"One can't prove that God doesn't exist, but science makes God unnecessary."
ধর্ম আর বিজ্ঞানের হাজার বছরের অপ্রয়োজনীয় বিরোধের সমাধান একেবারে এক বাক্যে হকিং সাহেব বলে গেছেন। সৃষ্টিকর্তা এমনভাবে জগৎ সৃষ্টি করেছেন, যেন জগৎ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের মত চলতে পারে সৃষ্টিকর্তার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই। এবং বিজ্ঞান দ্বারা কখনো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বা অস্তিত্বহীনতা কোনোটাই প্রমাণ করে দেখানো যাবে না। যদি যেতই, তাহলে সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে তাঁকে "বিশ্বাস" করতে বলতেন না। হয়তো অন্য কিছু বলতেন।
বিশ্বাসের সংজ্ঞা কী? যা প্রমাণিত না, সেটাকে সত্য বলে মেনে নেওয়া। কোনোকিছু যখন প্রমাণ হয়ে যায়, তখন সেটা হয়ে যায় তথ্য। সেটাকে আর তখন আলাদা করে "সত্য" বলে "মেনে নিতে" হয় না।
আসুন তর্কের খাতিরে ধরে নিই সৃষ্টিকর্তা আছেন। আর তিনি এমনভাবে তাঁর জগৎ, তাঁর জগতের নিয়ম আর মানুষ সৃষ্টি করলেন, যেন সেই মানুষের অর্জিত জ্ঞান দ্বারা তাঁর অস্তিত্ব প্রমাণ করা না যায়। এর পর তিনি মানুষের কাছে কোনোভাবে একটা মেসেজ পাঠালেন, বললেন, "আমি আছি, বিশ্বাস কর। আমার অস্তিত্ব তোমরা প্রমাণ করতে পারবে না, কিন্তু আমাকে বিশ্বাস কর কিনা, এটাই তোমাদের পরীক্ষা। আমাকে বিশ্বাস করলে তোমাদেরই লাভ, না করলে তোমাদেরই ক্ষতি।" এরপর তিনি মানুষের সকল ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন। যদি সত্যি এমন কিছু হয়ে থাকে?
যেটা প্রমাণিতই হয়ে গেল, সেটাকে বিশ্বাস করা না করা তো আর পরীক্ষা হতে পারে না। পরীক্ষার ব্যাপারটাই তো এমন, যে, কোনো প্রমাণ থাকলো না, এখন দেখা যাক কে বিশ্বাস করে আর কে না করে।
স্কুলের এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক একবার ক্লাসে বলেছিলেন, "যদি সৃষ্টিকর্তা না থেকে থাকেন আর পরকাল বলে কিছু না থাকে, তাহলে মারা যাওয়ার পর বিশ্বাসী অবিশ্বাসী কারোই তো লস নেই। কিন্তু যদি সত্যিই সৃষ্টিকর্তা আর পরকাল থাকে, তাহলে বিশ্বাসীরা তো পার পেয়ে যাবে, কিন্তু অবিশ্বাসীদের কী হবে তখন?"
সুতরাং, আসুন, আমরা সকল প্রকার রেষারেষি ভুলে সময় থাকতে সঠিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী হই। কারণ মৃত্যু কার কখন কীভাবে আসবে আমরা কখনোই জানতে পারব না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৫:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



