somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মইনুল রোডের বাড়ির মেঝেতে খালেদাকে লেখা শফিক রেহমানের চিঠি

১৬ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মইনুল রোডের বাড়ির মেঝেতে খালেদাকে লেখা শফিক রেহমানের চিঠি
রহমান মাসুদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি

ঢাকা: ভাষণ একজন রাজনৈতিক নেতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা। এর বলেই আম জনতার কাছে বেড়ে যায় নেতার গ্রহণযোগ্যতা। আবার কখনো এর দুর্বলতায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কমে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাই রাজনীতিকরা ব্যবহার করেন পেশাদার স্পিচ রাইটার বা ভাষণ লেখক।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের ভাষণ লিখে দিতেন টমাস জেফারসন, জেমস মেডিসন ও আলেকজান্ডার হ্যামিলটন। ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট এ কাজে ব্যবহার করতেন বিখ্যাত নাট্যকার রবার্ট শেরউডকে। জন এফ কেনেডির বেশির ভাগ ভাষণই লিখতেন তার কাউন্সিলর থিওডোর সোরেনসন ও ইতিহাসবিদ আর্থার এম. শ্লেসিঙ্গার। আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী ভাষণ লিখতেন জন ফেবেরু।

আবার কোনো স্পিচ রাইটারের সাহায্য না নিয়েই ভাষণ দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান গণতন্ত্রের জনক আব্রাহাম লিংকন। তার বিখ্যাত ‘গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস’ মানবেতিহাসের অন্যতম সেরা ভাষণগুলোর একটি। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ছিলেন অনলবর্ষী বক্তা। তার ভাষণেরও কোনো লেখক ছিলো না। এমনকি কোনো নোটের সাহায্য ছাড়াই ভাষণ দিতেন বঙ্গবন্ধু। তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি বাঙালি জাতিকে দিয়েছিল ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির প্রেরণা আর স্বাধীনতার দিকনির্দেশ। তার ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’--এই উক্তি আজ বাঙালির চিরকালের মুক্তির বীজমন্ত্র হয়ে আছে।

বাংলাদেশের বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ভাষণ লেখক হিসেবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের নাম শোনা গেলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি কখনোই। তবে ভাষণের কলা-কৌশল, শব্দ চয়ন ও প্রয়োগ থেকে সংশ্লিষ্ট সবারই ধারণা, ২০০১ সালের নির্বাচনী ভাষণ এবং পরবর্তী সময়ে তিনি ক্ষমতায় আসার পর তার ভাষণগুলো লিখতেন জনপ্রিয় কলাম লেখক ও সাংবাদিক শফিক রেহমান। কিন্তু তার প্রমাণ ছিলো লোকচক্ষুর অন্তরালেই। আড্ডায় আলোচনায় এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে কথা হয়েছে অনেক।

শফিক রেহমান নিজে কখনোই এ কথা স্বীকার না করলেও এর একটি প্রমাণ বাংলানিউজের হাতে এসেছে।

গত ১৪ নভেম্বর আইএসপিআর ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সদস্যরা যখন সাংবাদিকদের সেনানিবাসে খালেদা জিয়ার ছেড়ে আসা ৬ মঈনুল রোডের বাড়িটি দেখাতে নিয়ে যান, তখন একটি কভার লেটারসহ এমন একটি ভাষণের কপি অযত্নে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খালেদা জিয়ার শোবার ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকা ওই কপিটি ছিল ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে শফিক রেহমানের লিখে দেওয়া একটি নির্বাচনী ভাষণের প্রথম খসড়া। বাংলানিউজের আলোকচিত্রী তুলে আনেন দৈনিক যায়যায়দিনের প্যাডে লেখা সেই খসড়া ভাষণের কভার লেটারটির চিত্র।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসে। এরপর শফিক রেহমান জোট সরকারের কাছ থেকে তেজগাঁওয়ে শিল্পপ্লট বরাদ্দ নেন। সেখানে তিনি ২২ বছর ধরে প্রকাশ হয়ে আসা সাপ্তাহিক যায়যায়দিনকে দৈনিক হিসেবে প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। এ সাপ্তাহিকে তিনি ‘দিনের পর দিন’ নামে কলাম লিখে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন।

দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকাটির অফিস সে সময়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল ‘যায়যায়দিন... মিডিয়া কমপ্লেক্স’ নামে পরিচিতি পায়।

জোট আমলেই তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে লাল গোলাপ নামে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনে প্রচারিত হচ্ছে।

বর্তমানে শফিক রেহমান মৌচাকে ঢিল নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করছেন।

বাংলাদেশ সময় ১৮২১ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৫, ২০১০




১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×