somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাফায়াত উল্লাহ রহমত
লেখালেখি হলো আমার জগত, আমার মানস ভ্রমণের অখন্ড মানচিত্র । কল্পনার চরিত্রগুলোকে আমি লেখার জগতে বাস্তবতার ন্যায় সদর্পে চারণ করাতে চাই। আমি তাদের হাসি কান্না সুখ দুঃখে তুলির আঁচড় ছুঁয়ে দিয়ে অপছন্দের আঁকগুলো ইরেজার দিয়ে ঘষে তুলে বসাতে চাই কল্পনার রঙ ।

প্রসঙ্গ সীমান্ত যুদ্ধ এবং একজন শহীদ বীর সেনানীর প্রতি সহযোদ্ধাদের সন্মান প্রদর্শন..!!!!!!

০৫ ই জুন, ২০১৪ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দেশ প্রেম নিয়ে আমার কখনো কোন সন্দেহ ছিল না এখনও নেই। ৭১এর স্বাধীনতা যুদ্ধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বীর সদ্যসদের বীরত্বগাঁথা আমাদের সকলেরই যেমন জানা আছে ঠিক তেমনি জানা আছে ১৯৯১ এ মিয়ানমার সীমান্ত বা ২০০১ এর পাদুয়া-রৌমারী সীমান্ত যুদ্ধে বিজয়ের ইতিহাস...
জাতি হিসেবে আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষ যুদ্ধ মনভাবাপন্ন না হলেও যুদ্ধ লেগে গেলে বা দেশের স্বার্থে যুদ্ধে অংশ নিতে কখনো পিছু হটেনি। স্বাধীন সার্বভৌম রাস্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর হতে দেশের সীমান্ত রক্ষায় যেমন বি,ডি,আর জওয়ানরা জীবন দিতে পিছু হটে নাই ঠিক তেমনি স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের কোন সরকারেরই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বাজেট বাড়ানো ছাড়া কমানোর নজীর নেই...
পূর্ববর্তী সকল সীমান্তযুদ্ধে বা উত্তেজনায় আমরা দেখেছি আমাদের একজন জওয়ান আহত হলে বা তাদের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে বিনিময়ে প্রতিপক্ষের একাধিক লাশ বা পলায়নের ইতিহাস... গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাতৃভুমির ভুখন্ড রক্ষার জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিজিবি ও বিজিপির সদস্যরা নিয়মিত টহলে বের হয়েছিলো। টহলের এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা ৫২ নমবর সীমান্ত পিলারের কাছে পৌঁছানো মাত্র বিজিবি সদস্যদের ওপর বিনা উস্কানিতে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে মিয়ানমারের বিজিপি। এ ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নায়েক মিজান। মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। এলাকায় ছড়িয়ে থাকা রক্ত মাখা মাটিই বলে দেয় গুলি লাগার পর তার দেহটি এ দেশের মাটিতে পড়েছিল। পরে মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা নায়েক মিজানুরের নিথর দেহটি নিয়ে গেছে বলে বিজিবির একটি সুত্র নিশ্চিত করে।
আমার প্রশ্ন হল আমদের বিজিবিতো মিয়ানমারের সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে নাই, তারা তাদের সীমান্তেই ছিল এবং মিয়ানমারের বিজিপি অন্যায় ভাবে গুলি ছোড়ার পর মিজান এই দেশের মাটিতেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তা হলে গুলিবিদ্ধ বা মৃত মিজানকে কেমন করে তারা তাদের ক্যাম্পে নিয়ে গেল...??? এবং নিয়ে যাবার সময় তার অপর সঙ্গীদের ভুমিকা কি ছিল...??? তারা কি সন্মুখ যুদ্ধে ভয় পেয়ে নিজের জীবন নিয়ে পলায়ন করেছিল...??? নাকি বিজিপির অন্যায় গুলি বর্ষণের প্রতিবাদে পাল্টা জবাব দেয়ার সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায়ও মিজান গুলি ছুড়তে ছুড়তে তাদের ধাওয়া করতে করতে তাদের সীমান্তে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেছিল...??? অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান মিজানের ক্ষেত্রে ২য় টা হবার সম্ভবনাই বেশী...
মুক্তিযুদ্ধের সময় বিডিআর’র ল্যান্স নায়েক ছিলেন শহীদ আবদুল হাফিজ। ১৯৭১ সালে দেশের জন্য লড়াই করে কোনো এক প্রান্তে তিনি প্রাণ হারান। যুদ্ধের পরেও তার লাশ খুঁজে পায়নি পরিবার। পরে বাবার পথ দেখেই বিডিআর-এ যোগ দেন ছেলে মিজানুর রহমান। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) ৩১ ব্যাটালিয়নের নায়েক পদে চাকরিরত ছিলেন। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর একই বাস্তবতার মুখোমুখি হন মিজানুর রহমান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে বাবার মতই হারিয়ে গিয়ে দুই দিন পর তার লাশ হওয়ার খবর পাওয়া পায় তার পরিবার সহ দেশবাসী।
দেশের জন্য জীবন দিতে পারাটা যে কোন সৈনিকের জন্য গর্বের পরবর্তীতে দেশের সরকার তার পরিবারের জন্য কিছু করুক না করুক। কিন্তু মৃত্যুর পর ভিন্ন দেশের সাথে ফ্ল্যাগমিটিং করে লাশ হয়ে দেশে আসার পর তারই এত দিনের সহকর্মীরা যখন নাকে রুমাল চেপে ভাড়া করা লেবার দিয়ে তার মরদেহ নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে আসে তখন তার আত্না কতটা লজ্জাবনত হয়েছে তা কি কেউ একবার ভেবে দেখেছেন...????
দেশের তরে জীবন বিসর্জনকারী মুক্তিযোদ্ধা পিতার সীমান্তযুদ্ধে সম্মুখ সমরে নিহত বীরসেনানীর লাশ পরিবহনের এই করুন দৃশ্য দেখে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে...
ক্ষমা করো আমাদের মিজান তুমি হয়ত জানতে না বিডিআরের নাম এবং পোশাক পরিবর্তনের সাথে সাথে আরেকটা জিনিসেরও পরিবর্তন হয়েছে, আর সেটা হল সহযোদ্ধার প্রতি ভাতত্ব প্রদর্শন... ।।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৪ রাত ১১:৫৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×