
আমার দুই বছর বয়সী মেয়েটা সারা বাড়ি জুড়ে থপথপ করে হেঁটে বেড়ায়। ড্রয়িং রুম থেকে রান্না ঘর, আমার স্টাডি রুম থেকে আমার বাবা মায়ের রুম কোথাও কোন দরজা বন্ধ করে রাখা যাবে না। করলে চিৎকারে সারা বাড়ি মাথায় তুলবে। সে হাঁটে আর আমি অপলক তাকিয়ে থাকি। মাঝে মাঝে তো অফিস যাওয়ার কথাই ভুলে যাই। আমার বউ আমাকে চোখ রাঙায়। পাছে মেয়ের নজর লাগে। আমি ঐ সব হিসেবের মধ্যেও নেই না। সে কি বলছে বলুক। ওত কথা তো শুনলে চলবে না।
বিয়ের আগে একটা ছোট্ট পরীর স্বপ্ন দেখতাম। কল্পনায় লাল রঙের ফ্রকে তাকে সাজাতাম। দেখতাম চোখের সামনে সে হাঁটছে, দৌড়াচ্ছে। কিন্তু আমার মেয়েটা সেই পরীকেও হার মানিয়েছে। মাঝে মাঝে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই। এতো সুন্দর একটা পরী আমার ঘরে!
যখন আমি লিখতে বসি তখনকার সেই সময়টা হচ্ছে আমার মেয়ের কাছে সবচেয়ে অপ্রিয় সময়। দুই বছরের মেয়েটা যে কীভাবে বুঝেছে যে আমি এই সময় তাকেও পাত্তা দেই না আমি সেটা নিজেও বুঝি না। সে আমার পাশে এসে মাউসের তার নিয়ে টানাটানি করে। মাউস হাতে দিলে সেটার ইউএসবি পোর্ট হাতের মুঠোয় নিয়ে মাউসটাকে গাড়ি বানায়। আর আমার দিয়ে মুচকি হাসে। আমি অবাক হয়ে যাই।
যখন আমি আমার মেয়েকে নিয়ে আবেগে গড়াগড়ি করি ঠিক তখনই তার অল্প অল্প বেড়ে ওঠা আমাকে ভাবায়। শুধু ভাবায় না, কাঁদায়। এই মেয়েটা বড় হলে রাস্তায় একা একা চলতে পারবে না। হায়েনারা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাবে, সময়ে অসময়ে বিরক্ত করবে, পারলে খুবলে খাবে। আমি আর কিছু ভাবতে পারি না, ভাবতে চাইও না।
যারা ক্যামেরার সামনে অনেক বড় বড় কথা বলেন তারা কি পারবেন আমার এই পরীটির জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে দিতে?
ছবিঃ ইন্টারনেট
© লেখক
রায়হানুল ফেরদৌস রাজ
ঝিনাই কুঁড়ির পাড়
পঞ্চগড়।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৭ রাত ২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




