somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পতাকায় "সীমা-বিদ্ধ" দেশপ্রেমের সংজ্ঞা!

১২ ই জুন, ২০১৪ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশপ্রেম দেখানোর জিনিস না, দেখানো যায়ও না। ব্যাপারটা অনুভবের। কে কীভাবে দেশপ্রেম অনুভব করে, সেটা সে'ই ভালো বুঝে। একেকজনের অনুভূতি প্রকাশের ভঙ্গিটাও একেকরকম। তেমনি আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠার প্রকাশও জনে জনে ভিন্ন। বিশ্বকাপের সময়টা একজন ফুটবলপ্রেমীর কাছে কেমন সেটা আমি নিজে ফুটবলপ্রেমী না হয়েও কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। যারা রাতের পর রাত শুকনো লাল চোখ উপেক্ষা করে এই খেলার মাঝে ডুবে থাকে, এই ক্ষণে তাদের উৎসব কিছু নিয়ম হয়তো মানবে না, কিছু প্রতিক্রিয়া এই উৎসবের সাথে চলে আসা দীর্ঘদিনের রীতি মতো এগিয়ে যাবে... ... কেউ উৎসবের আদল হিসেবে পছন্দের জার্সিতে নিজেকে জড়াবে কেউ পছন্দের দলের পতাকা ওড়াবে। এর মাঝে ভিন্ন কেউ যদি তার মনগড়া কিংবা ব্যক্তিগত মতাদর্শ অন্যের উৎসব উদযাপনের উপর চাপায় দেয়ার চেষ্টা করে তো ব্যাপারটা খারাপ। বেশ খারাপ।

দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা কী? একটা অনুভূতিকে কীভাবে বাঁধাধরা নিয়মে সংজ্ঞায়িত করা যায় আমার জানা নাই। কেউ বাসার ছাদে প্রিয় দলের পতাকা দোলানোর সময় নিজের দেশের পতাকার চাইতে ভিনদেশী প্রতাকার প্রতি বেশি সম্মান বা ভালোবাসা অনুভব করে নাকি পরীক্ষা করে দেখা হোক। রেজাল্ট কী হবে আমি জানি। এরা নিতান্তই নিজ দলকে সাপোর্ট করে ফুটবল বিশ্বকাপের উৎসবে নিজেকে শামিল করতে চায়। পতাকা ওড়ানোটা সাপোর্ট করার প্রচলিত প্রকাশভঙ্গি মাত্র। এর সাথে দেশপ্রেম, ঘৃণা, মান অপমান ইত্যাদি তত্ত্ব গোলানো নিতান্তই মূর্খতা।
দেশপ্রেমিক সব মনে হয় ফেসবুকেই বসবাস করে, বাংলাদেশের পতাকার ছবি দেয়, দেশপ্রেম নিয়ে চেতনার কথা বয়ান করে। রাস্তাঘাটে এদেরকেই আবার দেখা যায় দুই টাকা বেশি চাওয়ার কারণে রিকশাওয়ালা কিংবা খেটে খাওয়া মানুষদের সাথে গলার রগ ফুলায় চেঁচামেচি করে। অথচ এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোই তো দেশ। দেশ তো মানুষ, পতাকাটাও মানুষের রক্তের ফসল। দেশের মানুষের প্রতি সম্মান নাই, মানুষে মানুষে ভালোবাসা নাই অথচ দেশের প্রতীক পতাকার প্রতি সম্মানই তারা দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ প্রকাশ মনে করে। সবাই এমন না হয়তো। তবে এরা যে সমাজের একটা বড় অংশ হয়ে আমাদের চারপাশে ঘুরে ফেরে এই কথা কে অস্বীকার করতে পারবে। প্রথমে একারণেই বলেছিলাম, দেশপ্রেম একটা অনুভূতি আর এই অনুভূতি ভিন্ন ভিন্ন জন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে অনুভব করে।


আমি নিজে এখনো কোন দলের পতাকা টাঙাই নাই। না, দেশপ্রেমের আধিক্যের কারণে না। আলস্য মূল কারণ। ছোটবোন অনেকদিন বলেও আমাকে দিয়ে ব্রাজিলের পতাকা কিনাইতে পারে নাই। আমি কোন পতাকা না কেনার পিছনেও আলস্য একটা কারণ। দেশপ্রেম তত্ত্বের প্রভাব এখানে নাই। শেষমেশ সে নিজেই একটা পতাকা কিনে আনলো। এখন প্রত্যেকদিন আমাকে নিয়ে টানাটানি করে ছাদে পতাকার স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য। কার না কার আর্জেটিনার পতাকা নাকি ছাদে উড়তেছে, তার সহ্য হচ্ছে না। এই যে সহ্য হওয়া না হওয়া, পছন্দের দলের পতাকা কিনে আনা, লাগানোর জন্য বড় ভাইকে জ্বালানো এসবের মাঝে যদি কেউ দেশপ্রেম-অপ্রেমের থিওরি নাজিল করতে চায় তো বলার কিছু থাকে না। মাঝেমধ্যে খুব ক্লান্ত লাগে।


ফেসবুকে আমরা সবকিছু নিয়েই উগ্রপন্থীদের মতো আচরণ করি। মানুষের আবেগ অনুভূতি বুঝতে না চেয়ে নিজের মতো করে সবাইকে বিচার করি। আমাদের চিন্তাধারায় একটু পরিমিতিবোধ দরকার।


একটা বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপ কেবল এক বলের পিছনে দুই দল মানুষের পরিশ্রমের আসর না। এই আয়োজন একটা উৎসব। এক দেশের সাথে অন্য দেশের পরিচয়, ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, মানুষে মানুষে পরিচয়, ভাব অভাবের আদান প্রদান আর অন্য দেশকে সম্মান করে অন্য দেশের একটা মানুষকে এমনকি “অন্য দেশের একটা নির্দোষ পতাকাকে ভালোবেসেও” নিজের দেশকে ভালোবাসার স্বদেশপ্রেমের যে সার্বজনীন সংজ্ঞা তাকে সমুন্নত রাখা যায় যদি হৃদয়ে নিজ দেশের জন্য আসলেই ভালোবাসা থাকে। আপনারা যারা জ্ঞানী গুণী এবং দেশবরণ্য (ফেবু-বরেণ্য হবে) দেশপ্রেমিক আছেন আসুন বিনা কারণে ঘৃণা করতে না শিখিয়ে ভালোবাসতে শেখাই অন্য দেশ, দেশের মানুষ, অন্য দেশের পতাকাকে। আর সবচেয়ে বেশি ভালোবাসাটা জমা করে রাখি নিজের দেশের জন্য। ক্ষতি কী...!?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×