
বাবা এটা মুখস্ত করেছো? বাবা ওটা মুখস্ত করেছো? ইত্যাদি নানা রকম প্রশ্ন শুনতে শুনতে আমাদের ছোট থেকে বড় হতে হয়েছে। শুধু বাড়িতে নয়, স্কুলেও আমাদের এই সব কথা প্রতিনিয়ত শুনতে হয়। এখন ইঙ্গিনিয়ারিং পড়তে এসে প্রতিনিয়ত গাইতে হয় মুখস্তের গান। শুনলে হয়তো কেউ খুব অবাক হতে পারে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রায় ৮৫% গনিতসহ সবকিছু মুখস্ত করে। আমার কিছু মেধাবী বন্ধু মেডিকেলে পরে, সত্য কিনা জানি না তাদের সব সময় মুখস্তের উপর থাকতে হয়। অবস্থা এই সব জায়গায় এমন যে বোঝার কোন দরকার নেই, মুখস্ত করো।
সময়ের প্রয়োজনে ছাত্রদের অনেকেই টিউশনি করায়। আমিও একজন ছাত্রকে পড়াই। সে আমার কাছে এক আজব অভিযোগ করেছে। তাকে ক্লাসে খুব অপমান করা হয়েছে। তার প্রথম দোষ তাকে লম্ব অভিক্ষেপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো সে পুরো ব্যাপারটা মুখস্ত না করে কেন বুঝিয়ে বলল। তার আরও একটি অদৃশ্য দোষ আছে। সেই দোষটি হচ্ছে আমার সেই ছাত্র সেই মুখস্ত প্রিয় মহান স্যার এর কাছে প্রাইভেট পরে না। আমার কাছে সেই প্রাইভেট পরানর ব্যাপারটা আপাতত গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে না বুঝে মুখস্ত করার বিষয়টা। কবে আমরা এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসব?
আমাদের দেশের কিছু শিক্ষাবিদদের ডেকে এনে সরকার সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করল। তাতে কার কি লাভ হল আমি ঠিক জানি না ,তবে একটা কথা বলতে পারি এই পদ্ধতি চালু করার পর অসাধু প্রকাশক ও কিছু কোচিং সেন্টার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। সরকার বরাবরের মতো লোক দেখানো অভিযান করল, এবং সেই কারবার এখনো বহাল তবিয়তে আছে। যে মুখস্ত বন্ধ করার জন্য এত কিছু সেই জায়গায় এখন ছাত্রদের আরও বেশি বেশি মুখস্ত করতে হচ্ছে। কারণ, গাইড বই ওয়ালাদের সাথে কিছু শিক্ষকের “মাসতুতো ভাই”য়ের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
যে যত বেশি মুখস্ত করতে পারবে সে তত বেশি সফল। এই রকম সফলতার সিঁড়ি দেখিয়ে আমরা আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিভা নষ্ট করছি। সরকারের সেই দিকে লক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, দেশে যত বেশি শিক্ষিত মূর্খ তৈরি হবে তত বেশি মানুষ ন্যায় প্রশ্ন করার সাহস অর্জন করতে পারবে না। তরুণ সমাজের একটি প্রশ্নের জবাবও সরকারের কাছে নেই।
প্রতিভা ধ্বংসের এই জঘন্য খেলা বন্ধ করার জন্য চাই বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন।
ছবিঃইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


