
শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি অনগ্রসর জাতী। এর প্রধান কারন পুথিগত শিক্ষা ও গবেষনার অভাব। গবেষনায় বাংলাদেশের অবস্থান এমনকি দক্ষিন এশিয়ার মধ্যেও নিচের দিকে। ২০-২১ সালে বাংলাদেশ গবেষনায় খরচ করে জিডিপির ০.৩০% যা ডলারে দাড়ায় ১.২ বিলিয়ন প্রায়। কিন্তু বাস্তবে হয়ত আরো অনেক কম। এর মধ্যে বেশিরভাগ টাকাই হয়ত কর্মকর্তাদের গাড়ি, ভাতা ও অন্যান্য কাজে খরচ হয়। গবেষনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩২ টি দেশের মধ্যে ১০২ তম। একটা রিপোর্টে দেখা যায়। বাংলাদেশের ১২৫ টা সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে ১৫৩ কোটি টাকা গবেষনায় খরচ হয়। যা গড়ে ১ কোটি টাকার কিছু বেশি।
অন্যদিকে আমরা যদি আমাদের প্রতিবেশি বা এশিয়ার অন্যান্য দেশের দিকে দেখি, ভারতে গবেষনায় খরচ জিডিপির ০.৭৬% যা দক্ষিন এশিয়ার সর্বোচ্চ। আমরা জানি ভারত পৃথিবীর ৪র্থ বৃহত্তম অর্থনীতি যা প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। পাকিস্থানের ব্যয় জিডিপির ০.৫৭%। ইরানের ব্যয় জিডিপির ০.৭৯%। আমার মনে হয় ইরানের ব্যয় বাস্তবে আরো অনেক বেশি। তুরস্ক জিডিপির ১.৪২%। ইজরাইল ৬% যা % হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ।
যে দেশ গবেষনায় যত এগিয়ে সে দেশ প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে তত এগিয়ে। আমরা ২৫০ কোটি টা দিয়ে ১ কিলোমিটার রাস্তা বানাতে পারি কিন্তু ১ কিলোমিটার রাস্তার টাকাও ১২৫ টা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে পারি না গবেষনার জন্য। আমরা অন্তত একটা বিশ্ববিদ্যালয় বানাতে পারতাম যেটা বিশ্বের সেরা ১০০ টা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে থাকবে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ৫০০ কোটি টাকা দিতেই পারতাম গবেষনার জন্য। দরকার হয় তো বিদেশ থেকে শিক্ষক গবেষক আনতে পারতাম। বিদেশ থেকে তো আমরা খেলার কোচ আনি, গায়ক, নায়ক, নাচনে ওয়ালা আনি। গবেষক ও আনতে পারতাম। এইটুকি সামর্থ আমাদের ছিল।
আমাদের নেতারা নির্বাচনে বলে এলাকার, দেশের উন্নয়ন করবে। কি উন্নয়ন করবে সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারনাই নেই। আসল সমস্যা আমাদের বুদ্ধিতে, আমাদের চিন্তায়। আমাদের একদল লোক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোরকা পরে কেন সেই আলোচনা করে, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনা নেই কেন সে আলোচনা কখনো করে না। আসলে ওদের বুদ্ধির রাডারে এটা কখনো ধরাই পরে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

