somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প // সিডনিতে এপ্রিলে (2003)

১৫ ই মে, ২০০৬ রাত ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিডনিতে এপ্রিলে
--------------

আমি সিডনি গেছিলাম এপ্রিলের 25 তারিখে। 28 তারিখে ফিরছি। সুব্রত দা'র বাসায় ছিলাম। ভালোই। অপেরা হাউস দেখাইতে নিয়া গেছিলেন। তারপরে একটা বীচেও গেছিলাম।

সুব্রত দা'র বাপমাবইন সকলেই সিডনি থাকে। দুই বইনের বড়জন আগে সিডনি যখন আইছিল, অস্ট্রেলিয়ান খ্রিস্টান (উনিও খ্রিস্টান) যুবকরে বিয়া কইরা পরে এহন অনেক দিন থিকাই এইখানে থাকে। তাঁর সন্তানাদির সকলকেই গড শাদা অস্ট্রেলীয় গাত্রবর্ণ দেওয়ায় উনি সুখি হইছেন। খাওয়া-দাওয়া সবই নাকি অজিদের (মানে অস্ট্রেলাবাসীদিগের) মত করেন। সুব্রত (দা)-র বাপ বললেন তাতে নাকি আনন্দ অনেক।

আমি ওনাগো দুইজনরে (সু'র মাবাপ) কইছি, পোলারে দেশে পাঠান। আপনেগো বয়স বাড়ছে বইলা শান্তি চান, সেইটা অস্ট্রেলিয়ায় আছে; ছেলে তো আপনের সাহিত্য করে। তার দেশ দরকার, বন্ধুবান্ধবী দরকার। তারা আমার যাওয়া উপলক্ষে ভালো রান্ন্াবান্না করছিলেন। আঙ্কেল রানছিলেন বাইলা মত মাছ, সঙ্গে আলু ছিল। সালাদ কাটছিলেন। গরুর মাংস ছিল তরকারি হিসেবে। আন্টি চিংড়ি মাছ রানছিলেন। কিন্তু আমার বক্তব্যে ওনাদের শান্তি কিনচিৎ বিঘ্ন হইছিল। ওনারা যে আমারে আর ডাকবেন না, সে আমি বুঝছি। বোঝার পরে আমি আরো কিছু কথা ওনাদেরকে বললাম। বললাম, ঢাকায় আপনেগো বাড়ি আছে, সেইটা আপনেরা বেচতে চাইতেছেন কেন? আপনের পোলা মাইয়ারা গেলে কই থাকব? অস্ট্রেলিয়ায় এতেক শান্তি থুইয়া তারা যে দেশে যাইব না, এই ব্যাপারে তাদের তো বটেই, আমারও সন্দেহ নাই। খালি লেখক পোলারে নিয়া তাদের অস্বস্তি।

আংকেল বিক্রমপুর গেলে এখনও নাটক করেন। কইলেন, কেন্, তুমি তো আছোই। আরো যারা তোমাগো লেখক বন্ধু আছে হেগোরে এই দেশে নিয়া আসো। আমি কইলাম, আমি তো আসছি এক বছরের লাইগা। আর লেখকরা এইখানে আইসা কী বাল ফালাইবো। অস্ট্রেলিয়ার নিজের লেখকরা আছে না।

আসলে বাল ফেলানোর কথাটা ওনারে আমি বলি নাই। এখন লেখতে গিয়া আসলো, থাকুক। নাকি কাটুম? অস্ট্রেলিয়ার নিজের লেখকরা থাকলে বাংলাদেশের লেখকরা এইখানে আসাতে কী ক্ষতি, তা নিয়া আংকেল কোনো প্রশ্ন আমারে করেন নাই। করলেও তার কী জবাব আমি দিতাম? বাংলাদেশের লেখকরা এইখানে না আইসা ওইখানে থাইকা কী বালটা ফালাইতেছে। দেখলাম বাল ফেলানোর প্রসঙ্গটা এইখানে বেশ যুইৎ মতো বসে। বেহুদা মুরবি্ব ভদ্রলোকরে এই রকম অশ্লীল শব্দের মুখোমুখি না করাই ভালো। তায় তিনি সুব্রতদার জনক। আবার উনি আমার জন্য রান্নাও করছেন। রান্না ভালোও হইছে।

এখন এই উৎপলদার ভাষায় আমি অস্ট্রেলিয়া নিয়া আর কী লেখুম। কই কই গেছিলাম লেখন যায়। তা তো লেইখা মজা নাই। আমি তো আর ব্যাকপ্যাকার্স না। এমনকি ভ্রমণকাহিনীর লেখকও না। যে আমি লেখলাম আর ওই পইড়া কম পয়সায় পত্রিকা কিন্নাই দেশের লোক ভ্রমণ সারলো।

--------
ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া, মে 2003
ছবি: অপেরা হাউসের লগের একটা রেস্টুরেন্ট মনে হয়। এইখানে নাকি আগে লোকজন ধইরা বন্দি কইরা রাখতো। সুব্রত দার ছবি হেরে জিগাইয়া আপলোড করুম নে পরে।

প্রথম প্রকাশ: 20/7/2005, বাংলা গদ্য সঞ্চালন
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×