somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ্যানেকডট 7 ।। মিসেস মার্টিন ফন বুশেলের দেহরক্ষা

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিসেস মার্টিন ফন বুশেলের দেহরক্ষা

মি. মার্টিন ফন বুশেল (Martin Van Butchell) 1760 দশকের হাই প্রোফাইল লন্ডনবাসী আছিলেন। বেপোরোয়া জীবনযাপন ও প্রায় সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড তারে প্রচুর কুখ্যাতি আইনা দিছিল। ভদ্রলোকটিকে গোলাপী ডট অাঁকা একটা সাদা ঘোড়ার উপরে গাধার চোয়াল হাতে দেখা যাইত। তিনি ওই চোয়ালের হাড্ডি নাড়াইতে নাড়াইতে লন্ডনের রাস্তায় ঘোড়াঘুরি করতেন। দন্তচিকিৎসায় সুনাম তারে অনেক বিত্ত আইনা দিছিল। বিজ্ঞাপনে প্রকাশ থাকতো যে তিনি বিনা ব্যাথায় দাঁত লাগাইতে ও তুলতে পারেন। তবে বুশেল ইতিহাসে বিখ্যাত হইয়া আছেন মৃত স্ত্রীর প্রতি তার আত্যন্তিক অনুরাগের কারণে।

মিসেস ফন বুশেল তার অশান্তিময় বৈবাহিক জীবনের উত্তরাধিকার হিসাবে একটা আক্রোশপূর্ণ উইল কইরা গেছিলেন। যার ডিক্রি মতে সম্মানীয়া মিসেস ফন বুশেলের মৃতু্য ও সমাধি (The moment i am dead and buried) হওনের লগে লগে স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি চইলা যাইব মিসেসের দূর সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনদের ভোগদখলে।

কৃতবিদ্য দন্তচিকিৎসক মনে করতেন তিনি দলিলে একটা ফাঁক খুঁইজা পাইছেন। 1775 সালের 14 জানুয়ারি স্ত্রী ম্যারির মৃতু্য সম্পন্ন হইলে মি. বুশেল সিদ্ধান্ত নেন প্রতিশোধকামী স্ত্রীর মৃতদেহ তিনি আদৌ সমাধিস্থ করবেন না। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তার শিক্ষক ড. উইলিয়াম হান্টার এবং ড. উইলিয়াম ক্রুইকশাংকের শরণাপন্ন হইলেন তিনি। ডক্টরদ্বয় মিসেস বুশেলের মৃতদেহ সংরক্ষণে তারে সহযোগিতা করেন। দুই ডাক্তার মৃতদেহের ধমণীতে তারপিন তেল (oil of turpentine) ও ক্যাম্পহোরেটেড স্পিরিট ওফ ওয়াইন (camphorated spirit of wine) ইনজেক্ট করেন। এবং চোখের জায়গায় তারা গ্লাস আই লাগাইয়া দেন। এরপরে মৃত-ভদ্রদেহটারে লেস গাউন পরাইয়া প্লাস্টার অফ প্যারিসে আটকাইয়া দিয়া কাচের ঢাকনা অলা কফিনে সাঁইটা দেওয়া হয়।

ড্রয়িং রুমে রাখা হইছিল ম্যারির মৃতদেহ। সপ্তাহের সোমবার থিকা শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল 9টা থিকা দুপুর 1টা পর্যন্ত বুশেল তার বাড়ি কাম চিকিৎসালয়ের জানালায় ডেডবডি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করছিলেন। মৃত স্ত্রীরে তিনি সর্বদা 'মাই ডিয়ারলি ডিপার্টেড' বইলা সম্বোধন করতেন। যদিও প্রচুর লন্ডনবাসী এই প্রদর্শনী দেখতে আসত তবু অনৈতিক প্রদর্শনীর জন্য বুশেলের অনেক নিন্দা হয়। দর্শকের ভিড়ে বিরক্ত হইয়া শেষে বুশেল প্রদর্শনে কড়াকড়ি আরোপ করেন। সেন্ট জেমস ক্রনিকল-এর 21 অক্টোবর 1775 সংখ্যায় বুশেল একটা বিজ্ঞাপন দিছিলেন : 'ফন বুশেল আগ্রহীদের অবহিত করছেন এই বলে যে, কোনো আগন্তুক এখন থেকে বুশেলের পূর্বানুমতি ব্যতিত তার স্ত্রীর মৃতদেহ দেখতে পাবেন না। অনুমতির জন্য রোববার বাদে যে কোনোদিন নয়টা থেকে একটার মধ্যে যোগাযোগ করুন।'

বুশেল পরে আরেকটা বিয়া করেন। নতুন স্ত্রী এলিজাবেথ পুরাতন স্ত্রীর মৃতদৈহিক উপস্থিতি মাইনা নিতে চান নাই। ফলে বাড়ি থিকা অক্ষয় মৃতদেহটা সরাইতে বাইধ্য হন বুশেল। ড. হান্টারের এক ভাইয়ের মিউজিয়ামে মৃতদেহটা তিনি দান কইরা দেন। শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত দেহ গিয়া পৌঁছায় দি রয়েল কলেজ অফ সার্জনস-এ।

মিসেস বুশেলের সমাধিস্থ হওয়ার লিগাল বাসনা প্রায় 166 বছর ধইরা অপূর্ণ থাইকা গেছিল। পরে 1941 সালে হিটলারের সৈনিকগো বোমার আঘাতে কলেজের ল্যাবরেটরি মিসমার হইলে তিনি ভূগর্ভস্থ হইছিলেন, এমন ধারণা করন যায়।

ছবি : মাটিন ফন বুশেল
লেখাটা শুদ্ধ নাগরিক 'ডায়ালেক্টে' যায়যায়দিন পত্রিকার 19/10/6 সংখ্যায় ছাপা হইছিল।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×