আমিও করেছি, ক্লাস শেষ করে ৫.৬ কিলো আমাকে হেঁটে বাসায় আসতে হয়েছে। কিন্তু এই কষ্ট টা আমার কাছে কষ্ট হিসেবে লাগে নি, বরংচ আনন্দিত হয়েছি রাস্তায় ছাত্রদের স্লোগানরত এবং আন্দোলনরত অবস্থায় দেখে। নিজের ভেতরে নতুন করে বাঙালীত্বকে খুঁজে পেয়েছি। শহীদ সালাম, জব্বার প্রমুখ আজও আমাদের রক্তে মিশে আছেন, তা অনুভব করতে পেরেছি।
..
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি উক্তি মনে পরে গেল, “শাসন করা তারই সাজে, সোহাগ করতে জানে যে।“
আমাদের ভাই বোনেরা যেমন সোহাগ করতে জানে তেমনি প্রতিবাদ করতেও জানে। তাঁদের দাবায়ে রাখা যাবে না।
...
বলার আরও অনেক কিছু ছিল, তবুও এখানেই শেষ করছি। সারা বাংলা জুড়ে যে আন্দোলনের ঢেউ, তা সফল হোক এই কামনা রইলো। আমাদের ভাই বোন যারা কবরে শায়িত, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় আমাদের ছাত্র সমাজ।
WE NEED JUSTICE❤
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



