somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রায়হানুল এফ রাজ
আমি ভালোবাসাহীন জগতের বাসিন্দা, জীবন যেখানে নীরস। প্রতিনিয়ত খুঁজে যাই ভালবাসার রূপ এবং অবগাহন করতে চাই যুক্তির সাগরে।

সভ্য-অসভ্য-সভ্যতা ও আমরা

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাজার বছরের পরিক্রমায় আমরা পাল্টে ফেলেছি আমাদের পোশাক , বাহ্যিক আবরণ ও আমাদের আচরণ। আমরা নিজেরাই নিজেদের জাহির করেছি সভ্য হিসেবে। প্রাচীন মানুষদের আখ্যায়িত করেছি অসভ্য , বর্বর, চাষা হিসেবে। কোন রকম অনুশোচনা হয়নি আমদের যদিও তারাই ছিল আমাদের পূর্ব পুরুষ । কিন্তু এই কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের সমসাময়িক অবস্থা আমাদের মেনে নিতে বাধ্য করাচ্ছে যে, আসলে তারাই ছিল সভ্য এবং তাদের বদলে আমরাই হচ্ছি অসভ্য।
আমার কথা গুলো পড়ে অবাক লাগছে, তাই তো? লাগারই তো কথা। আমরা বাস করি আধুনিক যুগে । তাহলে আমরা যে অসভ্য তার যুক্তি কি? যুক্তি তো আছেই। তবে আমার কথা খারাপ লাগলেও আমাকে দোষী ভাববেন না, কারণ কথা গুলো অপ্রিয় হলেও সত্যি।
আমরা সভ্য তাই আমরা পহেলা বৈশাক পালন করি অনেক আয়জনের মাধমে। কিন্তু অনুষ্ঠান স্থলে তরুণীদের শাড়ি ধরে টানা, তাদের ব্লাউজ ছিরে ফেলা আমাদের অসভ্য আচরণের দিকেই আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আমরা বড় বড় গাড়ি ব্যবহার করি । তাহলে অবশই আমরা প্রাচীন মানুষদের চেয়ে সভ্য,কারণ আমরা সভ্যতার উপাদান ব্যবহার করি । তাই যদি হয় তাহলে আধুনিক যুগে আমার সভ্য হয়ে সভ্যতার উপাদান ব্যবহার করে চলন্ত গাড়িতে যে তরুণী ধর্ষণ করি , সেটাও কি সভ্য মানুষের আচরণ ?
আমাদের তরুণেরা (সভ্য) যেন ইভটিজিং না করে এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে সে জন্য আমাদের সরকার প্রতি জেলায় কেন্দ্রীয় ভাবে সকল স্কুল এর ছাত্র ও ছাত্রী নিয়ে সমাবেশ করে সকলকে শপথ করিয়েছে । আমি নিজেও বাক্তিগত ভাবে তেমনই এক অনুষ্ঠানে উপস্থিথ ছিলাম । মহৎ অনুষ্ঠানের মহত্ত্বটা আমার মনে ঠিক তখনই মলিন হয়ে গিয়েছিলো যখন আমি দেখেছিলাম এক ছেলে ডান হাত তুলে শপথ করছে ঠিকই কিন্তু একই সময়ে বাম হাত দিয়ে অদূরে দাঁড়ানো একটি মেয়েকে ঢিল ছুঁড়ছে । সভ্য হতে এসে আমাদের অসভ্য আচরণ! আসলে দোষ কার? সভ্য যুগে আমাদের আচার-আচরণ এমন কেন ? আমরা যদি খারাপ কাজ না করার শপথ নিতে না নিতেই খারাপ কাজ করি তাহলে কিভাবে আমরা সভ্য হলাম?
বাস, ট্রেন ইত্যাদি যান – বাহনে যাতায়াত করার সময় আমরা যাত্রার শুরুতে বা মাঝে সেলফি তুলি । আমার পেছনের সিটে যে লোক মহিলা বা তরুণী বসে আছে সেটা কি আমরা লক্ষ্য করি? আধুনিক সভ্যতার দোহাই দিয়ে আমরা সভ্য হচ্ছি নাকি অসভ্য হচ্ছি সেটা তো আমরা ভাবীই না বরং আমরা কি কোন দিন ভেবেছি যে, আধুনিক সভ্যতা আমরা কি ভাবে ব্যবহার করছি?
মোবাইল ফোনে আমরা কেন মেয়েদের বিরক্ত করবো? কেন ইনটারনেটে অন্য কারো খারাপ ছবি ছড়িয়ে দেবো?
তবুও আমরা এ সব করি । কেন করি তাও জানি । কিন্তু আমরা নিজেদের সংশোধন করি না। আমরা এমন এক সভ্য জাতি যারা নিজেদের দোষ বুঝতে পেরেও তা সংশোধন করার জন্য কোন রকম চেষ্টা করি না । সমাজের মহৎ বাক্তিরা প্রতিনিয়ত আমাদের আত্ম-উন্নয়ন যেন সাধিত হয় তার জন্য সংগ্রাম করে আসছেন । কিন্তু আমাদের জন্য তাদের এই শ্রম এর আমরা কোন মূল্য দেই না । উদাহরণ সরূপ বলা যায় যে, প্রতিনয়ত যে কলাম গুলো বিভিন্ন সংবাদ পত্রে লেখা হয় সে গুলো আমরা কজনই বা পড়ি? এসব পড়লে যে আমাদের আত্মার উন্নয়ন হয় তা আমরা কেউ বুঝতে চাই না।
“পদ্মানদীর মাঝি” উপন্যাসে লেখক তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার সাথে মানুষের সামগ্রিক জীবন যাপন এর চিত্র তুলে ধরার জন্য বলেছেন “প্রাচীন সভ্যতার আবেষ্টনী, অভিনয় সুমার্জিত সভ্যতার”। প্রাচীন কালের মানুষদের আমরা অসভ্য বলি । আর এখন যদি আমরা আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটের দিকে তাকাই তাহলে আমরা যা দেখতে পাই তা যদি লেখকের ভাষায় বলতে হয় তাহলে বলতে হবে “আধুনিক সভ্যতার আবেষ্টনী, অভিনয় ঘৃণিত সমাজ ব্যবস্থার”।
শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আমাদের উচিৎ সভ্য রুপ ধারণ করা, সভ্যতার উপাদান গুলো সঠিক ভাবে ব্যবহার করা, সর্বোপরি প্রাচীন মানুষদের খারাপ গুণগুলো বর্জন করে তাদের ভাল গুণগুলো গ্রহন করা । তাহলে জনে জনে আর বলতে হবে না আমরা সামাজিক জীব । আমাদের সামাজিক কর্মকাণ্ড গুলোই আলোকপাত করবে আমরা কতোটুকু সামাজিক।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৫৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×