somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজ সারাদিন যা যা করলাম

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। সকালে ঘুম থেকে উঠেই গোছল করে, জামা কাপড় পড়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলাম। নাস্তা খাওয়া হয়নি। সময় তখন সকাল ৮ টা। রাস্তায় বের হয়ে দেখি- হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে আছে। আমার জুতোর ভিতর পানি ঢুকে আছে। হাঁটি আর ফস ফস শব্দ হয়। গতকাল রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টি চলছেই। রাস্তায় এত পানি জমেছে যে সমুদ্রের ঢেউ এর মতো ঢেউ এসে পায়ে ধাক্কা দেয় দিচ্ছে। বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। আজ যেন অন্যদিনের তুলনায় রাস্তায় অফিসগামী লোকের সংখ্যা বেশি। ছাতা মাথায় থাকা সত্তেও ভিজে গেছি। পরপর তিনটা বাস এলো, কিন্তু আমি বাসে উঠতে ব্যর্থ হলাম। চতুর্থ বার রেগে-মেগে অনেক ধাক্কাধাক্কি করে বাসে উঠতে সক্ষম হই। সিট পাইনি। কিন্তু তারপরও আমি অনেক খুশি। বাসা থেকে দেড় ঘন্টা আগে বের হয়েও অফিসে পৌঁছাতে ৪৫ মিনিট লেট হয়েছে। তিন দিন দেরী হলে একদিনের বেতন কর্তন করা হয়।

২। অফিসে গিয়ে আগে টানা দুই ঘন্টা কামলা খাঁটি। রাজীব সাহেব আমার বিলটা রেডি করে দেন। রাজীব ভাই, আমার হিসাবটা বের করে দেন। আমার চিঠিটা প্রিন্ট করে দেন। সিইও সাহেব ফোন করে বলবেন, গত মাসের ফাইলটা নিয়ে আমার রুমে আসেন। ইত্যাদি ইত্যাদি। এটা প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু এই কাজ গুলো তারা নিজেরাই করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা এই কাজ তাদের নিজেদেরই করার কথা। যাই হোক ১২ টায় অফিস থেকে বের হলাম। তখনও বৃষ্টি পড়ছে। প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে। সকালে নাস্তা খাওয়া হয়নি। একটা হোটেলে গেলাম। নাস্তা খেলাম। দু'টা শক্ত রুটি, কখন বানিয়েছে কে জানে! সবজি টাও টক টক লাগছে। নাস্তা শেষে এক কাপ চা। হোটেল থেকে বের হয়ে একটা চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে সিগারেট শেষ করলাম। মাথার উপর ছাতা থাকা সত্ত্বেও পুরো ভিজে গেছি। আমার হাতে মোটা মোটা তিনটা ফাইল। ওজন কম হলেও চার কেজি হবে। হাত ব্যাথা করছে। অনেকক্ষানি পথ হেঁটে বাসে উঠলাম। হাতিরঝিল দিয়ে গুলশান-২ গেলাম।

৩। প্রথমে নাভানা অফিসে গেলাম। সেখানে কাজ শেষ করে আরেকটা অফিসে গেলাম। এক মিনিটের কাজ কিন্তু সেই অফিস থেকে বের হলাম তিনটায়। ভদ্রলোক বললেন, এখন আমি নামাজ পড়বো তারপর ভাত খাবো। অপেক্ষা করেন। ভদ্রলোক আমাকে একটা চেক দিবে- তার জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা বসে থাকতে হলো। যাই হোক ওদের অফিসে রিসিপশনে বসে আছি। দুইজন রিসিপশনিষ্ট কি একটা হিন্দি সিনেমা নিয়ে আলাপ করছে। এই ১২ তলা বিল্ডিং এর তিনটা ফ্লোরে ওদের অফিস। আমি বসে আছি দশ তলায়। বসে বসে মোবাইলে গেমস খেলছি। এমন সময় তিনজন হিজড়া এলো। দুই রিসিপসনিষ্ট মেয়ের কাছে ১০০০ হাজার টাকা চাইল। টাকা না দেয়াতে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলো। সিকিউরিটি গার্ড খুব ভয় পেয়েছে, সে হিজড়াদের বলছে আপা আপনারা আগামীকাল আসেন। বস অফিসে নাই। এই কথা শুনে হিজড়ারা আরও রেগে যায়। একজন হিজড়া বলল, এত বড় অফিস কারো কাছে এক হাজার টাকা নেই। এখন কাপড় খুলে তোদের জিনিস দেখাব। আর ওইটা (রিসিপশনের মেয়ে দু'টাকে দেখিয়ে বলল) কুত্তা দিয়ে--- করাবো।

৪। ৩ টা দশ মিনিটে গুশান-২ এর মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। খুব ক্ষুধা লেগেছে। যাহ্‌ ভুলে ছাতাটা ফেলে রেখে এসেছি। আবার ওই অফিসে গেলাম। ছাতা উদ্দার করলাম। ছাতা হারালে আজ আমার খবর আছে। সুরভি পই-পই করে বলেছে খবরদার ছাতা হারিয়ে এসো না। যাই হোক, অফিসে যেতে যেতে চারটা বেজে যাবে। ভাত পাবো না। পকেটে টাকাও বেশি নেই। একটা চায়ের দোকানে গেলাম। হাসিমুখে রুটি কলা খেয়ে নিলাম। অফিসে গিয়ে একাউন্সের লোকদের সাথে বসে পুরোনো একটা হিসাব শেষ করলাম। সাড়ে পাচটা বেজে গেছে। ছয়টা পর্যন্ত অফিস। ঘরে বাজার সদাই কিছু নেই। অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার আগে বাজার করে নিয়ে যেতে হবে। ঈদের পর আর বাজারে যাওয়া হয়নি। ফ্রিজ খালি। গতকাল ডাল ভর্তা, আর ডিম ভেজে ভাত খেয়েছি। সুরভি'র বাবু হবে। এই সময় তার দিকে একটু বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। তাকে ফলফ্রুট খাওয়ানো দরকার। যাই হোক, অফিস থেকে ছয়টায় বের হবো, তখন সিইও সাহেব এসে নানান ফালতু আলাপ শুরু করলেন। অফিস থেকে বের হলাম সন্ধ্যা সাতটায়।

৫। হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছি। খুব ক্লান্ত লাগছে। সাথে প্রচন্ড ক্ষিদে পেয়েছে। ইচ্ছা করছে একটা দামী রেস্টুরেন্টে গিয়ে সব খাবার খেয়ে ফেলি। কিন্তু এখন প্রতিটা টাকা হিসেব করে খরচ করতে হবে। সামনে অনেক খরচ। সুরভির বাচ্চা হবে। রাত ৮ টায় বাসায় ফিরলাম। জামা খুলে বিছানায় বসতেই কারেন্ট চলে গেল। এক ঘন্টা পর কারেন্ট এলো। সুরভি অসুস্থ, ডাক্তার বলেছে আগামী তিন মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে। তাই আমি ভাত চড়ালাম। আগামীকাল অবশ্যই চাল কিনতে হবে। কেচেকুচে এক পট চাল আজ হয়েছে। কপাল ভাল ফ্রিজে দু'টা ডিমও পেলাম। ঝুড়িতে তিনটা আলু! আলু ভর্তা করবো। ডিম ভাজি। ডিম ভাজি আর আলু ভর্তা করতে আমি খুব ভালো পারি। সবচেয়ে বড় কথা সুরভি আমার হাতের আলু ভর্তা আর ডিম ভাজি খুব পছন্দ করে। লেখাটা এখানে শেষ করতে হবে। ভাত হয়ে এসেছে- মার গালতে হবে। আলুও সিদ্ধ হয়ে গেছে। এই রকম বৃষ্টির দিনে গরম ভাতের সাথে গরম ডিম ভাজা আর আলু ভর্তা মন্দ নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৩৮
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×