somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন ডাক্তার ও ডাকাতের মধ্যে তফাৎ কতটুকু?

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিকেলে অফিস থেকে বেরিয়ে নিউমার্কেটের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। উদ্দেশ্য, সাঈদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করা। ঈদের পরে তার সাথে আর দেখা হয়নি। এমনকি ফোনালাপও নয়! উল্লেখ্য, আমার গুটিকয়েক শুভাকাঙ্খীর মধ্যে তিনি একজন। ইন্টারনেটের বদৌলতে তার সাথে আমার পরিচয়। বয়সে আমার চেয়ে কয়েক বছরের সিনিয়র বটে, কিন্তু সেটা কখনোই বুঝতে দেননি।

সে যাই হোক, সিটি কলেজের সামনে আসতেই নাম ধরে কে যেন ডাকলো। একটু থেমে এদিক-ওদিক তাকালাম, পরিচিত কাউকে দেখতে পেলাম না। হাঁটা শুরু করলাম। ঠিক তখনি আবার ডাকলো। সাথেসাথে থমকে দাঁড়ালাম। বন্ধু রিপন (ছদ্মনাম, সঙ্গত কারণে) ঠিক আমার পাশে দাঁড়িয়ে। কম করে হলেও এগারো বছর পর দেখা! ঠিক যেন কবীর সুমনের সেই গানটির মতো-

“ হঠাৎ রাস্তায় আপিস অঞ্চলে
হারিয়ে যাওয়া মুখ চমকে দিয়ে বলে
বন্ধু কি খবর বল!!!"

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর ওর সাথে আর দেখা হয়নি। একই জেলার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগ হয়নি! অথচ, দুজনই একই শহরে আছি প্রায় ছয় বছর যাবত। কথা বলতে বলতে পার্শ্ববর্তী একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলাম। বিভিন্ন বিষয়ে কথা হলো। পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টারে পাবলিক রিলেশনে জব করে। আলাপচারিতায় ডায়গনস্টিকের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসলো। যে বিষয়টা আমাকে সবচেয়ে বেশী অবাক করলো তা হলো ‘যে সব ডাক্তার বিভিন্ন টেস্টের জন্য এখানে রোগী পাঠান তাদেরকে নাকি ৫০% পর্যন্ত কমিশন দেয়া হয়! ’ আমি বললাম এতো টাকা দিলে প্রতিষ্ঠান চলে কি করে? ও বলল- ‘এখন ডাক্তাররা একজন রোগীর একটি টেস্ট করানোর প্রয়োজন হলে তাকে দিয়ে কমপক্ষে পাঁচটি টেস্ট করান।’ তো পাঁচটি টেস্টের জন্যই আমরা রোগীর কাছ থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে থাকি। যে টেস্টগুলো করতে হবে না সেগুলো তে ডাক্তার কর্তৃক সাংকেতিক চিহ্ন দেয়া থাকে। যা আমরা দেখেই বুঝতে পারি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় টেস্টটি সম্পন্ন করে বাকি চারটির স্যাম্পল ডাস্টবিনে ফেলে দিই। কিন্তু বিল যথারীতি পাঁচটিরই আদায় করে!! এখন বল ৫০% কমিশন দিতে সমস্যা কোথায়? কী ভয়াবহ কথা!!!

সে আরেকটু খোলাসা করে বলল, ধর, কারো লিভার টেস্ট করা হবে, তো এখানে তিনটি টেস্ট মিলিয়ে হবে একটা টেস্ট। তো ডাক্তার লিখবে লিভার টেস্ট। তারপর আরও বাকি তিনটির নাম লিখবে। আমি একদম স্তব্ধ হয়ে গেলাম!! আমার নীরবতা দেখে ও হেসে বলল, কি দোস্ত একেবারে চুপ হয়ে গেলি যে? আমি বললাম না, এমনিতেই।

এখন প্রশ্ন হলো- একজন ডাক্তার ও ডাকাতের মধ্যে তফাৎ কতটুকু???
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৫১
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে আয়না আর প্রতিচ্ছবি রাখে না

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমাদের ভালোবাসা ছিল এক গোপন সন্ধ্যার মতো,
জোনাকিরা তখন শব্দহীন কবিতা হয়ে বসত সিঁথির পাশে,
হাত ধরলেই হৃদয় জেগে উঠত,
বুকের ভেতর গুনগুন করত অনন্ত প্রতিশ্রুতির গান।

তুমি তখন আমার দেহে নয়,
আমার সত্তার স্পর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×