somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খালেদা জিয়া চিটাগাংয়ের ভাষনে জাতিকে সব দিয়া কুইট্টালাইলেও, ইন্টারনেট, থ্রীজি বন্ধের পূর্বাভাস দিলেন।

১০ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খালেদা জিয়া কাল চট্টগ্রামে ভাষন দিয়া কুইট্টালতাছে, টেবিলে থাপরা মারতে মারতে দিছে।জাতিকে সব দিয়া গাইরালাইছে।১২ই মার্চ ঢাকা চল ঘোষনা দিছে।

তয় তথ্যপ্রযুক্তি, ইন্টারনেট, ডিজিটাল নিয়া চাইরানা দামেরও একটা কথা কয় নাই।কারন অনুসন্ধানে যানা যায় - পরিকল্পনা আছে চার দলিয় জোট ক্ষমতায় আসলে, ৩জি তো অবশ্যই না, ইন্টারনেটও বন্ধ - আবার সব অন্ধকার যুগে প্রবেশ।

ইতিহাসও তাই বলে, যেমনঃ আগে দেখে নিন থ্রীজি কাকে বলে ? তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। থ্রীজি হলো তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক। ১জি প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রথম স্থাপন হয়েছিল জাপানে ১৯৭৯ সালে।এই প্রজন্মটি ছিল এ্যানালগ মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন।১৯৯১ সালে ২জি বা প্রথম ডিজিটাল মোবাইল নেটওয়ার্ক ফিনল্যান্ডে শুরু হয়।আর ৩জি নেটওয়ার্ক চালু হয়েছিল ১ অক্টবর, ২০০১ জাপানে, প্রথম।

১জি'তে শেয়ার করা যেত শুধু এনালগ ভয়েস। ২জি'তে এসে ডিজিটাল ভয়েস ও ডাটা, জিএসএম, জিপিআরএস, ইডিজিই ইন্টারনেট। আর ৩জি'তে এসে সব উল্টাপাল্ট হয়ে যায় ভয়েস, ডাটা সেই সাথে ভিডিও স্ট্রীমিং ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।এখানে এসেই বিএনপি তথা চারদলীয় জোট ১৯৯৩ সালের মত আরেক ঐতিহাসিক সমস্যায় পরে।আপনাদের মনে থাকবে ওয়ারীদ বাংলাদেশে ৩জি'র আওয়াজ তুলেছিল ২০০৪ সালেই। ওয়ারিদকে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের লাইসেন্সের সাথে থ্রী-জি অনুমোদনের ফাইল গেলে সেদিন কেবিনেট মিটিং এ সকলে এর বিপক্ষে জোর দাবী তুলেছিল।শানেনজুল ছিল, "এটা দিলে আমাদের ইয়ং জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাবে, ওরা ভিষন পাপ করবে, ফ্রি সেক্স হইয়ে যাবে, ঘরে বসে ওরা একে অন্যের ব্লুফিল্ম দেখবে।কোরান, হাদিস সব ঘেটে ঐ মিটিংয়েই ইসলামে ৩জি'র অনুমোদনের কোন সুযোগ নেই তা সেদিন মিটিংয়ে প্রমান হয়েছিল। এখনও এই নীতিই চলমান। উল্লেখ্য থ্রীজি'র সাথে ধর্মীয় বিষয়টি সবদেশেই কম বেশি ছিল এবং বাংলাদেশে এই প্রতিবন্ধকতাটি সবচেয়ে বেশি যার বীজ উপ্ত হয়েছিল ২০০৪ সালে।তাই থ্রীজিকে একমাত্র বাংলাদেশেই আজও আটকে রাখতে পারছে।

আর ইন্টারনেটের কথা আর কি বলবো, ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে ইন্টারনেট বাদ দিয়া মুখে আঙ্গুল দিয়া বসে থাকতে হয়েছে এই জোটের কারনেই।আমি নিজে ২০০৭ সালে মোবাইল অপারেটররা ইন্টারনেট সেবা বিক্রি করার আগ পর্যন্ত ইন্টারনেটের নামই শুনিনি।তারপরও ২০০৬ সালে সাবমেরিন ক্যবলে যুক্ত হয়েও ১ মেগাবিট/সেকেন্ড এর দাম ১২৭,০০০/- হাজার টাকা যা বর্তমানে ১০,০০০/- টাকা মাত্র।

এখানে প্রনিধান যোগ্য, আপনারা সবাই অজ্ঞতাবসত জানেন, বলেন ও বিশ্বাস করেন শুধু ১৯৯৩ সালেই তথ্য পাচার হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে ৪ দলীয় জোট বঙ্গপোসাগরে সিমিউই-৩ নামক সাবমেরিন ক্যবলে সংযোগ প্রত্যক্ষান করে দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে।-ক্যবলটির নাম দেখেই বোঝা যায় এর আগে আরও দুই'টি তাড় ছিল।হ্যাঁ ১৯৮৫ সালে সিমিউই-২তেও তৎকালীক সরকার একই অজুহাতে প্রত্যাক্ষান করেছিল। এর আগে ১৯৭৮ সালে সিমিউই-১ প্রত্যাক্ষান করেছিল তৎকালীন সরকার, বড় লোকের বিলাসীতা বলে।এখন যেন প্রশ্ন করবেন না তখন আবার সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে কি হতো ?

আমরা সবাই জানি বাংলাদেশে প্রকৃত পক্ষে ১৯৯৭ সালেই মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হয়েছিল।কিন্তু কেন ? এর পেছনেও এই জোটই দায়ী। বিশ্বে বাণিজ্যিক ভাবে প্রথম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কের যাত্রা ১৯৭৯ সালে জাপানে।বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকার বিটিএল নামক একটি কোম্পানীকে বাংলাদেশে সেলুলার ফোন, পেজিং ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক বেইসড সাভিস দেয়ার লাইসেন্স দিয়ে গেলেও ১৯৯১ সালে এসে সব বন্দেধ করে দেয়।পরে মালিক বদলে ১৯৯৩ সালে এইচবিটিএল ঢাকায় সীমিত পর্যায়ে নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল নেটওয়ার্ক যাত্রার শুরু করে।পরবর্তীতে সেবা নামে দেশের একমাত্র মাত্র মোবাইল কোম্পানী, এম মোরশেদ খান জোটের মন্ত্রী, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত একচেটিয়া কুবাইয়া মোবাইল ব্যবসা করে যায়। এক লাখ, দুই লাখ টাকায় এক একটা সংযোগ বিক্রি করেছে- অথচ নেটওার্কের কোন ডেভলপমেন্ট হয়নি।তখনকার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম বিটিসিএল সহ সমগ্র টেলিকমকে চুটিয়ে খেয়ে গেছে।নব্বুইয়ের দশকের প্রথম দুই তৃতীয়াংশ সময়ে দেশে টি এ্যান্ড টি'র ল্যান্ড ফোনের সংযোগেরও ছিল এক মহারমরমা ব্যবসা।ঢাকাতেই একটি সংযোগের জন্য এক লাখ টাকার উপর ঘুষ বিতরন করতে হতো, লাইনম্যান থেকে শুরু করে বিটিসিএলের চীফ ইঞ্জিনিয়ার পর্যন্ত যা কমতে থাকে ১৯৯৭ সালে একাধীক মোবাইল অপারেটর লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে মোবাইলের যাত্র শুরু।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ থেকে ২০০৬বাংলাদেশ টেলকোর কাহিনীলিখে শেষ করা যাবে না।ঐ সময়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, সচিব ও বিটিআরসির কর্তা ব্যাক্তিদের তালিকা করে রিমান্ডে নিলে সেই কাহিনী শুনে জনগণ হার্টফেল করবে। আমি নিজে ১৯৯৫ সালে মফস্বলের একটা শহরে টি এ্যান্ড টির টেলিফোন নিতে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছি, যার সরকারী ডিমান্ড ছিল মাত্র আড়াই হাজার টাকা।আর ২০০১ থেকে ভিওআইপির বানিজ্যের সে কি রমরমা অবস্থা।


তাই হিসাবকিতাবের ইতিহাস পোষ্টমর্টাম করেই বললাম - চার দলিয় জোট ক্ষমতায় আসলে, ৩জি তো অবশ্যই না, ইন্টারনেটও বন্ধ - সব অন্ধকার। সেই সাথে এতদিন যা করছেন তার কাফ্ফারাও দিতে হবে।

এখনও না বুঝে থাকলে সিম্পলী আপনার ম্যাডামকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট তথা তথ্যপ্রযুক্তির বা ইবাংলাদেশের একটা ফুল রোড ম্যাপ দিতে বলেন, পাবলিক দেখুক, তারা বুঝবো।দেখবেন দেবে না এরও কারন আছে। যাহউক - দেশের টেলিকমিউনিকেশনে জোটের অবদানের ২০%ও কিন্তু বলা হয় নাই। আরও বলবো, ডিজিটাল এ্যাক্সচেইঞ্জ ইত্যাদী ?

খালেদা জিয়া তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা আমাদের পেছনে থাকবে, আমরা তোমাদের এগিয়ে নেব সামনের দিকে -ইন্টারনেট বন্ধ কইরা দিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:০৪
২৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রূপালী হ্রদের তীরে অপরূপ দ্রাক্ষাকুঞ্জে ঘুরে আসা একবেলা ( ছবি ব্লগ)

লিখেছেন জুন, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:১৯


সিলভার লেকে আপনাকে স্বাগতম

গালফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনোদন মূলক পোষ্ট

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৪৯



ফেসবুকে বাংলা সিনেমার একটা ছোট্র ভিডিও ক্লিপ দেখলাম।
ভিডিও ক্লিপটি দেখে আমি মুগ্ধ! প্রচন্ড মেজাজ খারাপ ছিল, ভিডিওটি দেখে মেজাজ স্বচ্ছ দীঘির পানির মতো ঠান্ডা হয়েছে। বাংলা সিনেমাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাইফ অব Dুবাই যাপিত জীবন-৬

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৫০


সমস্ত'টাতে রুক্ষ মরুর হাহাকার ধরে রাখা এ শহর- যত্নে আদরে লাবণ্য কিনে আনে !

প্রকৃতি অনাদরে রাখলে ও এখানকার মানুষগুলো বিষের বালিতে শুদ্ধ হয়ে মুক্তা ফলাতে শিখেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

৪০ ফলের এক গাছ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:২১




পৃথিবীতে যে কত অদ্ভুত ঘটনা ঘটে চলেছে তার কোন শেষ নেই। কিছু কিছু রহস্য অমীমাংশীত। আর কিছু রহস্য সৃষ্টি করেছে মানুষ নিজেই। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্সিলভানিয়ার স্যাম ভেন অ্যাকেন এক গাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"অনাগত কাব্যের অসম্পূর্ণ কচড়া"... বছরের প্রথম কবিতা সংকলন-২০১৯!!

লিখেছেন বিজন রয়, ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৫

বছরের প্রথম কবিতা সংকলনে আপনাকে স্বাগতম!


বই উৎসবঃ

বছরটা শুরু হয় আমাদের বই আর বই উৎসবে, এটা আমার খুব ভাল লাগে। কেননা এই বই উৎসবের মধ্যমনি হলো আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×