somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা- ৩৪

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৫:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। 'দি আদার সাইড অভ মিডনাইট' লেখক- সিডনি শেলডন। এটাকে কী বলবেন? থ্রিলার নাকি আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গ্ল্যামারাসের আড়ালে চাপা পড়া অন্ধকার এক জগতের বাস্তব প্রতিচিত্র? যেহেতু বইয়ের নাম "দ্যা আদার সাইড অফ মিডনাইট "এবং লেখক সিডনি শেলডন, সে হিসেবে সবাই থ্রিলারই বলবে। কিন্তু আমি এটাকে একচেটিয়া থ্রিলার বলতে রাজি নই।

২। মাদার তেরেসা বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু কোনো বারই তার সাথে দেখা করতে পারছিলাম না। বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। মাদার তেরেসার সাথে দেখা হয় আমার কলকাতায় ( সালটা মনে করতে পারছি না)। আমি তার সামনে গিয়ে বললাম- প্লীজ আপনি একটু আমার মাথায় হাত রাখুন, যেন আমার সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, হতাশা মুছে যায়। সেদিন তেরেসা অনেকক্ষন আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিয়েছিলেন। মার্বেল পাথরের ছোট্র একটা যিশু খ্রিস্টের মূর্তি উপহার দিয়েছিলেন। তখন আমার ক্যামেরা ছিল না- তাই তেরেসার ছবি তোলা হয়নি।

৩। একবার আইনস্টাইন আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আমার নানা তাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। আইনস্টাইন শান্তিনিকেতন ঘুরে আমার নানা বাড়ি এসেছিলেন। তখন আমার নানান বয়স ছিল সতের বছর। আইনস্টাইন তিন দিনের জন্য এসে তের দিন থেকে গেলেন আমার নানা বাড়ি। নানা বাড়ির পুকুর থেকে আইনস্টাইন তিন কেজি ওজনের একটা কাতলা মাছ ধরেছিলেন। এবং আইনস্টাইন নিজে কাতলা মাছ কেটে ধুয়ে রান্না করে নানা বাড়ির সবাইকে খেতে দিয়েছেন। আইনস্টাইন চলে যাওয়ার সময় আমার নানা তার কাঁধে হাত রেখে বেশ কয়েটা ছবি তুলেছিলেন।

৪। খবর পেলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এসেছেন ঢাকায়- একটা কবিতা উৎসবে। উঠেছেন রেডিসন হোটেলে। আমার প্রিয় লেখক সুনীল। রাত জেগে জেগে তার কত বই পড়েছি। ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে চলে গেলাম রেডিসনে। নানান বিধিনিষেধ অমান্য করে, সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে গেলাম লেখকের রুমে। রুমে গিয়ে দেখি আমার প্রিয় লেখক মদ খাচ্ছেন। তার চোখ লাল হয়ে আছে। হাতে জলন্ত সিগারেট। আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। বললেন- অটোগ্রাফ নিবে, ছবি তুলবে? আমি বললাম- না। এসব কিছু না, শুধু আপনাকে দেখতে এসেছি। সেদিন সুনীল আমাকে তার একটা বই এবং একটা কলম গিফট করেছিল।

৫। হুমায়ূন আহমেদকে দেখলাম মন খারাপ করে ধানমন্ডি লেকে বসে আছেন। আমি খুব সাহস নিয়ে তার পাশে গিয়ে বসলাম। হঠাত এক চা বিক্রেতা আমাদের সামনে আসতেই- আমি বললাম দু'কাপ চা দাও। হুমায়ূন আহমেদ খুব আরাম করে চা খেলেন। তারপর সিগারেট। তারপর সন্ধ্যা পর্যন্ত নানান বিষয় নিয়ে গল্প বললেন। আমি অবাক হয়ে অদ্ভুত সব গল্প শুনলাম। আমি এর আগে এত সুন্দর করে, এত সহজ করে কাউকে গল্প বলতে শুনিনি। স্যার আমাকে বললেন- তুমি শ্রোতা হিসেবে খুব ভাল। চলো আজ তোমাকে পুরান ঢাকা নিয়ে গিয়ে ভোলা ভাইয়ের বিরানী খাওয়াবো।


(মানুষ যখন কাউকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরে,তখন হাত দুটো অনেক সময় একটার উপর আরেকটা চলে আসে,নিজের অজান্তে দুটি হাত দিয়ে তৈরি হয় একটা ক্রস।এই ক্রসের অর্থ ভালোবাসা।মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা। -মুহাম্মদ জাফর ইকবাল)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৫:০৯
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×