somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রানী ক্লিওপেট্রা কথন

০১ লা মে, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ক্লিওপেট্রা(Cleopatra) নামটি দুহাজার বছর ধরে হাজারো কিংবদন্তীর নায়িকা হয়ে আছে।অবশ্য ইতিহাসে এই সময়ে আরও সাতজন ক্লিওপেট্রার দেখা পাওয়া যায়।আমাদের ক্লিওপেট্রা এদের সবার ছোট, কুইন ক্লিওপেট্রা দা সেভেন।।ক্লিওপেট্রার জীবনকাল ধরা হয় খ্রিস্টপূর্ব উনসত্তর থেকে ত্রিশ অব্দ পর্যন্ত।খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে মহামতি আলেকজান্ডার প্রথম মিশরে আধিপত্য বিস্তার করেন।আলেকজান্ডার তার বিশ্বজয়ের মিশন শেষে ফেরার পথে মৃত্যুবরণ করেন।এসময় তার প্রধান সেনাপতিগন বিজিত রাজ্যগুলি নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন।মিশরের প্রশাসক ও আলেকজন্ডারের সেনাপতি টলেমি আলেকজান্দ্রিয়াকে রাজধানী করে মিশরে টলেমী রাজবংশের সূচনা করেন।এইরাজবংশ আলেকজান্ডারের মৃত্যুরপর থেকে রোম কর্তৃক মিশর দখলের আগ পর্যন্ত মিশর শাসন করেন।রানী সপ্তম ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর মধ্যদিয়েই মিশরে টলেমী রাজবংশের অবসান ঘটে।তার বাবা ছিলেন দ্বাদশ টলেমি(অনেকে বলেন সপ্তম টলেমী)।

মিশরের রানী হলেও ক্লিওপেট্রা কিন্তু মিশরীয় ছিলেন না।তিনি ছিলেন মেসিডোনিয়ান গ্রিক।টলেমী রাজবংশের কোন রাজারাই মিশরের কৃস্টি কালচারকে অনুসরন করেননি,মিশরীয় ভাষাও শিখেননি,তাদের ভাষা ছিল গ্রিক।এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন ক্লিওপেট্রা।তিনি নিজ চেস্টায় মিশরীয় ভাষা শিখেন এবং নিজেকে মিশরীয় সূর্য় দেবতা রা(sun God Re) এর কন্যা বলে প্রচার করতেন।তার পোষাক- আশাকও ছিল ফারাওদের(ফেরাউন) মতো।পরতেন সর্পশোভিত রাজমুকুট।অবশ্য ঐতিহাসিকগন এটাকে ক্লিওপেট্রার রাজনৈতিক চাল বলে থাকেন।তাঁর জীবনীকাররা বলেন ক্লিওপেট্রা ছিলেন নজরকারা ও অসম্ভব রকমের সুন্দরী।তার ঠোট দুটি ছিল গোলাপ পাপড়ির ন্যায়,নাকছিল সুউন্নত,আর
চোখজোড়া ছিল অত্যন্ত মায়াময়।তার কন্ঠস্বর ছিল বীণার তারের ধ্বনির মতো।জীবনিকাররা আরও বলেন,স্বর্গের দেবতা প্লেটোর ছিল মাত্র চারধরনের তোষামোদকারী কিন্তু ক্লিওপেট্রার ছিল হাজারো ধরনের গুনমুগ্ধ ভক্ত ও তোষামোদকারী।ক্লিওপেট্রা অসম্ভব বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন।
ক্লিওপেট্রার বয়স যখন আঠারো বছর তখন তার বাবা মারা যান এবং তিনি মিশরের রানী হিসাবে স্থলাভিসিক্ত হন(খ্রিস্টপূর্ব একান্ন অব্দে)।সেই সাথে রাজা হন তার আপন ছোট ভাই ও স্বামী পনের বছর বয়স্ক টলেমী অস্টম(মতান্তরে ত্রয়োদশ)।অবশ্য ভাই-বোনের এই বিয়ে টলেমী রাজবংশে নতুন কিছু ছিল না।তার বাবা-মাও ছিলেন আপন ভাই বোন।আসলে টলেমী রাজবংশের উত্তরাধিকার যাতে অন্যকারো হাতে না যায় এজন্যই ক্লিওপেট্রার বাবা এই রাজনৈতিক বিয়ের ব্যবস্থা করেন।পিতার মৃত্যুর পর এই কিশোর-কিশোরী সিংহাসনে বসলেও বেশীদিন টিকতে পারেনি।কিছুদিনের মধ্যেই বিদ্রোহীরা ক্লিওপেট্রাকে বিতাড়িত করেন,যদিও রাজা থেকে যান তার স্বামী/ভাই অস্টম টলেমী।এসময় রাজনৈতিক ডামাডোলে রোমের সিনেট মিশরে নাক গলানো দরকার মনে করে।এগিয়ে আসেন জুলিয়াস সিজার।সিজার অবশ্য তার প্রতিদ্বন্দি পম্পেইকে পিছু ধাওয়া করেই মিশরে আসেন(যদিও এর আগেই পম্পেইয়ের মৃত্যু হয়)।পম্পেইয়ের দেখা না পেলেও সিজার দেখা পান ক্লিওপেট্রার।রাজ্যহারা ক্লিওপেট্রা সিজারের সাথে দেখা করে তাকে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব করেন এবং বিনিময়ে সিজারও ক্লিওপেট্রাকে মিশরের সিংহাসনে বসাবার প্রতিশ্রুতিদেন।প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলেন জুলিয়াস সিজার, বসিয়েছিলেন ক্লিওপেট্রাকে মিশরের সিংহাসনে।।সিজার-ক্লিওপেট্রার প্রেম- বিয়ে নিয়ে অনেক কিংবদন্তী আছে।তাদের এক সন্তানের কথাও শোনা যায়(টলেমি সিজার)।টলেমি সিজারের বাবাকে তা জানা না গেলেও ক্লিওপেট্রার সন্তান ছিল ওই একটাই।পম্পেইয়ের সৈন্যদের শায়েস্তা করতে সিজারের দুবছর সময় লাগে।রোমে ফিরে গিয়ে সিজার তার সাফল্য ও বীরত্ব উদযাপনের জন্য এক বিশাল বিজয় উতসব পালন করেন।সেখানে তিনি ক্লিওপেট্র-টলেমী দম্পতিকেও আমন্ত্রিত করে।ক্লিওপেট্রার ছোট বোন আরসিনিও সেই অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে সবাইকে মুগ্ধকরেন বলেও ইতিহাসে জানা যায়।সিজার এই উতসবে ক্লিওপেট্রাকে অসম্ভব সম্মান দেখান।রোম নগরীতে স্থাপিত গ্রিকদেবতা জেনট্রিক্স(Venus Gentrix)এর মন্দিরে তিনি ক্লিওপেট্রার স্বর্ণমূর্তি স্থাপন করেন।মূর্তির বেদীতে লিখা ছিল : “মিশরের দেবী”(Goddes of Egypt)।
রোমে ক্লিওপেট্রা অনেকদিন বেড়িয়েছিলেন।সিজার যেদিন নিহত হন তখনও ক্লিওপেট্রা রোমেই ছিলেন।সিজারের মৃত্যুর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন ও রোম সাম্রাজ্যের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে মিশরকে স্বাধীন ওস্বার্বভৌমদেশ হিসাবে ঘোষনা করেন।ক্লিওপেট্রাকে দমন করতে রোম থেকে পাঠনো হল সেনাপতি এন্টনিওকে। সিডনাস নদীর তীরে প্রচুর উপঢৌকন সাথে নিয়ে ক্লিওপেট্রা দেখাকরেন
এন্টনিওর সাথে।ক্লিওপেট্রার রুপের কাছে হার মানেন এন্টনিও।এখানে তিনি তিন বছর চুটিয়ে প্রেম করেন ক্লিওপেট্রার সাথে আর ওদিকে তার বউ (সম্রাট আগাস্টসের বোন) অক্টাভিয়া স্বামীর প্রতারনা সহ্য করতে না পেরে অকালে প্রান হারান।রোমে ফিরে গিয়ে এন্টনিও সম্রাটের সাথে আপোষ করতে চাইলেও বিষয়টির মিমাংসা হয়নি।রোম থেকে এন্টনি আবার মিশরে ফিরে আসেন এবং ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করেন।এই বিয়েই কাল হল এন্টনি-ক্লিওপেট্রার জন্য।রোম সাম্রাজ্য ফুসে ওঠে এন্টনিওর এহেন কাজের বিরুদ্ধে। সিনেট থেকে এন্টনিওকে রাস্ট্রদ্রোহী ঘোষনা করা হয়।তাকে দমনে প্রকান্ড এক নৌবহর নিয়ে এগিয়ে আসেন সম্রাট আগাস্টাস(বোন হত্যার বদলা নিতে ?)।খ্রিস্টপূর্ব একত্রিশ অব্দের ২,সেপ্টেম্বর তারিখে অক্টাভিয়ান সেনাদের সাথে যুদ্ধ হয় এন্টনি-ক্লিওপেট্রার যৌথ বাহিনীর।কিন্তু এক অঞ্জাত কারনে এন্টনিওকে একা ফেলে ক্লিওপেট্র তার বাহিনী নিয়ে ফিরে আসেন মিশরে।ফলে নৌযুদ্ধে এন্টনিও পরাজিত ও নিহত হন।আগাস্টাস সিজার এগুতে থাকেন মিশরের দিকে।
রোম শাসক আগাস্টাস সিজার যখন আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ প্রাসাদ দখল করে ক্লিওপেট্রার শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন তখন দেখেন হাজারো রত্নমালা বিভূষিত হয়ে রানী ক্লিওপেট্রা শুয়ে আছেন তার সোনার সিংহাসনে।তবে জীবিত নয় মৃত।কিংবদন্তী আছে ক্লিওপেট্রা নাকি সাপের দংশনে আত্মহত্যা করেছিলেন।
ক্লিওপেট্রার মৃত্যুরপর তার একমাত্র সন্তান টলেমি সিজার দেশ থেকে পালিয়ে যান।(শুনা যায় ভারত বর্ষে এসেছিলেন)তবে আগাস্টাস সিজারের
গুপ্তঘাতকের চোখ এড়াতে পারেননি।জুলিয়াস সিজারের সন্তান হিসাবে যদি সে কখনো রোম সাম্রাজ্যের সিংহাসন দাবি করে বসে এভয়ে আগাস্টাস তাকে হত্যা করেন।এভাবেই ক্লিওপেট্রা সবংশে নিহত হন আগাস্টাস সিজারের হতে।ক্লিওপেট্র যদিও ক্ষমতালোভী ও বিলাসী জীবন যাপন করতেন তবুও তার ব্যক্তিগত জীবনে সস্তা নোংরামির কোন ঘটনা দেখা যায় না।কুতসাগুলি ছড়িয়েছে মুলতরোমান গল্পকারেরা ।রোমানদের সাথে ক্লিওপেট্রার যখন বিরোধ চলছিল তখন তার নামে অপবাদমূলক ও মিথ্যা গল্প ছড়ানোর কৌশল
অবলম্বন করেন রোমান কর্তৃপক্ষ।
সাহায্য ঃ গাজি মাহাবুব আলম পাঠশালা ফ্যানপেজ
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×