somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ফেরাউন

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইতিহাসে মিসরের এককালীন সম্রাটদের রাজকীয় উপাধি ছিল ফেরাউন। ফেরাউন, যাকে আমরা ২য় রামেসিস নামে চিনি, তার মৃত্যু নিয়ে কোরআন এবং বাইবেলে সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণিত আছে। এই ফেরাউন নামটি কুরআনের ২৭টি সূরায় ৭৪ বার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাচীন মিসরের রাজধানী ছিল পেন্টাটিউক। নীল নদের তীরে এই নগরে বাস করতেন মিসরের ‘ফেরাউন’ রামেসিস। নগরের শেষ প্রান্তে ইহুদিদের বসতি। ফারাও দ্বিতীয় রামেসেস ছিলেন প্রাচীন মিশর এর একজন বিখ্যাত শাসক। তাঁর সময়কাল ১২৭৯ থেকে ১২১৩ খ্রিস্টপূর্ব। তিনি ছিলেন উনিশতম রাজবংশের তৃতীয় শাসক। ফারাও দ্বিতীয় রামেসেস-এর পিতার নাম ছিল প্রথম সেটি।

ইহুদীদের মিসর ত্যাগ করার পেছনে ফেরাউন জড়িত ছিল। বাইবেলের বর্ণনামতে, মুসার (আঃ) জীবদ্দশায় দুইজন ফেরাউনের সাথে সাক্ষাৎ ঘটেছিল। ইহুদিদের নির্যাতনকারী এবং শিশু মুসার (আঃ) পালনকারী ফেরাউন দ্বিতীয় রামেসিস হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। অথচ বাইবেলের মতে, হজরত মুসা (আঃ) মাদিয়ানে অবস্থানকালেই দ্বিতীয় রামেসিসের মৃত্যু ঘটে। ফেরাউন হচ্ছে আরবী শব্দ, যেটাকে ইংরেজী বলে ফারাও। ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ‘মেনেস’ নামের এক রাজা সমগ্র মিশরকে একত্রিত করে একটি একক রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। দক্ষিণ মিশরের ‘ মেম্ফিস’ হয় এই রাষ্ট্রের রাজধানী। এভাবে মিশরে রাজবংশীয় যুগের সূচনা ঘটে।

মহান আল্লাহ তালা কোরানুল করিমে ফেরাউনের লাশ সংরক্ষণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। এখনো সে লাশ মিশরে সংরক্ষিত আছে। কিয়ামত পর্যন্ত তা সংরক্ষিত থাকবে। হযরত মুসার জীবদ্দশাতেই তিনি যখন মাদিয়ানে ছিলেন, তখন এক ফেরাউনের মৃত্যু হয় এবং অপর ফেরাউন মৃত্যুবরণ করেন ইহুদীদের মিসর ত্যাগের কালে। অতএব একজন নয়, হযরত মুসার আমলে আমরা পাচ্ছি দুজন ফেরাউন একজন নির্যাতনের কালের অন্যজন ইহুদীদের মিসর ত্যাগের সময়কার। হযরত মুসা (আঃ) -এর সময় যে ফেরাউন ছিল তিনি ১৮তম রাজবংশের, তার নাম 'কাবুস' বলে উল্লেখ করা হয়। ফেরাউন যখন স্বপ্নে দেখলেন যে, বনী-ইসরাঈল বংশে জন্মগ্রহণকারী এক পুত্র সন্তান কর্তৃক তিনি বিতাড়িত হবেন। তার রাজত্বের অবসান ঘটবে এবং তার প্রবর্তিত দ্বীনের পরিবর্তন হবে।

ফেরাউনের গুপ্তচররা চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াত। যখনই কোনো পরিবারে সন্তান জন্মানোর সংবাদ পেত তখনই গিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করত। একদিন রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন মুসা। এমন সময় তার চোখে পড়ল এক হতভাগ্য ইহুদিকে নির্মমভাবে প্রহার করছে তার মিসরীয় মনিব। এই দৃশ্য দেখে আর স্থির থাকতে পারলেন না মুসা। তিনি সেই ইহুদিকে উদ্ধার করার জন্য নিজের হাতে তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন মিসরীর মনিবকে। সেই আঘাতে মারা গেল মিসরীয় লোকটি। ইহুদি লোকটি চারদিকে এ কথা প্রকাশ করে দিল। গুপ্তচররা ফেরাউনকে গিয়ে সংবাদ দিতেই ক্রোধে ফেটে পড়লেন ফেরাউন। হামান ছিলেন ফেরাউনের মন্ত্রী।

ফেরাউন ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা আপনাদের সবার জানা আছে। সে মারা যাওয়ার পর তার লাশ মমি করে রাখা হয়েছিল। সেটা এখন মিশরের রাজধানী কায়রোতে নীলনদের একেবারেই তীরে (৪০০-৫০০ গজ দূরে) তাহরীর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ফারাও রাজা ফেরাউনের লাশ মমি করা হইনি কখোনোই। এমনকি তার লাশও খুজে পাওয়া যায়নি তার মৃত্যুদিন থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত। নীল নদেই ফেরাউনের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। কোন পিরামীডে নয়। হযরত মূসা আলায়হিস সালাম ফিরাউনের রাজপ্রাসাদে লালিত পালিত হয়ে যৌবনে উপনীত হলেন। একদিন তিনি রাসত্মায় একজন ইসরাইলী যুবক এবং একজন কিবতী যুবককে মারামারি করতে দেখে কিবতী যুবককে ঘুষি মারলেন, এর ফলে যুবকটি মারা গেল। এই কিব্তী ফিরাউনের স্বজাতি ছিল। এই যুবকটির হত্যার বিচারের জন্য তার পরিবারের লোকজন ফিরাউনের দরবারে গেল।

মিশরের বাদশা ফেরাউন প্রকাশ্যে নিজেকে খোদা দাবি করত আর রাতের অন্ধকারে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করত যেন পৃথিবীতে আল্লাহ তাকে লজ্জা না দেন ! ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সময়ের মিসরকে প্রাক-রাজবংশীয় যুগ বলা হয়। এ সময় মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগররাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। এগুলোকে বলা হতো ‘নোম’। প্রাচীন মিশরীয়রা ছিল সঙ্কর জাতি। আকারে বেঁটেখাটো, গায়ের বর্ণ কালো, লম্বাটে মাথা, কালো চুল, গভীর চোখ এবং নাক ছিল কিছুটা বাঁকা। আফ্রিকা ও আরব অঞ্চলের সেমেটিক রক্তের মিশ্রণ ছিল তাদের গায়ে। এছাড়া প্রাচীন মিশরীয়দের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার জনগোষ্ঠীর মিশ্রণও দেখা গিয়েছে। ধীরে ধীরে সেমেটিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে এরা।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×