somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ফোটোগ্রাফী- ২২

২৬ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহনকারী আলোকচিত্র শিল্পী আনোয়ার হোসেন ১৯৯১ সালে বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করেন। এই পদক নিয়ে ৪৯ বছর বয়স্ক আনোয়ার হোসেনর সর্বমোট আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১টি। বাংলাদেশী আলোকচিত্র শিল্পীর জন্য এটি অবশ্যই সাফল্যের রেকর্ড। এই আলোকচিত্রী যে শহর এবং সমাজে জন্মেছিলেন- সেই শহর এবং সমাজে ফোটোগ্রাফী চর্চা খুব সহজ ছিল না।

১৮৪০ সালের মার্চ মাসে উপমহাদেশের বোম্বে শহরে প্রথম ক্যামেরা আনা হয়। ড. এফ জে মৌয়ট জোসিয়াকে উপমহাদেশে আলোকচিত্রের জনক বলা হয়। ফোটোগ্রাফী খুব ব্যয় সাপেক্ষ ও সৌখিন বিধায় সেই সময় শুধু সমাট্র, লর্ড, জমিদার, ধনী এবং শিক্ষিতরাই এর চর্চা করতেন। উপমহাদেশে প্রথম মুসলমান আলোকচিত্রী হলেন- আলী আহমদ খান। তিনি ছিলেন একজন পুলিশ অফিসার। তার তোলা কয়েক 'শ ফোটোগ্রাফীর নমুনা রয়েছে লন্ডনস্থ ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরীতে। ১৮৫৬ সালের জানুয়ারীতে 'ফোটোগ্রাফী সোসাইটি অব বেঙ্গল' স্থাপিত হয়। এই ফোটোগ্রাফী সোসাইটির বেশির ভাগ সদস্য'ই ছিলেন বাঙ্গালী। ড. এফ জে মৌয়ট জোসিয়া ছিলেন এই সংগঠনের প্রথম সভাপতি।

ঢাকার জমিদার ও ব্যবসায়ী খাজা আলীমুল্লাহর পোট্রেটই ঢাকার আদি আলোকচিত্র। আলীমুল্লাহ ১৮৫৪ সালে মারা যান। তার একটি প্রোট্রেট এর প্রতিলিপি তারই বংশধর খাজা লতিফুল্লাহর ময়মনসিংহ বাসভবনে আছে। সেই সময়টাতে শুধু ধনী ও এলিট শ্রেণীর লোকেরাই বিজ্ঞানের আবিস্কার ক্যামেরা ব্যবহার করতো। বাংলা ভাষায় ঢাকা থেকে আলোকচিত্র বিষয়ক প্রথমগ্রন্থ রচনা করেন আনন্দ কিশোর ঘোষ। বইটির নাম ছিল ‘প্রভাচিত্র’। প্রকাশিত হয় ১৮৯৫ সালে।


১৯১০ সালে ঢাকায় প্রথম স্থাপিত হয় ফোটোগ্রাফী স্টুডিও। নাম ছিল- আর সি দাস অ্যান্ড সন্স। এই স্টুডিওতে ক্যামেরার সরঞ্জাম পায়া যেত। যেমনঃ ক্যামেরা ফ্লিম, প্লেট ইত্যাদি। ১৯৬০ সালে মঞ্জুর আলম বেগের উদ্যেগে ঢাকায় স্থাপিত হয় আলোকচিত্র শিক্ষা বিষয়ক ‘বেগাট ফোটোগ্রাফী স্টুডিও’।

আলেকজান্ডার ফরবেস সাংবাদিকতার সুত্রে আলোকচিত্র চর্চা করেছিলেন। ফরবেস ছিলেন ঢাকার প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ঢাকা নিউজ’ (১৮৫৬)- এর সম্পাদক। পরে তিনি কলকাতার ‘হরকরা’ পত্রিকার সম্পাদক হন। আলেকজান্ডার ফরবেস তার স্মৃতিকথায় আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, সাংবাদিকতা না করে শুধু ফোটোগ্রাফী চর্চা করেই অনেক বেশি আয় করতে পারতাম।

কলকাতার একজন দর্জি ছিলেন ডবলিউ এ খান। পরে তিনি ফোটোগ্রাফী শিখে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ব্যাক্তিগত ফোটোগ্রাফার নিযুক্ত হন। সেই সময় ডবলিউ এ খান সব ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশের ছবি তুলেছেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৪০ সালে দশ বছর ফোটোগ্রাফী করে কলকাতার অন্নপূর্ণা দত্ত খুব সুনাম অর্জন করেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছবি তুলতেন। বিশেষ করে মুসলিম পরিবারের। এই আলোকচিত্রী কবি জসীমউদ্দীন, গায়ক আব্বাস উদ্দীন আহমদ বেগম রোকেয়ার অনেক ছবি তুলেন। অন্নপূর্ণাই প্রথম বাঙ্গালী মহিলা ফোটোগ্রাফার যিনি ফোটোগ্রাফীকে জীবিকা হিসেবে গ্রহন করেন। অন্নপূর্ণার জন্ম ১৮৯৪ সালে এবং মৃত্যু ১৯৭৬ সালে। তার বাবা অম্বিকা চরণ মিত্র ছিলেন অধ্যাপক। আর বাঙ্গালী মুসলমানদের মধ্যে ফরিদপুরের সাঈদা খানমই প্রথম মহিলা আলোকচিত্রী। ৫০ দশকে তিনি আলোকচিত্র চর্চা শুরু করেন। তিনি ঢাকার সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকায় কাজ করতেন।

( যারা ফোটোগ্রাফী ভালোবাসেন এবং যারা ফোটোগ্রাফীকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন অথবা ফোটোগ্রাফীকে পেশা হিসেবে নিবেন ভাবছেন আমি মনে করি তাদের প্রত্যেককে ফোটোগ্রাফীর খুব তুচ্ছ ইতিহাসও জানা প্রয়োজন। আমি আপনাদের এই রকম নানা তথ্য জানাতে চাই। ইদানিং অফিসে কাজের চাপে 'ফোটোগ্রাফী' নিয়ে লিখতে সময় পাই না। আজ প্রায় আট মাস পরে গোটোগ্রাফী নিয়ে লিখলাম। ফোটোগ্রাফী নিয়ে লিখে আমি নিজেও অনেক শান্তি পাই। তবে এখন থেকে নিয়মিত লিখব।)


সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×