somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একাকী পৃথিবীতে আরকুর সংগ্রাম (AI জেনারেটেড গল্প)

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি- এ আই জেনারেটেড

লাখ লাখ বছর আগের পৃথিবী। বরফযুগের ভেতর দিয়ে চলেছে মানব প্রজাতির আদিম জীবন। গুহার অন্ধকার আর অগ্নিশিখার উষ্ণতায় মানুষ তখনও শিখছে বাঁচতে—শিখছে শিকার করতে, আগুন জ্বালাতে, বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে দলকে রক্ষা করতে। এই সময়েই ছিল লিয়ান্ডারথাল প্রজাতির এক যুবক। তার নাম আরকু।

এক সকালে আরকু তার দলের কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে বেরিয়েছিল শিকারে। শীতল বাতাসে তার শ্বাস গাঢ় ধোঁয়ার মতো বের হচ্ছিল। হাতে ধারালো পাথরের বর্শা। চোখের দৃষ্টি গেঁথে ছিল হরিণের পালে। হঠাৎ গাছপালার আড়াল থেকে গর্জন করে বেরিয়ে এল এক বিশাল গুহা-সিংহ। সঙ্গীরা চিৎকার করে পালাতে শুরু করল। আরকু পেছনে পড়ে গেল। তার বর্শা সিংহের গায়ে লাগলেও সেটি আহত অবস্থায় আরও ভয়ংকর হয়ে উঠল। সে মরিয়া হয়ে দৌড়াল, কিন্তু গাঢ় জঙ্গলের ভেতর ঢুকে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

সন্ধ্যা নামতেই ভয় তাকে আচ্ছন্ন করল। অন্ধকার জঙ্গলে চিতা, নেকড়ে, এমনকি হায়েনার দল ওত পেতে থাকে। ক্ষুধার জ্বালা চেপে বসেছিল। সে জানত, এখন আর দলের আগুন বা সঙ্গীর চিৎকার তাকে রক্ষা করবে না। একা আরকুর শুরু হল সংগ্রামের এক নতুন অধ্যায়।

প্রথম রাতেই আরকু শিখল—পেট খালি থাকলে ঘুম আসে না। সকালে গাছের গুঁড়ি ভেঙে সে পোকামাকড় খুঁজে বের করল। কেঁচো, পোকা—যা পায় তাই মুখে পুরে দিল। কয়েকদিন পর সে একা ছোট ছোট খরগোশ ধরতে শিখল। পাথর ছুঁড়ে বা ফাঁদ পেতে শিকার করত। কখনও কাঁচা খেত, কখনও ঘষে আগুন জ্বালিয়ে মাংস পোড়াত। প্রতিটি খাবারের কণা তার কাছে ছিল টিকে থাকার প্রতিশ্রুতি।

একদিন নদীর ধারে মাছ ধরার সময় পিছন থেকে ভেসে এল গর্জন। বিশাল এক ভাল্লুক! আরকু প্রাণপণে দৌড়ে প্রাণ বাঁচাল। ভাল্লুক দাঁত কেলিয়ে গর্জন করে কিছুক্ষণ পর চলে গেল। সেই রাতটা গাছের ডালে কাটাতে হল তাকে। সেদিন থেকে আরকু বুঝল—শুধু শিকার করা নয়, বেঁচে থাকতে হলে তাকে প্রতিনিয়ত পালাতে হবে, বুদ্ধি খাটাতে হবে।

এক রাতে আকাশ ফেটে বৃষ্টি নামল। বজ্রপাত, ঝড় আর শীতলতা তাকে কাঁপিয়ে তুলল। ভেজা শরীরে দাঁত কাঁপতে লাগল। তখনই সে আশ্রয় খুঁজল পাহাড়ের গুহায়। সেই গুহা তাকে দিল বেঁচে থাকার নতুন আশা। শুকনো ঘাস জড়ো করে শোবার জায়গা বানাল। পাথর ঘষে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করল। আগুনের আলো তাকে সাহস দিল, আবার মনে করিয়ে দিল দলের অগ্নিকুণ্ডের কথা।

দিনের পর দিন একা থাকার পর আরকুর মনে হলো—একলা বেঁচে থাকা কঠিন। সে অন্য দলের সন্ধান করতে শুরু করল। কখনও দূরে মানুষের মতো ডাক শুনত, কখনও ধোঁয়ার রেখা দেখতে পেত আকাশে। কিন্তু কাছে যেতেই শিকারী পশুর ডাক শোনা যেত। ভয় তাকে বারবার পিছিয়ে দিত।

একদিন হঠাৎ নদীর ধারে সে দেখল আরেকজন নারী লিয়ান্ডারথাল—তার হাতে কাঠের লাঠি, কাঁধে পশমি চামড়া। প্রথমে তারা একে অপরকে ভয় পেল। চিৎকার করে লাঠি তুলল নারীটি। কিন্তু আরকু মাটিতে শিকার করা খরগোশ ফেলে দিল। খাবারের বিনিময়ে ভরসা জন্মাল। তারা দু’জনে একসঙ্গে আগুন জ্বালাল, খরগোশ পুড়িয়ে খেল। সেই রাতের পর আরকু আর পুরোপুরি একা রইল না।

নারীটির নাম ছিল ইরা। সে-ও হারিয়ে গিয়েছিল নিজের দল থেকে। তারা দু’জনে মিলে শিকার করত, গাছের ফল খেত, একে অপরকে পাহারা দিত। ধীরে ধীরে তাদের মনে হলো, হয়তো দলকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

কয়েক সপ্তাহ পর দূরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেল। তারা সাহস করে এগোল। গুহার মুখে দাঁড়িয়ে ছিল আরকুর নিজের দলের কয়েকজন। প্রথমে সবাই সন্দিহান ছিল, কিন্তু আরকুর বুকে থাকা পুরনো পাথরের লকেট দেখে তারা তাকে চিনে ফেলল। আনন্দে চিৎকার করে দল এগিয়ে এল।

দীর্ঘ একাকীত্ব আর মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার পর অবশেষে আরকু তার দল ফিরে পেল। সঙ্গে পেল নতুন সঙ্গী ইরাকে। আগুনের চারপাশে বসে মাংস ভাগাভাগি করতে করতে সে বুঝল—বেঁচে থাকার সংগ্রামে একার শক্তি যথেষ্ট নয়, দল আর সঙ্গীরাই আসল নিরাপত্তা।

আরকুর সেই গল্প আজ নেই, তার নামও ইতিহাসে হারিয়ে গেছে। কিন্তু লাখ বছর আগে এক আদিম মানুষ তার সংগ্রামে প্রমাণ করে গিয়েছিল—মানুষ একা নয়, মানুষের বেঁচে থাকা মানেই দল, আগুন, আর বিশ্বাস।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:২৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট পোস্ট!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯


জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিন ড. ইউনুস বলেছেন, “এই সনদে স্বাক্ষর করলে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উন্নীত হবো।”
আর গতকাল উনি বলতেছেন বাঙালি হচ্ছে বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে জালিয়াত জাতি! তো জুলাই সনদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

তিন শ' এক//
আমার সাহস দেখে, জানি. তুমি খুব রেগে যাবে।
ঘরহীন, সর্বহারা ভালোবাসা জানায় কিভাবে ?

তিন শ' দুই//
চোখের মালিক ঘোর নিঃশ্বতার আঁধারে ডুবেছে;
তবুও বেকুব চোখ সুন্দরের নেশায় ডুবেছে!
...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী ১৭৫৭, বাংলাদেশ ২০২৬ঃ সিরাজের বাহিনি ও বিএনপি

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



সামনের ইলেকশনে যদি ডিপস্টেট, জামাত ও এঞ্চিপির যৌথ প্রচেষ্টায় 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা 'মেকানিজম' হয় (যেটার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন অনলাইন-অফলাইন-দুই জায়গাতেই), তবে কি বিএনপি সেটা ঠেকাতে পারবে? পারবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জালিয়াতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৯



জালিয়াতি -১
কয়েক মাস আগে, লন্ডন থেকে আমার এক আত্মীয় ফেসবুকে ম্যাসেজ করলেন যে, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে আমার একটি ফোটোকার্ড ইন্টারনেট দুনিয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমি চমকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নাই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৩


ঢাকার মিরপুরে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক পোড়খাওয়া নেতা টাইম ম্যাগাজিনের তারেক রহমান কে নিয়ে লেখা বাংলা অনুবাদ পড়ছিলেন । প্রচ্ছদে তারেক রহমানের ছবি, নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×