খুলনায় বর্তমানে একজন আফ্রিকাফেরত সন্দেহভাজন ইবোলা ভাইরাসবাহক অবস্থান করছে। খুলনার পত্রিকায় এটা নিয়ে নিউজ ছাপা হয়েছে, খুলনা সদর হাসপাতাল থেকে বিশেষ বুলেটিনও প্রচার করা হয়েছে। খুলনাবাসী ভাইয়েরা, আপনারা কি কেউ সঠিক কোনো তথ্য জানেন?
মন্ত্রী: বিমানবন্দরে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার করা হচ্ছে।
বিবিসি: ঢাকায় ইবোলা পরীক্ষার ব্যবস্থাই নেই।
নেট ঘেঁটে আজব ব্যাপার জানতে পারলাম। অনেক জায়গায় ইবোলাকে ধোঁকাবাজি বলা হচ্ছে আর ১৯৭৬ সালের সোয়াইন ফ্লু ষড়যন্ত্রের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। সে সময় বিশ্বব্যাপী সোয়াইন ফ্লু মহামারীর আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কাল্পনিক সোয়াইন ফ্লু মহামারী নিয়ে অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে ওঠে। কোটি কোটি লোককে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে মহামারী বলে কিছুই ছিল না। মাত্র ১ জন লোক মারা যায় সত্যিকারের ফ্লুতে, আর ২৫ জন মারা যায় ভ্যাক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়।
দাবি করা হচ্ছে, ইবোলা ভাইরাসের নাকি অস্তিত্বই নেই। বিষয়টা নাকি হুবহু ১৯৭৬ এর ঐ ঘটনাটির মত। ইবোলা নিয়ে নাকি ভুয়া খবর তৈরী করছে বিশ্ব মিডিয়া। আরেকটা মতবাদ জানতে পারলাম, বলা হচ্ছে ইবোলা মহামারি হল আফ্রিকায় আমেরিকান সেনাবাহিনী ঢুকিয়ে দেওয়ার একটা অযুহাত। অসম্ভব কিছুই না, আমেরিকা-ইজরায়েলকে দিয়ে সবকিছুই সম্ভব। আফ্রিকার দেশগুলো থেকেও জোর দাবি করা হচ্ছে যে ইবোলা বলে আসলে কিছু নেই, বরং ইবোলা রোগী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য অনেক সুস্থ, নিরীহ মানুষকে মেরে নাকি ইবোলা রোগী সাজানো হচ্ছে।
কিন্তু বিষয়টা আতঙ্কিত করার মত। অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে। আজকের দিনে এই পৃথিবীতে সত্যিকার অর্থে কী হচ্ছে, আমাদের জানার কোনোই উপায় নেই। পৃথিবীর কোনো মিডিয়াকে বিশ্বাস করা সম্ভব না। হয়তো আমাদেরকে যা জানানো হচ্ছে, পরিস্থিতি আসলে কিছুই না। অথবা এমনও হতে পারে, ইবোলা সত্যি আছে এবং বাস্তবে পরিস্থিতি আমাদের জানার চেয়েও হাজার গুণে ভয়াবহ।
আতঙ্কে আছি। ড্যান ব্রাউনের "ইনফার্নো"র কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আফ্রিকায় হাজার হাজার বাংলাদেশী সেনাসদস্য আছে। জানি না তাঁদের কপালে কী আছে, আমাদের কপালেই বা কী আছে। আল্লাহ, মাফ করে দিও.......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



