somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজ আমরা বৃষ্টি বন্দী ভালোবাসার অপরাধে

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




রাত দুইটা।
বই পড়ছি। সহজ সরল অতি সাধারণ একটা বই। বইয়ের নাম- 'মেম সাহেব'। বইটা আগেও দু'বার পড়েছি। মূলত প্রেমের উপন্যাস হলেও এখানে রয়েছে দেশভাগের কথা, এক রিপোর্টারের অজানা জীবনকথা। আরও অনেক কিছু আছে।

গলা শুকিয়ে গেছে। পানি খাবো। অনেকক্ষন ধরেই তৃষ্ণা পেয়েছিল কিন্তু বই ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছিল না। প্রবল তৃষ্ণার কারণে আমি এক সময় বই বন্ধ করতেই দেখি একটি মেয়ে এক গ্লাস পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চারিদিকে মিষ্টি একটা সুবাস। কিছুক্ষনের জন্য যেন আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। আমি এরকম সুন্দরী মেয়ে আমার জীবনে দেখিনি। মেয়েটির হাত ভরতি কাঁচের চুড়ি। মাথা ভরতি চুল। চোখে মোটা করে কাজল দেয়ার কারণে কিনা কে জানে মুখটা খুব বেশি মায়া-মায়া। এই রকম একটা মুখের দিকে তাকিয়ে একটা জীবন পার করে দেয়া যায়।

আমার অবস্থানটা বর্ণনা করে নিই- আমি আছি পুরান ঢাকার কলতা বাজার এলাকায়। ছোট মামা আর মামি সাত দিনের জন্য মালোশিয়া গিয়েছেন বেড়াতে। আমাকে বাড়ি ঘর পাহাড়ে দিতে রেখে গিয়েছেন। বাসায় আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নেই। তাহলে এই মেয়ে এলো কোথা থেকে? রাতে আমি হোটেল থেকে খেয়ে আসছি। যদিও মামী রান্না করে রেখে গেছেন ফ্রিজে। ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করার ধৈয্য আমার নেই।

যাই হোক, আমি চিৎকার দিতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিলাম এবং বুঝালাম- মনে হয় বই পড়তে গিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছি এবং স্বপ্ন দেখছি। এই মধ্যরাত্রে মেয়েটিকে দেখে একটুও ভয় পাচ্ছি না। বরং রুপবতী মেয়েটিকে দেখে আমার ভাল'ই লাগছে। আমি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কে? ঘরে ঢুকলে কি করে? বাইরে তো ঝড় তুফান হচ্ছে। মেয়েটি দু'পা হেঁটে হাতের গ্লাসটি টেবিলের উপর রাখল। তখন বুঝতে পারলাম পায়ে তার নূপুর।

আমি এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি। এক সময় মসজিদে ফযরের আযান হলো। মেয়েটিকে আর দেখা গেল না। তারপর আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। একেবারে দুপুর পর্যন্ত ঘুমালাম। ঘুম থেকে উঠে ভাবলাম সুন্দর একটি স্বপ্ন দেখেছি। অনেক সময় নিয়ে গোছল করলাম। দুই লাইন গানও গাইলাম- ''চেনাশোনার কোন বাইরে যেখানে পথ নাই নাই রে, সেখানে অকারণে যায় ছুটে।'' দুপুরে খেতে বাইরে গেলাম না। ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করে খেলাম। সন্ধ্যায় কি মনে করে ঘর থেকে বের হলাম এবং একটা শাড়ি কিনে ফেললাম। মোটা পাড়। নীলের মধ্যে ছোট ছোট ফুল আঁকা। হোটেল থেকে রাতের খাবার খেয়ে রাত ১১ টায় বাসায় ফিরলাম ছোট এক বাটি ভ্যানিলা আইসক্রীম নিয়ে। টিভিতে খবর দেখতে দেখতে আইসক্রীমের বাটি খালি করে ফেললাম। শরীর ঠান্ডা থাকলে রাতে আজে বাজে স্বপ্ন দেখব না।

আমি বই পড়ছি কিন্তু বইয়ে মন দিতে পারছি না। গত রাতে দেখা মেয়েটি কি আজও আসবে? রাত একটা। মেয়েটি এখনও এলো না। মনটা খারাপ হয়ে গেল। এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাম। এবং গুন গুন শব্দে ঘুম ভাঙ্গল। কে যেন গান গাইছে। তাকিয়ে দেখি মেয়েটি এসেছে। আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে একটু হেসে দিল। আহ কি সুন্দর হাসি! আমি বললাম, কী খবর? আজ আসতে দেরী করলে যে? ঠিক এই সময় কোথাও বাজ পড়লো। গত রাতের মতো আজও ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে ধমকা হাওয়া। আমি বললাম, চলো ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজি। ''আজ আমরা বৃষ্টি বন্দী ভালোবাসার অপরাধে!'' বৃষ্টিতে ভেজার পর ভেজা জামা নিয়ে তোমার বসে থাকতে হবে না। তোমার জন্য একটা শাড়ি কিনেছি।

আমার কেনা শাড়িটা মেয়েটা হাতে নিল। আনন্দে তার চোখ মুখ ঝকঝক করছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:১৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×