somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

WE NEED JUSTICE

০২ রা আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাবাশ বাঙালী ছাত্র জনতা, সাবাশ বাঙালী, সাবাশ বাংলাদেশি। আমি '৫২র ভাষা আন্দোলন দেখি নি, আমি '৭১র মুক্তিযুদ্ধ দেখি নি, কিন্তু আমি '১৮ কে দেখেছি। আমি দেখেছি কিভাবে কিশোর ভাই এবং বোনেরা প্রতিবাদের ঝড় তুলতে পারে। কিভাবে তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলনের জলোচ্ছ্বাস ডেকে আনতে পারে। অন্যায়-অবিচার সইতে সইতে একটা সময় পিঠ ঠেকে গেলে তখন আর দাবায় রাখা যায় না এই বাঙালীদের। এই সেই বাঙালী, এই সেই বাংলাদেশি। বড় বড় আমলা-মন্ত্রী মহোদয়গণ, আইন-শৃঙখলা বাহিনীরা যা করে দেখাতে পারে নি, আজ তারা তাই করে দেখিয়েছে। জবাবদিহিতার অভাব, আর তাই আজ এত রসাতলে সব আইন। আমাদের কিশোর ভাই-বোনেরা তাই আজ জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে আইন-শৃঙখলা বাহিনীদের, এমনকি মন্ত্রীমহোদয়গণকেও এর বাইরে আলাদা করে দেখে নি। এটাই তো চাই, এটাই তো হওয়া উচিৎ। আইন সবার জন্যই সমান। যারা আইন প্রনেতা, তারাই যদি আইনের ভাঙনকারী বুল্ডোজার হয়ে থাকেন, তাহলে তার থেকে নিন্দনীয় আর কি থাকতে পারে, সেখানে আমাদের মত আম-জনতর কথা তো বাদই দেওয়া চলে।
সাইন্সল্যাব এর এক ঘটনা দেখলাম, ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলনে বাধা দেয়ার জন্য পুলিশ নামলে ছাত্র ছাত্রীরা তাদের গোলাপ ফুল দিয়ে স্বাগতম জানায়। এত সুন্দর স্বাগতম আর কোথাও দেখি নি, অস্ত্রের বিরুদ্ধে ফুল। সাবাশ!
ঢাকার আরও অন্যান্য জায়গার ছবি দেখলাম যে, পুলিশ বাহিনীরাই লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং বাইক চালাচ্ছেন, এমনকি তাদের নিজেদের অনেকেরই লাইসেন্স ও নেই। লজ্জাস্কর বিষয়। এর জন্য ছাত্র ছাত্রীরা তাদের গাড়ি আটকিয়ে তাদের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য করেছেন। চমৎকার লেগেছে বিষয়টা। কোন মারামারি নেই, শুধু টগবগে উত্তেজনা আর ক্ষোভ, এবং বুকে ধারণ করা আমাদের ভাই-বোনের মৃত্যু শোকই তাদের এ অদম্য সাহস যুগিয়েছে। সত্যিই প্রসংশনীয়।
তারা যানবাহনকে একটা শৃঙখলার মধ্যে এনেছে এবং লেন-সিস্টেম চালু করেছে। অ্যাম্বুলেন্স গুলোকে ঠিক মত যাওয়ার রাস্তা করে দিয়েছে।
আরেক জায়গায় দেখলাম, ভাঙচুররত রাস্তায় পরে থাকা কাচ ছাত্র-ছাত্রীরা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছে । শুধু তাই নয়, ভেঙে যাওয়া রাস্তা তারা ইট দিয়ে সাময়িক মেরেমত করছে। তাদের শিক্ষাবোধ এবং ন্যায়-নীতিজ্ঞান আমাদের আঙুল তুলে দেখিয়েছে যে কেবল টেক্সুয়াল বই এর জাঁতাকলেই তারা পিষ্ট থাকে না, মানবিক জ্ঞানও তাদের আছে।
আজ প্রমাণ হয়ে গেল, জাহানারা ইমাম বাঙালীর সকল জননীর বুকে বুকে আজও বেঁচে আছেন। শ্রদ্ধেয় এক মা কে দেখলাম, তাঁর সন্তানদের খাবার বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন, অপর এক মা কে দেখলাম, সন্তানদের খাইয়ে দিচ্ছেন, আজ তাঁরা সকল আন্দোলনরত সন্তানের জননী। শত শত শ্রদ্ধা তাঁদের জন্য। অনেক গার্জিয়ানদের দেখলাম, তাঁরাও রাস্তায় নেমেছেন নিজেদের সন্তানদের সাথে, আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে। শ্রদ্ধা তাঁদের জন্য।
.
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে অনেক মানুষ এর যাতায়াতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষেষ করে সিনিয়র সিটিজেনশিপদের। কিন্তু অনুরোধ্, আপনারা এটাকে ন্যাতিবাচক ভাবে নিবন না। '৫২ তে যখন আন্দোলন হয়, '৭১ এ যখন যুদ্ধ হয়, তখনও কিন্তু আমাদের কষ্ট করতে হয়েছে অবর্ণনীয়। কিন্তু বিনিময়ে কিন্তু আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আজ না হয় একটু কষ্ট করলাম, বিনিময়ে আমরা নিরাপদ সড়ক, সুষ্ঠু বিচার এবং সঠিক আইন ব্যবস্থাপনা পাব। আপনারা যেমন কষ্ট করছেন, আমিও করেছি, ক্লাস শেষ করে ৫.৬ কিলো আমাকে হেঁটে বাসায় আসতে হয়েছে। কিন্তু এই কষ্ট টা আমার কাছে কষ্ট হিসেবে লাগে নি, বরংচ আনন্দিত হয়েছি রাস্তায় ছাত্রদের স্লোগানরত এবং আন্দোলনরত অবস্থায় দেখে। নিজের ভেতরে নতুন করে বাঙালীত্বকে খুঁজে পেয়েছি। শহীদ সালাম, জব্বার প্রমুখ আজও আমাদের রক্তে মিশে আছেন, তা অনুভব করতে পেরেছি।
..
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি উক্তি মনে পরে গেল, “শাসন করা তারই সাজে, সোহাগ করতে জানে যে।“
আমাদের ভাই বোনেরা যেমন সোহাগ করতে জানে তেমনি প্রতিবাদ করতেও জানে। তাঁদের দাবায়ে রাখা যাবে না।
...
বলার আরও অনেক কিছু ছিল, তবুও এখানেই শেষ করছি। সারা বাংলা জুড়ে যে আন্দোলনের ঢেউ, তা সফল হোক এই কামনা রইলো। আমাদের ভাই বোন যারা কবরে শায়িত, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় আমাদের ছাত্র সমাজ।
WE NEED JUSTICE❤

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:৪১
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×