somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃতির কোলে মানব মন

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষের মন পৃথিবীর সব চেয়ে পরিবর্তনশীল ও ক্ষণস্থায়ী অবস্থার মধ্যে থাকে। প্রতিনিয়ত এই সত্ত্বা এমন কিছু ঘটনার মধ্যে পতিত হয় যে স্বয়ং তার চেতন অবস্থাও ধরতে পারে না। কিছু সময় অবচেতন অবস্থায় মন কিছু সময়ের জন্য সেই ঘটে যাওয়া বিবর্তন ধরতে পারে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে যেহেতু মানুষ উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী সেই উষ্ণ রক্তের প্রভাব মাঝে মাঝেই মানসিক সত্ত্বাকে প্রভাবিত করে। কিন্তু কিছু সময় মস্তিষ্কের কিছু গ্রন্থি আমাদের বাহ্যিক অবস্থার উপর বিবেচনা করে কিছু হরমোনের নিঃসরণ ঘটায় যে সব হরমোন মানসিক সত্ত্বাকে উত্তেজিত করে দেয়। সেই অবস্থায় একজন মানুষের পশু হয়ে যাওয়াও কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার হতে পারে না।
আসলে শিরোনামের সাথে আমার উপরিউক্ত কথা গুলোর মেলবন্ধন কোথায়? একটা গভীর মিলত তো অবশ্যই আছে। মানুষ একমাত্র প্রকৃতির কাছেই বিনা দ্বিধায় নিজেকে সঁপে দেয়। হয় তো মানুষের চেয়ে প্রকৃতি অনেক শক্তিশালী বলে। কিংবা প্রকৃতির মাঝেই সারা জীবন তাকে থাকতে হবে বলেই এতো আকুলতা প্রকাশ করে।
প্রায়ই দেখা যায় যখন মানুষ মানসিক দিক দিয়ে সম্পূর্ণ অন্যরকম অবস্থায় বিরাজ করে ঠিক তখনই মানুষ প্রকৃতির কোলে ফিরে যায়। পৃথিবীতে অনেক অনেক উদাহরণ আছে যা আমরা মনোবিদ্যার বিভিন্ন বই কিংবা জার্নাল থেকে জানতে পারি যে মানুষের মনের কঠিন অবস্থায় মানুষ সম্পূর্ণ নিরব ও শান্ত পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে এবং মানুষ যদি সেই অবস্থায় নিরিবিলি পরিবেশে না যায় তবে অনেক সময়ের পরিক্রমায় মানুষ অনেকটা এবনরমালিটিতে পতিত হয়। যা এক সময় মানুষকে পাগলে পরিণীত করতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। লেখকদের বেলায় সেটা রাইটার্স ব্লক এর মতো মারাত্মক অবস্থার জন্ম দেয়। মনবিজ্ঞান যাকে অসময়য়ের অস্বাভাবিকতা হিসেবে বিবেচনা করে।
প্রাচীন কাল থেকে মানুষের সাথে প্রকৃতির গভীর সম্পর্কের কথা আমরা প্রাচীন বিভিন্ন পুঁথি, নথি ইত্যাদি থেকে পাই। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে চলেছে। তারা অনুধাবন করতে পেরেছিল যে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া মানে নিজেদের জীবনের বিপদ ডেকে নিয়ে আসা। সম্ভবত এই প্রেক্ষাপট থেকেই তখন থেকে মানুষের সুখ দুখের আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রকৃতির আত্মপ্রকাশ।
বর্তমান কালও সেই অবস্থা উপেক্ষা করতে পারে না। মানুষের আশার আশ্রয় স্থল হিসেবে প্রকৃতির নাম উঠে এসেছে বিভিন্ন লেখক ও কবির লেখায়। ভালোবাসার উৎস হিসেবে প্রায় সবাই প্রকৃতির অবদানের কথা বিনা বাক্যে স্বীকার করেছেন। আজও আমরা মন খারাপের বেলায় প্রকৃতির কাছে, প্রকৃতির নির্জনতার কাছে ছুটে যাই।
যারা কাউন্সেলিং করেন তারা কোন আত্মহত্যা প্রবণ মানুষকে মোটিভেট করার জন্য সেই মানুষটিকে নিয়ে ছুটে যান কোন নির্জন জায়গায় কিংবা কোন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোলে। একটা ব্যাপার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত যে, কোন হিংস্র পশুও প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে তার হিংস্রতা সঁপে দেয়। কোন রাগান্বিত মানুষের রাগও প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে কিছুই নয়।
একজন আত্মহত্যা প্রবণ মানুষ যদি কিছু সময়ের জন্য প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে নিজেকে সঁপে দেয় তবে তার মাঝে আর সেই ভাব থাকে না। সেই মানুষ নিজের মাঝে প্রকৃতির ভালবাসা ধারন করতে বাধ্য হয়। এমন অনেক নজির আছে যে মানুষ সেই অবস্থা থেকে ফিরে পরবর্তীতে সুখি জীবন যাপন করেছে।
প্রকৃতির রূপ যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসার সঞ্চার করে তা আমরা প্রাচীন লেখকদের পাশাপাশি আমাদের বর্তমান কালের লেখকদের লেখায়ও অহরহ পেয়ে থাকি। লেখকরা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে পুঁজি করে নিজেদের ভাবের প্রকাশ করে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাবে। সেই দিক দিয়েও মানব মনের মহিমা প্রকাশের জন্য প্রকৃতিকে বাহবা দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
মানুষের মনের অনেকটা জায়গা জুড়ে প্রকৃতির জন্য ভালোবাসা রয়েছে। তবে এই ভালোবাসা প্রায়ই মানুষের ভেতরে সুপ্ত থাকে। অনেকেই প্রকাশ করে না কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্যে যে কোন সময় অবাক হয়ে যায়। সেই সময় মানুষের অবস্থাটা দেখলে সেই মানুষের আসল পাগলামি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৫৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×